সংবাদটি প্রকাশ হয়েছেn: Wed, Jul 11th, 2018
bashundhara

জনবল নিয়োগে মেহেরপুর স্বাস্থ্য বিভাগের গোপন টেন্ডার!

Meherpur hospital pic 11-07-18মজনুর রহমান আকাশ, মেহেরপুর প্রতিনিধি : আউটসোসিং এর মাধ্যমে ৪৬ জন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগ দিতে গোপন টেন্ডার দিয়েছে মেহেরপুর সিভিল সার্জন অফিস ও মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল।

এর মধ্য দিয়ে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দেওয়া ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে বিভিন্ন মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক তোলপাড়। পুনরায় টেন্ডার দিতে মন্ত্রণালয়ে ডিও দিয়েছেন স্থানীয় এমপি।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের জন্য ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে আউট সোসিং পদ্ধতিতে জনবল সরবরাহের লক্ষ্যে দু’টি পত্রিকায় গত ৬ জুন পৃথক দু’টি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করায় সিভিল সার্জন অফিস ও মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল।

সিভিল সার্জন অফিসের অধীনে ২০ জন ও হাসপাতালের অধীনে ২৬ জন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগের জন্য জনবল সরবরাহকারী কোম্পানী/প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দরপত্র আহবান করা হয়। ২৪ জুন দরপত্র দাখিলের শেষ দিন পেরিয়ে গেলে বিষয়টি অনেকের নজরে আসে। গোপনে টেন্ডার আহবানের মধ্য দিয়ে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে রাজনৈতিক মহলে জোর প্রতিবাদ শুরু হয়। এর প্রেক্ষিতে টেন্ডার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে গড়িমসি শুরু করেন সংশ্লিষ্টরা।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কাগজপত্র চাইলে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মিজানুর রহমান এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ফরহাদ হোসেন দোদুল বলেন, তাঁরা গোপন টেন্ডার করেছে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে। যে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে তার নাম মেহেরপুরের কেউ কখনো শুনেছে কিনা কেউ বলতে পারছেন না। পত্রিকায় মেহেরপুর জেলাতেও আসে না। বাংলা পত্রিকার নাম দৈনিক সন্ধানী বার্তা। এই নামে ইন্টারনেটেও খুঁজে পেলাম না। ইংরেজী পত্রিকার নাম হচ্ছে দি ডেইলি আর্থ। এসব পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিলে হবে না, বহুল প্রচারিত পত্রিকায় দিতে হবে।

পছন্দের ঠিকাদারের মাধ্যমে নিয়োগ বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে তাঁরা গোপনে টেন্ডার করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, উদ্দেশ্য অত্যান্ত খারাপ। সিভিল সার্জন ডাঃ জি.কে.এম শামসুজ্জামান ও তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মিজানুর রহমান একই ব্যাচমেট। তাঁরা ইচ্ছেমত নিযোগ বাণিজ্য করতে চাইছে। আমি হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হওয়া সত্ত্বেও আমাকে কিছুই জানানো হয়নি। পুনঃদরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের জন্য আমি স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর কাছে ডিও দিয়েছি। সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সাথে কথা বলেছি।

হাসপাতালের একটি সূত্রে জানা গেছে, গোপন টেন্ডারের মাধ্যমে জনৈক এক ঠিকাদারকে কাজ দেওয়ার প্রক্রিয়া প্রায় চুড়ান্ত। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান টেন্ডারের শর্ত অনুযায়ী জনবল সরবরাহ করবে। ইতোমধ্যে সম্ভাব্য ওই ঠিকাদারের মাধ্যমে কাকে কাকে নিয়োগ দেওয়া হবে তারও একটি খসড়া করা হয়েছে। মোটা অংকের অর্থের মধ্য দিয়েই তাদের নিয়োগ দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে। এমপি’র বাধার কারণে পুনরায় টেন্ডারের প্রক্রিয়ায় চলছে বলে একটি সূত্রে জানা গেছে। এছাড়াও পছন্দের লোকদের নিয়োগ দিতে সিভিল সার্জন ও তত্ত্বাবধায়কের উপর রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের চাপ বাড়ছে। এতে উভয় সংকটে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্তাব্যক্তিরা। বিপাকে পড়েছেন সিভিল সার্জন ও তত্ত্বাবধায়ক।

তবে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন সিভিল সার্জন ডাঃ জি.কে.এম শামসুজ্জামান ও তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মিজানুর রহমান।

জানতে চাইলে সিভিল সার্জন বলেন, বহুল প্রচারিত পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে এমন কোন শর্ত নেই। টেন্ডারের নিয়মানুযায়ী যাচাই-বাছাই হচ্ছে। বাধাও আছে। বিষয়টি নিয়ে কি করা যায় তা পরে জানানো হবে।
সম্পাদনা : আ ই (জি-নিউজবিডি২৪ )

bashundhara
The Most Shocking Kim K's Bikini Body Photos

সর্বশেষ আপডেট

আরকাইভ

July 2018
S M T W T F S
« Jun    
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031