সংবাদটি প্রকাশ হয়েছেn: Tue, Jul 10th, 2018
bashundhara

বিশ্বম্ভরপুরে প্রতি বছর অর্ধ কোটি টাকা রাজস্ব বঞ্চিত সরকার

taka_8হাসান বশির, বিশ্বম্ভরপুর প্রতিনিধি (সুনামগঞ্জ): সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় সলুকাবাদ ইউপির বাঘবেড় পশুর হাটটি পুনরায় চালুর জন্য দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন না করায় প্রতিবছর প্রায় অর্ধ কোটি টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

জানা যায়, বাঘবেড় এলাকায় তৎকালীণ সময়ে ব্যক্তি / প্রতিষ্ঠানের মালিকানা ভূমির উপর বাজার সৃষ্টি করায় ভূমির মালিকানা দ্বন্দ্বে সৃষ্ট, স্বত্ব মোকদ্দমা সংক্রান্ত জটিলতা তৈরী হয় ওই জটিলতা নিরসনে নতুন করে পুরাতন পশুর হাটের সীমানায় এক খন্ড নিষ্কন্টক প্রস্তাবিত ভূমির উপর বাজার সৃষ্টির জন্য (মামলাযুক্ত জায়গা বাদ দিয়ে) সরকার পক্ষকে এলাকাবাসীর উদ্যোগে ১০০১/১৭ নং দলিল মূলে ০.২২ একর ভূমি রেজিষ্ট্রি দেওয়া হয়েছে।

এর পরও বাজার সৃষ্টির জন্য দ্রুত উদ্যোগ গ্রহন না করায় রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। উল্লেখ যে, একই এলাকায় বাজার সৃষ্টির লক্ষ্যে স্বত্ব মোকাদ্দমায় জড়িত পুরতান পশুর হাট ও প্রস্তাবিত ওপর হাটটি থেকে থেকে প্রায় অর্ধ কিলোমিটার দূরে পৃথক আরেকটি জায়গা সরকার পক্ষকে রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, বাঘবেড় এলাকার ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান নাজিম গত ১৩/০৮/২০১৭খ্রিঃ এলাকাবাসীর উদ্যোগে নিস্কন্টক জায়গা হস্তান্তর সাপেক্ষে বাজার সৃষ্টির জন্য জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করেন পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের নির্দেশক্রমে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সুনামগঞ্জ বিশ্বম্ভরপুর প্রশাসন কর্তৃপক্ষকে সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রতিবেদন প্রেরণের জন্য নির্দেশ দেন। পরে তৎকালীণ বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারি কমিশনার ভূমি তানিয়া সুলতানা সহকারি কমিশনার ভূমি কার্যলয়ের সার্ভেয়ার ও ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার সহায়তায় স্ক্যাচম্যাপ তৈরী ও বাজার সৃষ্টির জন্য আবেদনের যৌক্তিকতা বর্ণনা করে ২৭/০৯/২০১৭খ্রিঃ প্রতিবেদন প্রেরণ করেন। কিন্তু বর্তমানে প্রশাসন কর্তৃপক্ষের ধীরগতির কারণে পশুর এ হাটটি অনুমোদন হচ্ছে না।

অন্য দিকে ধারাবাহিক ভাবে স্থায়ী / অস্থায়ী পদ্ধতিতে ইজারা প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে কিন্তু ইজারা প্রক্রিয়া বন্ধ থাকলেও সপ্তাহের প্রতি রোববার ও বৃহষ্পতিবার বাঘবেড় এলাকার রতারগাঁও মৌজাস্থ ১৬০৭ খতিয়ানভুক্ত বাজারের জন্য প্রস্তাবিত এ জায়গাটির উপর পশুর হাট বসছে ধারাবাহিক ভাবে। প্রতিদিন এ হাটে কেনা-বেচা হচ্ছে শত শত  পশু (গরু, ছাগল, ভেড়া)। বেচা কেনা চলছে টোল- ট্যাক্স ছাড়াই। এই ফাঁকে অসাধু লোক, পশুপাচার চক্র ও চোর চক্র রশিদ ছাড়া কেনা বেচার সুযোগ গ্রহন করছে প্রতিনিয়ত। তাই বাজারটি ঘিরে একদিকে বাড়ছে অসাধু চক্রের তৎপরতা অন্য দিকে টোল- ট্যাক্স ছাড়া কেনা বেচার সুযোগ পাওয়ায় সুনামগঞ্জ সদর, বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর উপজেলায় সরকারের পশুর বৈধ হাটগুলোতে পশু বিক্রি কমছে ফলে আগামী বছরে ৩ উপজেলার বৈধ পশুর হাটের ইজারা মূল্য আরো নিচের দিকে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

এমনকি এর প্রভাবে গত বছর বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার চিনাকান্দি পশুরহাটটি ভ্যাট আয়কর ব্যতিত ৪৬ লাখ ৫০ হাজার টাকায় ইজারা দেওয়া হয় কিন্তু বাঘবেড় এলাকায় এলাকাবাসীর স্ব-উদ্যোগে পশুর হাটের কার্যক্রম চলমান থাকায় চলতি সনে একই চিনাকান্দি বাজারটি ২২ লাখ টাকা কমে ইজারা দিতে হয়েছে। এতে করে একটি পশুর হাট থেকেই সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে ২২ লাখ টাকা ফলে ৩ উপজেলায় হাট বাজার থেকে রাজস্ব উন্নয়নের বিপরীতে সরকারের রাজস্ব ঘাটতি হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, স্থানীয় প্রশাসনের ধীরে চলার কারণে পশুর হাট স্থাপন কার্যক্রম বিলম্বিত হচ্ছে।

এ কারণে উপজেলায় পর্যাপ্ত রাজস্ব উন্নয়ন না হওয়ায় স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রম গতিশীল হচ্ছে না।

সূত্র জানায়, শাহ সলুক রহঃ মাজার কেন্দ্র করে সিমচা মৌজাস্থ ১৬৫ নং দাগে  ৯ একর ৯৮ শতক ভূমি নিয়ে বাঘবেড় মোকাম তৈরী হয়। এর পর বর্ণিত ভূমির রেকর্ডপত্র যাচাই না করে ১৬৫ নং দাগের ২ একর ১৫ শতক ভূমিতে বাঘবেড় বাজার স্থাপন করা হয়। বাঘবেড় মোকাম ভূমির জায়গায় বাজার সৃজন করায় বাঘবেড় মেকামের তৎকালীণ খাদেম সলুক মিয়া ফকির সরকার পক্ষের বিরুদ্ধে সহকারী জজ বিশ্বম্ভরপুর আদালতে পিটিশন নং ৭/৯৯ দায়ের করেন এ কারণে প্রায় ১৮ বছর পশুর এ হাটটি নিয়ে স্বত্ব মোকদ্দমা থাকায় সরকার পক্ষ বাজার ভূমির স্বত্ব প্রমানে ব্যর্থ হওয়ায় আদালতের নির্দেশে স্থানীয় প্রশাসন ইজারা স্থিতাবস্থা রেখেছে ফলে দের যুগে প্রায় ৪ কোটিরও বেশি টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে সরকার। এমন মন্তব্য করেছেন বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বিজ্ঞজনেরা।

এই পশুর হাটটি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা বিষয়ে সুত্রে আরো জানা যায়, সহকারী জজ বিশ্বম্ভরপুর আদালতে পিটিশন নং ৭/৯৯ দায়ের করার পর বিজ্ঞ আদালত ওই পিটিশনের শুনানী গ্রহন করে সরকার পক্ষকে বাজার ইজারা প্রদানে নিষেধাজ্ঞা দেন। এর পর ২৫/০৯/২০০১ খ্রিষ্ট্রাব্দে ৭/৯৯ পিটিশনটি খারিজ করেন বিজ্ঞ আদালত। পরবর্তীতে এ (খারিজ) আদেশের বিরুদ্ধে যুগ্ন জেলা জজ দ্বিতীয় আদালত সুনামগঞ্জে ১০৪/২০০১ আপিল দায়ের করেন।

বিজ্ঞ আদালত ২৫/০৭/২০০৩ খ্রিস্ট্রাব্দে ৭/১৯৯৯ মামলার আদেশ রহিত করেন অর্থাৎ বাজার ইজারা কার্যক্রমে সরকার পক্ষের বিরুদ্ধে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেন। সেই  থেকে বাজার ইজারা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এর পর ১০৪ স্বত্ব আপীলের বিরুদ্ধে সলুকাবাদ ইউপির তৎকালীণ চেয়ারম্যান ও আপীল মোকদ্দমার ৫ নং বিবাদী আব্দুল খালেক ও সরকার পক্ষ মাহমান্য সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনে ৪২৬২/২০০৩ ও ১২৭৬ নং সিভিল পিটিশন দায়ের করেন, এ সিভিল রীট পিটিশন দু’টির এক সঙ্গে  বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

বিজ্ঞ আদালত ২১, ২২ ও ২৩ আগষ্ট চুড়ান্ত শুনানী শেষে আপীল না মঞ্জুর করেন। ফলে স্বত্ব আপীল নং ১০৪/ ২০০১ এর আদেশ বহাল থাকে, যা বাঘবেড় মোকামের পক্ষে স্বত্ব থাকে। সলুকাবাদ ইউপির তৎকালীণ চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক মহামান্য সুপ্রীমকোর্টে আপীল ২৮৫২ /২০১২ নং স্বত্ব আপীল দায়ের করেন। পরে ১০/০২/ ২০১৬খ্রিস্টাব্দে আপীল না মঞ্জুর হয়। এবং নি¤œ দ্বিতীয় জজ আদালতের আদেশ বলবৎ থাকে। পরবর্তীতে খাদেম ও তার পরিবারের নিরপত্তা চেয়ে সুপ্রীমকোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশন ২১৯০/২০১১ নং রীট পিটিশন দায়ের করেন পরবর্তীতে বাজার কমিটির কতিত সভাপতি নাছির উদ্দিন সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনে ২১৯০/২০১১ নং রীট পিটিশনের ১২/১২/২০১২ খ্রিস্ট্রব্দের আদেশের বিরুদ্ধে ২৯৩৯/২০১২ আপীল দায়ের করেন। মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের বিজ্ঞ বিচারক ৪/১১/ ২০১৩খ্রিস্ট্রাব্দের আদেশের না মঞ্জুর করেন।

এ বিষয়ে বাঘবেড় এলাকার ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান নাজিম বলেন বাঘবেড় মোকামের জায়গাটি এখন আর সরকারের নয়, তাই বাজার সৃষ্টির জন্য এলাকাবাসী পৃথক জায়গা জেলা প্রশাসকের নামে রেজিষ্ট্র করে দিয়েছেন। আর  ওই প্রস্তাবিত ভূমির উপর প্রতি রোববার ও বৃহষ্পতিবার হাট বসছে স্ব উদ্যোগে ক্রেতা বিক্রেতারা পশু কেনা বেচা করছেন কিন্তু ইজারা প্রক্রিয়া না থাকায় রাজস্ব পাচ্ছে না সরকার। ইচ্ছে করলে সরকার অস্থায়ী ভিত্তিতে ইজারা দিতে পারে। সলুকাবাদ এলাকার সমাজকর্মী মহরম আলী জানান বাজার অনেক পুরনো তাই বাজারটি সৃজন করা দরকার।

এখলাছুর রহমান জানান এ বাজারে আসার জন্য ধোপাজান -চলতি নদী পথ আর সড়ক পথ দিয়ে ১২ মাস-ই যাতায়াত ব্যবস্থা থাকায় এ বাজারে খুব বেশি পশু কেনা বেচা হয়। মেবারক হোসেন জানান, বাজার সৃষ্টির জন্য পৃথক আরেকটি জায়গা জেলা প্রশাসকের নামে রেজিস্ট্রি দেওয়া আছে। এ বিষয়ে সলুকাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান রওশন আলী জানান, এ ইউনিয়নের একমাত্র গুরুত্বপূর্ন বড় বজার এটি কিন্তু ইজারা পদ্ধতি না থাকায় প্রতি বছর মোটা অংকের রাজস্ব  হারাচ্ছে সরকার। এই বাজারের অচলাবস্থার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে সুবিধা করতে পারছে না এ এলাকার মানুষ।

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সমীর বিশ্বাস জানান, বাজার সৃষ্টির জন্য দু’টি জায়গা জেলা প্রশাসকের নামে রেজিষ্ট্রি দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মহোদয়ের কার্যালয় থেকে বাজার সৃষ্টির জন্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য পুনঃ নির্দেশ পেয়েছি খুব দ্রুত প্রতিবেদনটি প্রেরণ করা হবে। এবিষয়ে রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর দিনাক রহমান জানান বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার ভূমি সমীর বিশ্বাসকে প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য বলা হয়েছে প্রতিবেদন পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদনা : আ ই (জি-নিউজবিডি২৪ )

bashundhara
The Most Shocking Kim K's Bikini Body Photos

সর্বশেষ আপডেট

আরকাইভ

July 2018
S M T W T F S
« Jun    
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031