সংবাদটি প্রকাশ হয়েছেn: Wed, Jul 18th, 2018
bashundhara

দায়িত্ব ছিনতাই!

Gangni picমজনুর রহমান আকাশ, মেহেরপুর প্রতিনিধি: গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হিসাব রক্ষক শামীনুজ্জামান প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে যোগদান করলেও আজো তিনি দায়িত্ব বুঝে পাননি। অফিস সহকারী কাম হিসাব রক্ষক আসাদুল ইসলাম লিটন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নীতিমালা উপেক্ষা করে একাই দুই পদের দায়িত্ব পালন করছেন।

হিসাব রক্ষক শামীমুজ্জামানের কাছ থেকে অফিসের সমস্ত কাগজপত্র অফিস সহকারী লিটন জোর করে ছিনিয়ে নিয়েছে। ফলে অলস সময় কাটছে হিসাব রক্ষক শামীমের। এতে জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।

জানা গেছে, গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হওয়ায় জনবল বৃদ্ধি পায়। এস.এম শামীনুজ্জামানকে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে হিসাব রক্ষক পদে গাংনীতে বদলি করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ২০১৫ সালের ৩ মার্চ হিসাব রক্ষক হিসেবে তিনি গাংনী হাসপাতালে যোগদান করেন। কিন্তু অদ্যবধি দায়িত্ব বুঝে পাননি। ৩১ শয্যা থাকা অবস্থায় আসাদুল ইসলাম লিটন অফিস সহকারী কাম হিসাব রক্ষক হিসেবে সব কাজ করতেন। সেটিই চলমান রয়েছে। কাজ না পেয়ে অনেকটাই অলস সময় কাটাতে হচ্ছে হিসাব রক্ষককে। এ নিয়ে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি বারবার কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলেও কেউ কর্ণপাত করেননি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কার্য-পরিধি অনুযায়ী হিসাব রক্ষক তার দপ্তরের আর্থিক ব্যবস্থাপনার যাবতীয় কাজ সম্পাদন করবেন। সকল ধরনের দাপ্তরিক কাজে সহায়তা প্রদান, কর্মচারীদের সার্ভিস বুক সহ অন্যান্য নথি সংরক্ষণ, স্টোর ও আর্থিক ব্যবস্থাপনাসহ সকল নথি ব্যবস্থাপনায় সহায়তা, বাজেট প্রস্তুত ও ক্রয় প্রক্রিয়াসহ অডিট আপত্তি নিষ্পতিতে সহায়তা করা ও উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ অর্পিত অন্যান্য দায়িত্ব পালন।

ভুক্তভোগী হিসাব রক্ষক এস.এম শামীনুজ্জামান বলেন, বর্তমানে আমি শুধুমাত্র ফিল্ডের ২৭১৪ কোডের হিসাবের কাজ করছি। এই কাজটিই শুধুমাত্র অফিস সহকারীর করার কথা। কিন্তু হচ্ছে উল্টো। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে বিষয়টি অনেকবার অনুরোধ করার পরেও তিনি আমার দায়িত্ব বুঝিয়ে দেননি। এখন কর্তৃপক্ষ যেভাবে চালাচ্ছে আমিও সেভাবে চলছি। আমারতো কিছুই করার নেই।

হাসপাতালের একটি সূত্রে জানা গেছে, গাংনী হাসপাতালের চারতলা নতুন ভবনে কার্যক্রম শুরু হলে কক্ষ বন্টন হয়। যে কক্ষে হিসাব রক্ষকের বসার কথা সেখানেই অফিস সহকারী আসাদুল ইসলাম লিটনের অফিস কক্ষ। হিসাব রক্ষক বর্তমানে স্টোর কিপারের কক্ষে যৌথভাবে টেবিল পেতে বসেন। লিটন স্থানীয় ও বিভিন্ন প্রভাব খাটিয়ে একাই দুই পদের দায়িত্ব পালন করছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গাংনী হাসপাতালের বর্তমান স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সাথে আসাদুল ইসলাম লিটনের বেশ সখ্যতা। তার নির্দেশেই তিনি একাই দুই দায়িত্ব পালন করলেও হাসপাতালের কারো প্রতিবাদ করার সুযোগ নেই। একটি বিশেষ উদ্দেশ্যে তাকে দিয়ে হিসাবের কাজ পরিচালনা করাচ্ছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। বিষয়টি নিয়ে গাংনীর বিভিন্ন মহলে নানা গুঞ্জন  ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

দায়িত্ব পালনের বিষয়ে আসাদুল ইসলাম লিটন বলেন, আগের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আমাকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন তখন থেকেই আছি। তবে দায়িত্ব পালনের কোন বৈধ নির্দেশনা ও কাগজপত্র দেখাননি তিনি।

বিষয়টি জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মাহবুবুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমি কিছুই জানিনা। কিভাবে দায়িত্ব পালন করছে তা আমি জানিনা। আগে যেভাবে চলে আসছে সেভাবে চলছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নীতিমালা ও নির্দেশনার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়ে কিভাবে তিনি দায়িত্ব পালন করাচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন তাও আমি জানিনা।

একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা কিছুই জানেন না এ বিষয়টি নজরে আনলে মেহেরপুর ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডাঃ আলোক কুমার বলেন, উঁনিতো (স্বাস্থ্য কর্মকর্তা) ওখানকার বস। উঁনাকেই জানতে হবে কিভাবে হচ্ছে। উঁনি দ্বায় এড়াতে পারেন না। তবে সিভিল সার্জন স্যার দেশের বাইরে রয়েছেন তিঁনি দুয়েক দিনের মধ্যে ফিরবেন। তখন বিষয়টি নিয়ে কি করা যায় তা দেখা হবে।
সম্পাদনা : আ ই (জি-নিউজবিডি২৪ )

সর্বশেষ আপডেট

আরকাইভ

July 2018
T F S S M T W
« Jun   Aug »
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031