সংবাদটি প্রকাশ হয়েছেn: Sat, Apr 21st, 2018
bashundhara

সরকার তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে নানামূখী কাজ করছে: সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী

Photo 1নিজস্ব প্রতিবেদক : অফুরন্ত প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও জাতীয় উন্নয়নের মূল ¯্রােতে এখন পর্যন্ত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী তথা প্রতিবন্ধীদের যথাযথভাবে সম্পৃক্ত করা সম্ভব হয়নি। প্রয়োজনীয় সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরাও তাদের মেধার পরিপূর্ণ প্রকাশ করতে পারে। আর এই প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে তাদের হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখ, ব্যথা-বেদনার গল্প গাঁথা তুলে ধরতে আজ শনিবার শুরু হয়েছে দৃষ্টি-প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা ‘যুক্তির আলোয় দেখি’। দেশে প্রথমবারের মত আয়োজিত এই প্রতিযোগিতার শ্লোগান অন্য দৃষ্টিতে আমার পৃথিবী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন,  প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে হলে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। সচেতনতা সৃষ্টি করা না গেলে অনেক ভালো উদ্যোগও কাংখিত সফলতা অর্জন করতে পারে না । তিনি বলেন, মূলধারার উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় প্রতিবন্ধিতা ইস্যু অন্তর্ভুক্তকরনের অংশ হিসেবে  অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা চালু করা হয়েছে। মন্ত্রী  প্রতিবন্ধী জনগােষ্ঠীর বিশেষ চাহিদা বিবেচনায় পর্যাপ্ত অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি প্রাইভেট -পাবলিক পার্টনারশিপ কর্মসূচীর আওতায় প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সুষ্টিতে এগিয়ে আসার জন্য বেসরকারী খাতের বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহবান জানান। মন্ত্রী বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (্এসডিজি) বাস্তবায়নে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং এসডিজি’র মূলকথাই হলো কাউকে বাদ রাখা যাবে না। সরকার তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে নানামূখী কাজ করছে।

ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, দৃষ্টি-প্রতিবন্ধীদের জন্য এখনও প্রয়োজনীয় শিক্ষার পরিবেশ ও অবকাঠামো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিবন্ধীদের জন্যে নেই উঠানামার র‌্যামপ। সরকারিভাবে দশম শ্রেণী পর্যন্ত ব্রেইল পদ্ধতিতে বই পাওয়া গেলেও কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়সহ উচ্চশিক্ষাগ্রহণে এখনও ব্রেইল বই বা বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে উঠেনি। ট্রেনস্টেশনে সিনিয়র সিটিজেন ও নারীদের সাথে প্রতিবন্ধীদের আলাদা লাইনে টিকেট কাটার সুযোগ থাকলেও বাস ও  লঞ্চে প্রতিবন্ধীদের জন্যে আলাদা কোনো সুযোগ নেই। নেই প্রতিবন্ধীবান্ধব ফুটপাথ, ট্রাফিক সিগন্যাল। আমরা এখনও দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্যে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারিনি। বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের বাজারে প্রতিবন্ধী ভাতা মাত্র ৭০০ টাকা, যা অত্যন্ত অপ্রতুল। এ ছাড়াও দেশের সকল প্রতিবন্ধীকে এই ভাতার আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। সরকারী নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে কিরণ বলেন, সমাজসেবা অধিদপ্তর ৬৪ টি জেলায় ৬৪টি সমন্বিত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আবাসিক ও অনাবাসিক সুবিধাসহ এসব শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান সমূহে ব্রেইল পদ্ধতিতে শিক্ষাপ্রদান, বিনামূল্যে ব্রেইল বই বিতরণ, শিক্ষা উপকরণ প্রদান, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের হোস্টেল সুবিধাসহ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেছে সরকার। এছাড়াও সরকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩ প্রণয়ন, ১০৩টি প্রতিবন্ধী সেবাকেন্দ্র স্থাপন, ৩২ টি ভ্রাম্যমান থেরাপি ভ্যানের মাধ্যমে বিনামূল্যে সেবাপ্রদান, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রায় ৭৩ টি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্কুল চালু করে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের সুরক্ষায় নানা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরো জানান, এই বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রতিবন্ধীদের নানাবিধ সমস্যা, তাদের নিয়ে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি, পরিবার ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব-ইত্যাদি নানান বিষয় তুলে ধরে তাদেরকেও উন্নয়নের মূল ধারায় সম্পৃক্ত করার প্রয়াস থাকবে।

ড. মাহফুজুর রহমান প্রতিন্ধীদের প্রতিভা বিকাশে এট্এিন বাংলায় বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচারের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। তিনি প্রতিবন্ধীদেরকে বিনিয়োগকারী হিসেবে এগিয়ে আসতে সহায়তা করার জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইছ, ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন, ড. এস এম মোর্শেদ, মু. শাহ আলম চৌধুরী এবং ভিপস এর সাধারন সম্পাদক নাজমা আরা বেগম পপি। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন, ন্যাশনাল ডিবেট ফেডারেশনের মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান খান। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির পরিচালক জাহিদ রহমান, ভিউ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম খান শাহিন প্রমূখ। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।

প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, এমপি ও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজের চেয়ারম্যান ড. মাহফুজুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। উদ্বোধনী প্রতিযোগিতায় “সচেতনতাই পারে দৃষ্টি-প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে”-শীর্ষক বিতর্কে সরকারি দল ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় (অপরাজেয় বাংলা) ও বিরোধী দল জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয় অংশগ্রহণ করে। এছাড়াও প্রতিযোগিতায় চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়, বেগম বদরুন্নেসা মহিলা কলেজ এবং ইডেন মহিলা কলেজ সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বিতার্কিকরা অংশগ্রহণ করছে।
সম্পাদনা : আ ই (জি-নিউজবিডি২৪ )

সর্বশেষ আপডেট

আরকাইভ

April 2018
T F S S M T W
« Mar   May »
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930