সংবাদটি প্রকাশ হয়েছেn: Sat, Jun 9th, 2018
bashundhara

নেছারাবাদের বীরাঙ্গনা মনখুশি সিকদার স্বীকৃতি চান

pirojpur pic-9মহসিন খান হিমেল, পিরোজপুর প্রতিনিধি : আষাঢ়ের দুপুর। মুষলধরে বৃষ্টি হচ্ছিল। বৃষ্টির মধ্যে গানবোট ও লঞ্চের শব্দ শোনা যাচ্ছিল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই পাক সেনারা গ্রামে ঢুকে পড়ল। ধরে নিয়ে গেল ১২ জন নারী ও পাঁচ জন পুরুষকে। ক্যাম্পে নিয়ে নারীদের ধর্ষণ করে পাক সেনারা।

নির্যাতিত নারীদের একজন মনখুশি সিকদার। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর সেদিনের কথা বলতে গিয়ে এখনো আঁতকে ওঠেন তিনি। মৃত্যুর আগে বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি চান আশীতিপর এই বৃদ্ধা।  মনখুশি সিকদারের বাড়ি পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার কুড়িয়ানা গ্রামে।

কুড়িয়ানা গ্রামের বাড়িতে কথা হয় মনখুশি সিকদারের সঙ্গে। আলাপচারিতায় উঠে আসে পাক সেনাদের নির্যাতন ও গণহত্যা কথা। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আটঘর কুড়িয়ানা এলাকায় পাক সেনাদের হত্যাযজ্ঞের সাক্ষী তিনি। ১৯৭১ সালের ১৫ জুন দুপুরে তাঁকে পাক সেনারা বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় ক্যাম্পে। স্থানীয় কুড়িয়ানা আর্য সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ক্যাম্প স্থাপন করে পাক সেনারা। সেখানে মনখুশিসহ ১২ নারীকে দুটি কক্ষে আটকে রাখা হয়।

কয়েক দিন ক্যাম্পে আটকে রেখে প্রতিদিন তাঁকেসহ বন্দী নারীদের ধর্ষণ করত পাক সেনারা। পাশাপাশি পাক সেনাদের রান্নার কাজ করানো হতো নারীদের দিয়ে। আটঘর কুড়িয়ানা গ্রামের পেয়ারা বাগানে আশ্রয় নেওয়া নারী ও পুরুষদের প্রতিদিন ধরে এনে গুলি করে হত্যা করা হত। তিন সপ্তাহ ধরে চলে এ হত্যাযজ্ঞ। তিন শতাধিক মানুষকে হত্যা করে ফেলে রাখা হয় দুটি বধ্যভূমিতে। মুক্তিযুদ্ধে সময় আটঘর কুড়িয়না গ্রামে পাক সেনাদের এসব হত্যাযজ্ঞ ও অগ্নিসংযোগের জীবন্ত সাক্ষী মনখুশি সিকদার।

মনখুশি সিকদার জানান, মুক্তিযুদ্ধের ছয় বছর আগে তাঁর স্বামী  হিমাংশু সিকদার মারা যান। তিন সন্তান নিয়ে তিনি কুড়িয়ানা গ্রামে স্বামীর ভিটায় বসবাস করতেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাক সেনারা তাঁকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু নির্যাতিত নারীদের বীরাঙ্গনা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সম্মান জানান। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৭ বছরে কেউ তাঁর খোঁজ নেয়নি। বর্তমানে অর্থকষ্টে আছেন। তিন ছেলে কোন সহায়তা করেন না। বয়স্কভাতার টাকা ও মানুষের সাহায্য দিয়ে চলছেন। জীবন সায়াহ্নে এসে বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি চান তিনি।

আটঘর কুড়িয়ানা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শেখর কুমার সিকদার বলেন, মনখুশি সিকদার বীরাঙ্গনা। তাঁকে আমরা সম্মান করি। দরিদ্র এই নারীকে আমরা বয়স্কভাতা দিচ্ছি। তবে মাসে ভাতার ৫০০ টাকা দিয়ে খাওয়া ও চিকিৎসার ব্যয় মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। তাঁকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ভাতার ব্যবস্থা করা হয়ে শেষ বয়সে এসে কষ্ট কিছুটা লাঘব হত।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার জাহিদ হোসেন বলেন, মনখুশি সিকদার মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাক সেনাদের নির্যাতনের শিকার হন। সরকার বীরাঙ্গনাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা মনখুশিকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত করার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাঈদ বলেন, মনখুশি সিকদারকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত করা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সম্পাদনা : আ ই (জি-নিউজবিডি২৪ )

bashundhara
The Most Shocking Kim K's Bikini Body Photos

সর্বশেষ আপডেট

আরকাইভ

June 2018
S M T W T F S
« May    
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930