সংবাদটি প্রকাশ হয়েছেn: Tue, May 22nd, 2018
bashundhara

গাংনী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত

Gangni Pic 22-05-18মজনুর রহমান আকাশ, মেহেরপুর প্রতিনিধি ঃ মেহেরপুর গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার ও নার্স সংকটের পর এবার দেখা দিয়েছে কলেরা স্যালাইনসহ গুরুত্বপুর্ণ ৬ টি ওষুধ সংকট। আর একারণে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগিদের চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছেড়ে ভর্তি হচ্ছেন বিভিন্ন ক্লিনিকে। প্রায় তিন মাস ধরে এ কলেরা স্যালাইন নেই। মেহেরপুর সিভিল সার্জন অফিসে আবেদন দেয়ার পরও মজুদ না থাকায় তা সরবরাহ করা হয়নি।

গাংনী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সুত্রে জানা গেছে, গত ১৪ মে থেকে ২১ মে পর্যন্ত মোট ৭৪ জন ডায়রিয়া রোগি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। এরা খাবার স্যালাইন ছাড়া কলেরা স্যালাইন পান নাই। বাইরে থেকে স্যালাইন কিনে আনতে হয়েছে। দিনে বাইরে থেকে স্যালাইন কিনে আনতে পারলেও সমস্যা হয় রাতে। ওষুধের দোকান খোলা থাকলেও কলেরা স্যালাইন পাওয়া মুশকিল হয়ে পড়ে।

স্টোরকীপার দবির উদ্দীন জানান, কলেরা স্যালাইন, অ্যান্টিবায়োটিকসহ অত্যাবশকীয় ৬ ধরণের ওষুধ প্রায় তিন মাস আগে ফুরিয়ে গেছে। চাহিদা দেয়া হয়েছে সিভিল সার্জন অফিসে। সেখানেও মজুদ না থাকায় সরবরাহ আসেনি। বিশেষ করে ডায়রিয়া আক্রান্ত আউটডোরের রোগিদেরকে খাবার স্যালাইন ও ইনডোরের রোগিদের কলেরা স্যালাইন দেয়া হয়। কিন্তু ইনডোরের রোগিরা স্যালাইন পাচ্ছেন না। ওমোপ্রাজল ও অ্যান্টিবায়োটিক জাতীয় ওষুধ আউটডোরে সরবরাহ করা হয় না। কোন মতে ইনডোরে সেবাটি দেয়া হচ্ছে। কয়েকদিনের মধ্যে ওমোপ্রাজল ক্যাপসুলও মজুদ শেষ হবে। ফলে রোগিরা ফিরে যাবে শুন্য হাতে।

ডায়রিয়া আত্রান্ত রোগি মোহাম্মদপুরের শিশু সোনিয়ার বাবা হেকমত আলী জানান, সরকারী হাসপাতালে মানুষ আসে বিনা পয়সায় চিকিৎসা নিতে। এখানে অন্য কোন ওষুধ পাওয়া না গেলেও কলেরা স্যালাইন আর খাবার স্যালাইনটি পাওয়া যেতো। এখন আর সেটিও পাওয়া যাচ্ছে না। বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। ডাক্তার নার্স এরা অলস সময় কাটাচ্ছেন। বাধ্য হয়ে স্থানীয় রাজা ক্লিনিকে মেয়েকে ভর্তি করান। একই কথা জানালেন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগি সাইদ হোসেন।

মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ৫০ শস্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ভর্তি রয়েছে ৯০ জন রোগি। এর মধ্যে ৩৫ জন রোগিই ডায়রিয়া আক্রান্ত। রোগিরা প্যারাসিটামল আর হিস্টাসিন ছাড়া তেমন কোন ওষুধ পাচ্ছেন না বলে জানান। রোগিরা জানান, সরকারী জায়গায় যদি ভর্তি হয়ে ওষুধ কেনা লাগে তাহলে ক্লিনিকে ভর্তি হওয়ায় ভাল। রোগিরা আরো জানান, স্থানীয় প্রভাবশালী ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টাফদের স্বজনরা বেশী বেশী স্লীপ নিয়ে অতিরিক্ত ওষুধ নিয়ে যায়। ফলে ওষুধ সাধারণ রোগিরা পায় না। পেলেও যৎসামান্য।

গাংনী স্বাস্থ কমপ্লেক্সের আরএমও( আবাসিক মেডিকেল অফিসার) এমকে রেজা জানান, গত তিন মাস যাবত অন্যান্য ওষুধ সংকট থাকলেও চলতি মাসে কলেরা স্যালাইনের সংকট দেখা দিয়েছে। আর এ মাসেই ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগিদের চাপও বেড়েছে। ওষুধ আর স্যালাইন না পাওয়ায় ডাক্তার আর নার্সের সাথে রোগি ও স্বজনদের বাক বিত-া হয়।

গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান ওষুধ ও কলেরা স্যালাইন সংকটের কথা স্বীকার করে জানান, ওষুধ সরবরাহের জন্য আবারো জোর তাগিদ দিয়ে সিভিল সার্জনের কাছে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে।
সম্পাদনা : আ ই (জি-নিউজবিডি২৪ )

bashundhara
The Most Shocking Kim K's Bikini Body Photos

সর্বশেষ আপডেট

আরকাইভ