সংবাদটি প্রকাশ হয়েছেn: Thu, Jun 14th, 2018
bashundhara

পদমদীতে হত্যা মামলা তুলে নিতে বাদী ও স্বাক্ষীকে প্রাণনাশের হুমকি ॥ থানায় অভিযোগ দায়ের

map- Rajbariমো. রুহুল আমিন বুলু, রাজবাড়ী প্রতিনিধি : রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের গাংচর পদমদী গ্রামে যৌতুকের দাবী ও পরকিয়ায় বাধা দেওয়ায় দুই সন্তানের জননী স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার পর মুখে বিষ ঢেলে দেওয়ার মামলায় স্বামী জিল্লুর রহমান শেখ এরই মধ্যে জেল থেকে জামিনে এসে হত্যা মামলা তুলে নিতে মামলার বাদী একই উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের বাড়াদী গ্রামের মৃত সেকেন্দার আলী মন্ডলে ছেলে মো. বিল্লাল হোসেন ও স্বাক্ষী মৃত আব্দুল আজিজ এর ছেলে মো. তৈয়ব আলীকে হুমকি প্রদর্শন করেছে। মামলা তুলে না নিলে খুন করার হুমকিও দেন। এ ব্যাপারে বালিয়াকান্দি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে বিল্লাল হোসেন।

জানা গেছে, জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের বাড়াদী গ্রামের মৃত সেকেন্দার আলীর মেয়ে মোছা. ফাতেমা বেগমের বিয়ে হয় একই উপজেলার নবানপুর ইউনিয়নের গাংচর পদমদী গ্রামের মৃত আকো শেখের ছেলে জিল্লু শেখের সঙ্গে। জিল্লু শেখ সম্প্রতি কিছু টাকার মালিক হয়ে পরকিয়ার দিকে ঝুকে পড়ে। এবং স্ত্রী ফাতেমার উপর যৌতুকের জন্য বিভিন্ন সময় চাঁপ দিতে থাকে। বিগত ২০১৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারী মৃত ফাতেমার নামে দেওয়া পিতার বাড়ীর সম্পত্তি বিক্রি করে আনতে বলে যৌতুক লোভী জিল্লু।

এতে ফাতেমা অস্বিকৃতি জানালে জিল্লু ক্ষিপ্ত হয়ে সকালে তাকে বেধরকভাবে মারপিট করতে শুরু করে।  নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একব্যক্তি বলেন, ঘটনার দিন জিল্লু ফাতেমাকে ঘরের ডাসা দিয়ে এলোপাথারিভারে পেটাতে থাকে। এবং পরে অসুস্থ হয়ে পরে এব্যাপারে পল্লি চিকিৎসক বাড়ীর উপর গিয়ে রোগী বেগতিক দেখে তারাতারি হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে মাইক্রোবাসে করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। এরপর সেখানে থাকা জিল্লুর বাড়ীর লোকজন লাশ ফেলে একে একে সবাই পালিয়ে যায়।

গত ২০১৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারী ফাতেমার একমাত্র ভাই মো. বিল্লাল হোসেন বাদী হয়ে বালিয়াকান্দি থানায় একটি মামলা দয়োর করেন। মামলা নং ০৭ তারিখে ২৫/০২/২০১৬ইং। ধারা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ০৩) এর ১১ (ক)।  এ মমলায় ঘাতক জিল্লু শেখ কিছুদিন হাজত বাস করে বর্তমানে বিজ্ঞ আদালতের দেওয়া জামিনে রয়েছেন। জামিনে এসেই গত ১০/০৩/২০১৮ইং তারিখে সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে বাড়াদী ব্রীজঘাট এলাকায় এই মামলা বাদী বিল্লাল হোসেনকে মামলা মিমাংসার জন্য হুমকি দেয়। এবং বলে মামলা মিমাংসা না করলে তোকে প্রাণে মেরে ফেলবো। একই হুমকি প্রদর্শণ করে মামলার স্বাক্ষী তৈয়ব আলী মৌলিককে। এই হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে মো. বিল্লাল হোসেন গত ২১/০৩/২০১৮ইং তারিখে বালিয়াকান্দি থানায় একটি সাধারন ডায়রী করে যার নং ৮০৫। বিষয়টি তদন্তের জন্য থানা অফিসার ইনচার্জ এসআই মেজবাউদ্দিনকে দায়িত্ব দেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্তের জন্য অনুমতি চেয়ে রাজবাড়ী আদালতে চিঠি প্রেরণ করেন। আদালতের স্বারক নং ১৪১৪ তারিখ ২৯/০৩/২০১৮। বিজ্ঞ আদালত নথি দেখে শূনে বিষয়টি তদন্তের জন্য আদেশ দেন। আদেশ প্রাপ্তির পর তদন্তকারী অফিসার তার নিজের মতো তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পায়। এরপর তিনি চার্জগঠন করে নন এফ,আই,আর প্রসিকিউশন নং ১৯/২০১৮, তারখি ০৭/০৪/২০১৮ইং ধারা ৫০৬ (সি) পেনাল কোড বিজ্ঞ আদালতে প্রেরন করেন। এবিষয়ে আদালত শুনানীর দিন ধার্য করেছেন ১৯/০৬/২০১৮ইং তারিখে। তদন্তকারী কর্মকর্তা স্বাক্ষীদের সঙ্গে কথা বললে, তারা এই ঘটনার সত্যতা স্বিকার করেন।

প্রকাশ, ফাতেমার মৃত্যূর পর ২৫ ফ্রেব্রুয়ারী ২০১৬ মোঃ বিল্লাল হোসেন বাদী হয়ে বালিয়াকান্দি থানায় একটি নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করে। বালিয়াকান্দি থানার মামলা নং ০৭। তারিখ ২৫/০২/২০১৬ইং। ধারা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২০০০ (ষংশোধনী) ২০০৩ এর ১১(ক)। যৌতুকের দাবীতে হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিট করে গুরুত্বর জখমের অপরাধ। মামলাটির তদন্তকারী কর্মমর্তা হিসাবে প্রথমে বালিয়াকান্দি থানার এসআই মোঃ মোশারফ হোসেন, দ্বিতীয়বারে এসআই মোঃ জাহাঙ্গীর মোল্লা ও শেষে এসআই মোঃ ফজলুর রহমান মামলাটি তদন্ত করেন।

এসআই ফজলুর রহমান তার তদন্ত শেষে আদালতে চার্জসিট প্রদান করেন। সেখানে সুরোতহাল রিপোর্টের সঙ্গে চার্জসিটের কোন সামঞ্জস্য না থাকায় বাদী আদালতে নারাজী দেন। রাজবাড়ী বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যূনাল নারাজী আমলে নিয়ে আসামীর প্রতি গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করেন। জিল্লু পলাতক থেকে গত ৩ জুলাই ২০১৭ইং আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে আদালত তা বাতিল করে জেল হাজতে প্রেরন করেন।
সম্পাদনা : আ ই (জি-নিউজবিডি২৪ )

সর্বশেষ আপডেট

আরকাইভ

June 2018
T F S S M T W
« May   Jul »
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930