সংবাদটি প্রকাশ হয়েছেn: Mon, Jun 4th, 2018
bashundhara

চলনবিলাঞ্চল থেকে হারিয়ে যাচ্ছে তালগাছ

Chalonbel Pic 28-05-18-1রফিকুল ইসলাম সবুজ, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : সুষ্ঠ রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পৃষ্টপোষকতার অভাবে চলনবিলাঞ্চল থেকে হারিয়ে যাচ্ছে পরিবেশ বান্ধব তালগাছ। একসময়ে তালগাছ ছিল গ্রাম বাংলার সৌন্ধর্যের প্রতিক। গামীণ অর্থনিতীতেও তালগাছ গুরুত্ব পূর্ন ভুমিকা পালন করত। গ্রামের ঘর তৈরীতে বিশেষ করে গ্রামের গরিবের এসি খ্যাত মাটির ঘর তৈরীতে তালগাছ ছিল অতুলনীয়।

কালের আবর্তে তালগাছের অস্তিত্ব আজ অনেকটাই সংকটে পতিত হয়েছে। এখন গ্রামাঞ্চলে আগের মত তালগাছ চোখে পরে না। তালগাছের একটি বৈশিষ্ট এর কোন শাখা প্রশাখা নেই, আলো বাতাস প্রবাহে বাধা প্রদান করে না। তাই আবাদ যোগ্য জমির ধারে (আইলে) তালগাছ রোপন করা যায়।

আমাদের দেশে বড় লম্বা গাছগুলোর মধ্যে তালগাছ অন্যতম। চমৎকার পত্রপ্লব বিশিষ্ট এই তালগাছ বাবুই পাখির প্রধানতম আশ্রয় স্থল। আগের দিনে তালগাছ গুলো শত শত বাবুই পাখি বাসা বাধত। পূর্ন বয়স্ক একটি তালগাছ ৭০ থেকে ৮০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। তালগাছ ৯০ থেকে ১২০ বছর বা তার চেয়ে বেশি বছর বেচেঁ থাকে। তালগাছ এমন একটি বৃক্ষ যার প্রতিটি শাখা প্রশাখাই কোন না কোন কাজে লাগানো যায়। তালগাছের পাতা দিয়ে হাতপাখা তৈরী হয় যা গ্রামের মানুষের গরম থেকে রক্ষার একমাত্র বাহন।আর পাতার শিড়া দিয়ে সুন্দর টুপি তৈরী করা হয়।

তালগাছের কাঠ অত্যান্ত মজবুদ। এজন্য কথায় আছে “যদি পাকে তালগাছ,এক এক যুগ দেখে এক এক বাত’’। তালগাছের কাঠ দিয়ে ঘরে খুটি ছারাও নানা কাজে ব্যবহার করা হয়। তাছারা গ্রামের এতিহ্য বর্ষাকালে ডিঙ্গি নৌকা বৈরী করা যায়। তালগাছকে অটার প্রফ গাছ বলা হয়। বর্জপাত থেকে রক্ষায় তালগাছের বিকল্প কিছু নেই। মাত্র দেড়-দু-দশক আগেও গ্রামাঞ্চলে প্রচুর তালগাছ ছিল ওই সময়ে গ্রামের মাঠের পর মাঠ বৃষ্টির মধ্যে কৃষক কাজ করত কিন্তু সেসময়ে পর্জপাতের ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে গ্রামাঞ্চল তাল গাছ শুন্য হওয়ায় একটু বৃষ্টিপাত আর মেঘের গর্জন হলেই বর্জপাতে প্রতিনিয়তই মানুষ মারা যাচ্ছে। বিশেষঙ্ঘরা মনে করেন অবাদে তাল গাছ নিধনের কুফল এটি।

তালগাছ স্ত্রী-পুরুষ দুই জাতের হয়।পুরুষ গাছ কোন ফল দেয় না তবে এর আছে মিষ্টি সুসাধু উপকারী রস। আর স্ত্রী জাতের গাছ তাল দিয়ে থাকে ভাদ্র মাসে তাল পাকে গ্রামে তালের তৈরী পিঠা খেতে ভারি মজা লাগে অবশ্য কাচা তালের শাশ খেতেও মজা লাগে। এইহা ছাড়াও বজ্র থেকে রক্ষা পেতে তালগাছের বিকল্প নেই। পরিবেশ ও অর্থনৈতিক দিক থেকে তালগাছ খুব লাভজনক বৃক্ষ। তাই সবাইকেই বেশি বেশি তালগাছ রোপন করা প্রয়োজন।

এবিষয়ে তাড়াশ উপজেলা বন কর্মকর্তা (ফরেস্টর) মো. মুসলেম উদ্দিন বস বলেন তালগাছের মত উপকারী দ্বিতীয় কোন গাছ নেই। যা শুধু রোপন করলেই হয় আলাদা ভাবে এর এর জন্য কোন শ্রম বা ব্যয় করতে হয় না।
সম্পাদনা : আ ই (জি-নিউজবিডি২৪ )

সর্বশেষ আপডেট

আরকাইভ

June 2018
T F S S M T W
« May   Jul »
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930