সংবাদটি প্রকাশ হয়েছেn: Sat, Jun 30th, 2018
bashundhara

নীলফামারীতে পাট চাষে আগ্রহ কমেছে কৃষকের

Jut pic (7)আবু মোতালেব হোসেন, নীলফামারী প্রতিনিধিঃ প্রাকৃতিক দুর্যোগ,জলবায়ু পরিবর্তন ও অতি বৃষ্টির কারনে বছরের পর বছর দেশের আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে নীলফামারীতে পাট চাষে কৃষকের আগ্রহ অনেকটাই কমেছে।

এক সময়ে দেশের প্রধান অর্থকারী ফসল পাটকে বলা হতো সোঁনালী আঁশ। পরিবেশ বান্ধব পাট হিসাবে পরিচিতি ছিল।

গত অর্থবছরে পাটের ভরা মৌসুমে তেমন পাট চোখে পড়েনি স্থানীয় হাট বাজার গুলোতে। এদিকে, পাট চাষে আগ্রহ হারানোর কারন হিসাবে প্রতিবছর বাজারে পাটের মূল্য দরপতনকেও দায়ী করেন পাট চাষি ও ব্যবসায়িরা।

সরেজমিনে, জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র চোখে পড়ে। সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের বাহালী পাড়া গ্রামের কৃষক এনতাজ আলী (৫৫) বলেন, বিভিন্ন সময়ে পাটের মূল্য দরপতন, উৎপাদন খরচ বেশী, বীজ সংগ্রহে নানা জটিলতা, কোন কোন সময়ে খড়া মৌসুমে পানির অভাবে পাট পচানো নিয়ে দুঃচিন্তা হতো কৃষকের। এজন্য পাট চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে প্রান্তিক চাষিরাও।

এ ছাড়াও এবারে অতি বৃষ্টির কারনে কৃষকরা পাটের বীজ বপন করতে পারেনি। যেটুকু হয়েছে তা অতি বৃষ্টির কারনে সঠিকভাবে নিড়ানি ও পরিচর্চা করতে না পারায় ফলন ব্যাহত হয়েছে।

৬০ এর দশকে দেশের খ্যাতনামা পাট ক্রয় কেন্দ্র ছিল নীলফামারীর ডিমলায় ও জেলা শহরের শাখামাচা হাটের উপকন্ঠে। এখন পাট ক্রয়কেন্দ্র গুলি বেদখল হয়ে গেছে। এগুলি উদ্ধারের সরকারীভাবে নেই কোন উদ্দ্যেগ। সে সময় সরকারী বেসরকারী ব্যবস্থাপনায় প্রতিদিন শত শত টন পাট ক্রয় করা হতো চাষীদের নিকট থেকে। ন্যায্য মূল্যের প্রাপ্তির নিশ্চিয়তা নিয়ে কৃষকরাও ঝুঁকে পড়তো ব্যাপকহারে পাট চাষে।

জানা যায়, জেলা শহর থেকে এ পাটগুলো দেশের দক্ষিন অঞ্চলের জেলা খুলনা, যশোরসহ বিভিন্ন জুটমিলে নৌপথে ও রেলপথে নিয়ে যাওয়া হতো। এজন্য জেলার কৃষকরা এখন আর আগের মতো পাট চাষও করে না।

জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর জানায়, গত বছর ১৭-১৮ অর্থ বছরের লক্ষ্য মাত্রা ছিল ১০ হাজার ৪৩৫ হেক্টর জমি। অর্জিত হয়ে ছিল নয় হাজার ১৬০ হেক্টর জমি। আর উৎপাদিত পাটের পরিমান ছিল ২০ হাজার ৬২৯ মেট্রিকটন।

আর এবার (চলতি) জেলায় পাটের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, ১০ হাজার ৪৬০ হেক্টর জমি। আর এতে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে নয় হাজার ১৫৯ হেক্টর জমি। উৎপাদনের পরিমান ধরা হয়েছে ২০ হাজার ৫৩১ মেট্রিকটন। পাটের মূল্য কমসহ নানাবিধ সমস্যার কারনে কৃষকেরা পাট চাষে এবার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে।

এদিকে, পাটের চাষ কম হওয়ায় জ্বালীনি কাজে ব্যবহার্য পাটখড়ির মূল্য আকাশচুম্বি হয়েছে। ফলে মধ্যম আয়ের পরিবারের সৃষ্টি হয়েছে চরম ভোগান্তি। পাটের চেয়ে পাট খড়ির মূল্য অনেক বেশি।

সদর উপজেলার কচুকাটা ইউনিয়নের বামনাবাউনি গ্রামের রশিদুল ইসলাম (৪৫) বলেন, আমরা এক  সময় ব্যাপকহারে পাট চাষ করতাম। তখন পাটের ন্যায্য মূল্য পেতাম। বর্তমানে উৎপাদন খরচ বেশী বাজার কম, এজন্য পাট চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছি। তিনি বলেন, ওই জমিতে এবার ধানসহ অন্যান্য ফসলের চাষ করে যতেষ্ট লাভবান হচ্ছি।

এ ব্যাপারে, জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক সিরাজুল ইসলাম  বলেন, বিগত বছর গুলোতে পাটের বাজারদর মন্দা থাকায় পাট চাষে চাষিদের আগ্রহ কমে গিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার খাদ্যদ্রব্যসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবেশ বান্ধব পাটের মোড়ক ব্যবহার করায় এখন পাটের ও বাজার দর ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করায় প্রান্তিক পর্যায়ে চাষিদের পাট চাষে আগ্রহ বেড়েছে।

এ ছাড়া, চলতি খড়িপ মৌসুমে চাষিদের পাটের রোগ প্রতিরোধ সম্পর্কে নানা পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা পাটের গুনগত মান উন্নয়নে নিরলসভাবে গ্রামে গঞ্জে পাড়া মহল্লায় কাজ করে যাচ্ছে। আশা করি পাটের বাজার মূল্যসহ সব রকমের সহযোগিতা সরকার করবে বলে তিনি কৃষকদের আস্বস্ত করেন।
সম্পাদনা : আ ই (জি-নিউজবিডি২৪ )

bashundhara
The Most Shocking Kim K's Bikini Body Photos

সর্বশেষ আপডেট

আরকাইভ