সংবাদটি প্রকাশ হয়েছেn: Thu, Aug 2nd, 2018
bashundhara

লালমনিরহাটে আ’লীগ, বিএনপি ও জাপাতে কোন্দল, মাঠ গোচ্ছাছে জামায়াত

image-57462আসাদুজ্জামান সাজু, লালমনিরহাট প্রতিনিধি ঃ লালমনিরহাটের বাতাসে এখন ভেসে বেড়াচ্ছে নির্বাচনী গন্ধ। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জাতীয় পাটি ও জামায়াতের মধ্যে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। রাজনীতির মাঠে কেবল নির্বাচনী ডামাডোল।

সাধারণ মানুষকেও আগাম রাজনীতির পুরো হিসাব কষতে দেখা যাচ্ছে। এ অঞ্চলের জনপ্রিয় খ্যাত জাতীয় পার্টি কোন জোটে গিয়ে নির্বাচন করবেন সেটাও কিন্তু দেখার বিষয় হয়ে দাড়িঁয়েছে রাজনীতির মাঠে। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেনি ফলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে মানুষের মধ্যে আলাদা একটা উৎফুল্লতা দেখা যাচ্ছে ।

সরকারী দল আওয়ামী লীগ ও মাঠের বিরোধী দল বিএনপি ও সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির কর্মকান্ডের নানা বিষয় উঠে আসছে মানুষের কথোপকথনে। ভোটাররা অপেক্ষা করছেন, পছন্দের মার্কা থাকা নৌকা, ধানের শীষ কিংবা লাঙ্গল প্রতীকে সিল মেরে নিজেদের সুষ্ঠু চেতনার বাস্তবায়ন ঘটাতে। আওয়ামীলীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি প্রার্থী তালিকা চুড়ান্ত না করলেও নিবন্ধন বাতিল হওয়া জামায়াতে ইসলামী অনেকটা আগেভাগেই সুকৌশলে তারা তাদের একটি প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। জামায়াতে ইসলামীর আতœগোপনে থাকা এক নেতার সাথে কথা বলে এমন একটি তথ্য পাওয়া গেছে।

ক্ষমতার মসনদে প্রতিষ্ঠিত আওয়ামী লীগ লালমনিরহাটে দলীয় কোন্দলের পরও শক্ত অবস্থানে থাকলেও গত নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করা বিএনপি লালমনিরহাটে দলীয় কোন্দলের কারণে অনেকটা কোণঠাসা। তবে এ জেলায় বিএনপির নেতা-কর্মীরা স্থানীয় ভাবে একাধিক ভাগে বিভক্ত থাকলেও জেলা পর্যায়ে সবাই কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুর অনুসারী। আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতার পঙ্খিরাজ ঘোড়ায় চেপে বসে বেশ শক্তিমত্তার পরিচয় দিলেও তারা অতি গোপনে আত্মতুষ্টিতে ভুগছে বলেই প্রতীয়মান হয়।

নির্বাচন বিচ্ছিন্ন বিএনপি নিজেদের আরও পরিশুদ্ধ করে আগাম প্রস্ততি নিয়েছে। যে কারণে আওয়ামীলীগের পাশাপাশি বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মাঠে গণসংযোগে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে । এদিকে লালমনিরহাটে জাতীয় পার্টিও জোরে সরে নির্বাচনী প্রচারনায় নেমেছে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদের ছোট ভাই পার্টির কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের বেশী বেশী করে লালমনিরহাটে সফরে আসছেন।

লালমনিরহাটে আওয়ামীলীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিতে দলীয় কোন্দল অনেকটা প্রকাশ্য রুপ নিয়েছে। তবে জামায়াতে ইসলামও বসে নেই। তারা লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনটি পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। ওই আসনে আওয়ামীলীগের পর পরেই জামায়াতের অবস্থান। আওয়ামীলীগের দৌড়ঝাঁপ দেখে বসে নেই বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও জামায়াত। আর অন্য ছোট দলগুলো বড় দলের ছত্রছায়ায় থেকে নিজেদেরও নির্বাচনী প্রস্ততি মহড়ায় ব্যস্ত রাখছে। সবকিছু বিবেচনায় মনে হচ্ছে আগামী নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে।

এ দিকে জামায়াতে ইসলামীর আতœগোপানে থাকা নেতা-কর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তাদেরকে সাংগঠনিক ভাবে যতটা দুর্বল বলা হচ্ছে তারা ততটা দুর্বল হয়নি। গ্রেফতার ও মামলা এড়াতে তারা নিজেরাই আতœগোপনে চলে গেলেও সাংগঠনিক কার্যক্রম তাদের থেমে নেই। তারা তাদের মত দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সেই ক্ষেত্রে তারা বিশেষ কৌশল অবলম্ভন করেছেন।

যেসব সংসদীয় আসনে তাদের প্রার্থী শক্তিশালী সেই সব আসনে তারা অতিগোপনে কাজ করছেন। স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সাথে জেলা বা কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। জামায়াতে ইসলামী ইতোমধ্যে তারা তাদের বিজয়ের জন্য সম্ভব্য আসন গুলোতে দলীয় কার্যক্রম গোছাচ্ছেন। লালমনিরহাট জেলায় এক উপজেলা চেয়ারম্যানকেও সুকৌশলে ম্যানেজ করে তারা তাদের দলকে গোছাচ্ছেন এমন গুঞ্জনো শোনা যাচ্ছে।

৩ টি সংসদীয় আসন নিয়ে গঠিত লালমনিরহাট জেলায় সব দলের অর্ধশতাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশীর নাম শোনা যাচ্ছে। নির্বাচনের বেশ কিছু দিন বাকি থাকলেও তারা গনসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনে আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসাবে সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেন এমপি, পাটগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বাবুল ও প্রবীন আওয়ামীলীগ নেতা মকবুল হোসেনের নাম শোনা যাচ্ছে। তবে পরপর ৩ বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেন মনোনয়নের দৌড়ে ও জনপ্রিয়তায় অনেকটা এগিয়ে আছেন। তিনি গত ১৫ বছরে গোটা জেলায় উন্নয়নের চিত্র পাল্টে দিয়েছেন। দলের পাশাপাশি ব্যক্তি হিসাবে সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেন ফ্যাক্টর।

কারণ তিনি একজন সফল সংগঠক হিসাবে দলীয় নেতা-কর্মীদের আস্থা অর্জনের পাশাপাশি দল মত সকলের কাছে একজন গ্রহনযোগ্য ব্যক্তি হিসাবে নিজের ক্লিন ইমেজ তৈরী করেছেন। পাটগ্রাম ও হাতীবান্ধা উপজেলা আওয়ামীলীগ তার নেতৃত্বে ঐক্য বদ্ধ। ফলে এ আসনে মোতাহার হোসেনের প্রার্থীতা নিশ্চিত বলে আওয়ামীলীগের একটি সুত্রে জানা গেছে। এ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসাবে কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান, সাবেক এম পি জয়নুল আবেদীন সরকারের ছেলে সাইদুজ্জামান কোয়েল, জাতীয়তাবাদী আইনজীবি ফোরামের নেতা সাজেদুল ইসলাম পাটোয়ারী উজ্জল ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা শাহীন আকন্দর নাম শোনা যাচ্ছে।

তবে ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধানকে বহিরাগত ও তার পরিবারের লোকজন আওয়ামীলীগ করেন এমন দাবী করে তাকে মেনে নিতে নারাজ খোদ বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা। তবে তার এক ভাই একটি ব্যাংকের উদ্ধর্তন হওয়ায় সুবাদে অনেকটা প্রশাসনিক ঝড়-ঝামলা ছাড়া দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে চাচ্ছেন ব্যারিস্টার রাজীব। কিন্তু হাতীবান্ধা-পাটগ্রামে বিএনপিতে দলীয় কোন্দল ব্যাপক। জাতীয় পার্টি দলীয় কোন্দল থাকলে এরশাদের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মেজর (অব) খালিদ আক্তান প্রার্থী হবেন শোনা যাচ্ছে। জামায়াতে ইসলাম থেকে প্রতি নিয়ত গণ সংযোগ করছেন আবু হেনা এরশাদ হোসেন সাজু নামে এক ব্যবসায়ী। জামায়াতে ইসলাম এ আসনে বিএনপি’র চেয়ে ভোটের অবস্থানে অনেক এগিয়ে সে কারণে তারা বিএনপি’র প্রার্থীকে আমলেই নিচ্ছে না।

লালমনিরহাট-২ ( আদিতমারী-কালীগঞ্জ) আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহেম্মদ ও জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি সিরাজুল ইসলাম। এ আসনে আওয়ামীলীগের সংসদ সদস্য নুরুজ্জামান আহেম্মদ সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর দলীয় কার্যক্রমে আগের মত তাকে তেমন দেখা যাচ্ছে না। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসাবে সাবেক এমপি সালে উদ্দিন আহেম্মদ হেলাল, সাবেক উপমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু ও কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর আলমের নাম শোনা গেলেও ভোটের অবস্থানে বিএনপি’র অবস্থান আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পাটির চেয়ে অনেক নিচে।

এ ছাড়া দলীয় কোন্দলে বিএনপি’র অবস্থান নড়েবড়ে। এ আসনে জাতীয় পার্টির একক প্রার্থী রোকন উদ্দিন বাবুল প্রতিনিয়ত গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসাবে নয়, ব্যক্তি হিসাবে রোকন উদ্দিন বাবুল কিèন ইমেজের হওয়ায় এ আসনে তিনি ফ্যাক্টর হয়ে দাড়িঁয়েছে। এ আসনে জামায়াতে ইসলামের তেমন কোনো অবস্থান নেই।

লালমনিরহাট-৩ আসনে আওয়ামীলীগের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আবু সাঈদ দুলাল, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাড. মতিয়ার রহমান ও নারী এমপি এ্যাড. সফুরা  বেগম রুমিসহ একাধিক প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। এ আসনে বিএনপির একক প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির সংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু। জাতীয় পার্টিতে এরশাদের ছোট ভাই সাবেক মন্ত্রী জি এম কাদের প্রার্থী হবে।

তবে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম মিঠুকে বহিস্কারের পর দলীয় কোন্দল দেখা দিয়েছে। এ আসনে আওয়ামীলীগ স্থানীয় ভাবে বিভক্ত হওয়ায় সাংগঠনিক ভাবে তারা শক্ত অবস্থান তৈরী করতে পারেনি। তবে জেলা আওয়ামীলীগের সম্পাদক মতিয়ার রহমান প্রতিনিয়ত দলের কোনো না কোনো কর্মসুচীতে অংশ নিয়ে ঐক্যবদ্ধ আওয়ামাীলীগ তৈরীতে কাজ করছেন।

সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আবু সাঈদ দুলালের দলীয় কোন কর্মকান্ডে দেখা মিলছে না। এ আসনের বিএনপি’র প্রার্থী সাবেক উপমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু উপ-মন্ত্রী থাকা অবস্থায় সদর উপজেলার ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। তিনি দলকে সুসংগঠিত করতে ছুটে বেড়াচ্ছে পথ থেকে পথে। তার ব্যতিক্রম সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে আগামী সংসদ নির্বাচনে এ আসনে তিনি ব্যক্তি হিসাবে ফ্যাক্টর হবে।

লালমনিরহাট জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোতাহার হোসেন এমপি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সারা দেশের ন্যায় লালমনিরহাটের ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। দেশের সাধারণ মানুষ আমাদের সাথে আছে। আগামী দিনে এ জেলার মানুষ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে উন্নয়নের সাথে থাকবেন।

জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ন সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক রোকন উদ্দিন বাবুল বলেন, জাতীয় পার্টি আগের চেয়ে এ জেলায় অনেক শক্তিশালী। আগামীতে আমরা আমাদের হারিয়ে যাওয়া আসন গুলো উদ্ধারে চেষ্টা করবো।

লালমনিরহাট জেলা বিএনপি’র সম্পাদক হাফিজুর রহমান বাবলা বলেন, আগামী নির্বাচনে লালমনিরহাট জেলার মানুষ ধানের শীষে ভোট দিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার ভিশন ২০৩০ বাস্তবায়নে সহযোগিতার করবেন।
সম্পাদনা : আ ই (জি-নিউজবিডি২৪ )

সর্বশেষ আপডেট

আরকাইভ

August 2018
T F S S M T W
« Jul    
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031