সংবাদটি প্রকাশ হয়েছেn: Wed, Jul 18th, 2018
bashundhara

পীরগঞ্জে চলতি বোরো মওসুমে চাল সংগ্রহ

riceসরওয়ার জাহান, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি পীরগঞ্জ (রংপুর) ঃ রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় চলতি বোরো মওসুমে চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পুরন হবে। ইতিমধ্যে  পৃথক দু’টি খাদ্য গুদামে সরকারীভাবে ২ হাজার ৫ ’শ মে টন চাল সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে পীরগঞ্জ খাদ্য গুদামে ১ হাজার ৮’শ মে টন ও ভেন্ডাবাড়ি খাদ্য গুদামে ৭’শ মে. টন সংগ্রহ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানান, চলতি বোরো মওসুমে এ উপজেলায় চাল ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে ৪ হাজর ৩’শ ৬৯ মে: টন। যা সরকারী বিধি মোতাবেক চুক্তিবদ্ধ ১৯২টি  চাল কল মালিকের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ৩৮ টাকা কেজি দরে ক্রয় করা হচ্ছে। গত ২১ মে সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে,আগামী ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত চালকল মালিকদের কাছ থেকে ওই চাল ক্রয় করা হবে।

বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে মোটা চাল ৩৪ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে ক্রয়-বিক্রি হচ্ছে। চালকল মালিক আব্দুল ওয়াহেদ,মিনহাজ,রফিকুল ইসলাম,তাইফুর রহমান লকেট তোজাম্মেল হোসেন,সুজু মিয়া, সাইদুর রহমাান,আইয়ুব আলী,আব্দুর রাজ্জাকসহ একাধিক চাল কল মালিক বলেন, চাল ক্রয়ের যে বিধি, সে অনুয়ায়ী আমাদের চাল কলে চাল তৈরী করা অত্যন্ত কষ্টকর। তাছাড়া আমাদের চালকলে ওই মানের চাল উৎপাদনে সময় ও খরচ আরও বেশী হবার আশংকা থাকে। এজন্য বাধ্য হয়ে আমরা আমাদের  চাল কলে  চাল তৈরী করার পর তা মান সম্মত করার জন্য অটো রাইচ মিলে রিফাইন করে নিয়ে সরকারী খাদ্য গুদামে সরবরাহ দিচ্ছি।

এতে লাভ একটু কম হলেও চালের মান ভালো ও চাল ক্রয় সংক্রন্ত বিধিমালার সব শর্ত পুরন হওয়ায় সহজেই সরবরাহ দেয়া সম্ভব হচ্ছে, বাড়তি কোন ঝুট ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে না। পীরগঞ্জ উপজেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি হাবিবুর রহমান বলেন, বিগত ক’বছর একাধারে চালকল মালিকরা লোকসান গুনেছে। চলতি বোরো মওসুমে হাট-বাজারে চালের মুল্য অপেক্ষা সরকারের ক্রয় মুল্য একটু বেশী হওয়ায় চলতি মওসুমে চালকল মালিকরা কিছুটা হলেও লাভবান হবেন।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আমরা বিধি মোতাবেক চাল সরবরাহ দিতে সক্ষম হবো। এতে সরকারের  লক্ষ্যমাত্রাও অর্জিত হবে শতভাগ। পীরগঞ্জ খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অনিমেশ সরকার বলেন, সরকারের নিয়ম নীতিমালা মোতাবেক গত ২১ শে মে থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে চাল ক্রয় শুররু করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ২ হাজার ৩.শ মে.টন চালক্রয় করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে স্থানাভাবে সংগ্রহ অভিযান সাময়ীক বন্ধ রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবশ্যই চাল ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।

চালকল মালিকদের কাছ থেকে কেজি প্রতি ১ টাকা করে নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার  করে ওই কর্মকর্তা বলেন, এ ধরনের কোন নিয়ম নেই। চালকল মালিকরা নিজ নামে চাল সরবরাহ করেন এবং তাদের ব্যাংক হিসাব নম্বরের অনুকুলে ক্রস চেকের মাধ্যমে বিল পরিশোধ করা হয়। এখানে অনৈতিক লেনদেনের কোন সুযোগ নেই। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ছাইয়েদুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় চালকল রয়েছে ২০২টি । তন্মধ্যে ১৯২টি সচল চালকলের চুক্তিবদ্ধ মালিকদের নামে সরকারী সর্বশেষ নীতিমালা অনুযায়ী চাল সরবরাহের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

বাকী গুলো  চালু না থাকায় তাদের নামে কোন বরাদ্দ দেয়া হয়নি। সরকারের সাথে চুক্তিবদ্ধ চালকল মালিকরা সরকারী খাদ্য গুদামে  চাল সরবরাহ দেয়ায় কয়েক শত শ্রমিকের স্বল্প সময়ের জন্য হলেও কর্ম সংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপশি হাট- বাজারে আগের তুলনায় ধানের দামও অনেকটা বেড়েছে। ফলে  চাষীরাও ধানের আশানুরুপ মুল্য পাওয়ায় অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।
সম্পাদনা : আ ই (জি-নিউজবিডি২৪ )

সর্বশেষ আপডেট

আরকাইভ

July 2018
T F S S M T W
« Jun   Aug »
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031