1. gnewsbd24@gmail.com : admi2019 :
শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২০, ০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন

১০০ টাকার সার সংগ্রহে কৃষকের ৮০ টাকা খরচ

হাসান বশির, বিশ্বম্ভরপুর প্রতিনিধি (সুনামগঞ্জ) :
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২০
  • ১৫ বার পঠিত

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে সার ও বীজ ব্যবসায় অনিয়মের শেষ নেই। বিসিআইসি ও বিএডিসি’র বিধি মানছে না মেসার্স কৃষি বিপনি’র স্বত্বাধিকারী আবুল কালাম আজাদ। বড়দল উত্তর ইউনিয়নের সার ও বীজ ডিলারশীপ গ্রহণ করে ব্যবসা চালাচ্ছে বাদাঘাট উত্তর ইউনিয়নে। অনিয়মের বিষয়টি উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভা ও তদন্তেই পার হয়েছে প্রায় ১০ বছর।

অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার বড়দল উত্তর ইউনিয়নের বিসিআইসি’র সার ডিলার, বিএডিসির বীজ ও সার ডিলার হিসেবে পৈলনপুর গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে আবুল কালাম আজাদ মেসার্স কৃষি বিপনির নামে ৩টি নিয়োগ/লাইসেন্স গ্রহণ করেন।

কৃষি বিভাগের নীতিমালা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে ব্যবসা পরিচালনা করার কথা থাকলেও বেআইনিভাবে প্রায় ১০ বছর যাবত বাদাঘাট উত্তর ইউনিয়নের বাদাঘাট বাজারে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। ফলে বড়দল উত্তর ইউনিয়নের কৃষকরা সার ও বীজ সংগ্রহে অতিরিক্ত পরিবহন খরচ প্রদানসহ নানাভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

কৃষি বিভাগ সুত্রে জানা যায়, জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সিদ্ধান্তনুযায়ী আবুল কালাম আজাদ পরিচালনাধীন মেসার্স কৃষি বিপনী তাহিরপুর উপজেলার বড়দল উত্তর ইউনিয়নে বিসিআইসি’র সার ডিলার হিসেবে ২০০৯ সালের ১৩ ডিসেম্বর নিয়োগ পান। একই ইউনিয়নে পৈলনপুর চকের ঠিকানায় ২০১৪ খ্রিস্টাব্দের ২ অক্টোবর বিএডিসি’র বীজ ডিলার ও ২০১৬ খ্রিস্টাব্দের ১৪ মার্চ উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সিদ্ধান্তনুযায়ী বিএডিসির বীজ সংযুক্ত সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ পান। কাগজে কলমে একই নামে তিনটি ডিলারশীপ গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে ব্যবসা পরিচালনা না করে বাদাঘাট উত্তর ইউনিয়নের বাদাঘাট বাজারে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে ওই ডিলার।

উল্লেখ করা আবশ্যক যে, মেসার্স কৃষি বিপনীর স্বত্বাধিকারী আবুল কালাম আজাদ জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির ১৩/১২/২০০৯ তারিখের রেজুলেশন অনুযায়ী বড়দল উত্তর ইউনিয়নের ডিলার নিয়োগ/অনুমোদন পায়। এরপর ২২/০৪/২০১০ তারিখে ন্যাচারাল গ্যাস ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরী লি: ফেঞ্চুগঞ্জ সিলেটের ডিলারশীপ চুক্তিনামায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজসে মেসার্স কৃষি বিপনী বাদাঘাট বাজার, বড়দল উত্তর ইউনিয়ন ঠিকানা উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে ০২/১০/২০১৪ তারিখে বিএডিসি কর্তৃক বীজ ডিলারের পাস বইয়ে বীজ ব্যবসার কেন্দ্র পৈলনপুর চক, বড়দল উত্তর ঠিকানা ব্যবহার করেন। এরপর ১৪/০৩/২০১৬ তারিখের উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির ৩নং সিদ্ধান্তের আলোকে মেসার্স কৃষি বিপনী বিএডিসি’র বীজ ডিলার হতে সার ডিলারের জন্য বড়দল উত্তর ইউনিয়নে নিয়োগ অনুমোদন পান। পরে কর্মকর্তাদের যোগসাজসে ১৭/১০/২০১৯ তারিখে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের যুগ্ম পরিচালক (সার) এর কার্যালয় সিলেট অঞ্চলের বিএডিসি’র সার ডিলার পাশ বইয়ে ব্যবসার কেন্দ্র বাদাঘাট বাজার ব্যবহার করা হয়।

কৃষকদের অভিযোগ কৃষি বিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজসে নিয়োগকৃত ইউনিয়নে ব্যবসা পরিচালনা না করে পাশর্^বর্তি বাদাঘাট উত্তর ইউনিয়নের বাদাঘাট বাজারে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে সংশ্লিষ্ট ডিলার। বড়দল উত্তর ইউনিয়নে ডিলারের দোকান/গোদাম না থাকায় ইউনিয়নের কৃষকদের সার সংগ্রহে অতিরিক্ত পরিবহন খরচ দিতে হচ্ছে। ফলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

এবিষয়ে জেলা ও উপজেলা কৃষি বিভাগ একাধিকবার অভিযুক্ত ডিলার মেসার্স কৃষি বিপনীর স্বত্বাধিকারী আবুল কালাম আজাদকে দোকানঘর ও গোদামঘর বড়দল উত্তর ইউনিয়নের যেকোন বাজারে স্থানান্তর করার নোটিশ করলেও দোকান ঘর স্থানান্তর করা হয়নি।

এবিষয়ে গত ৩১ জানুয়ারী ২০১৯ খ্রিস্টাব্দের সভায় উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির ১ নং সিদ্ধান্তের আলোকে মেসার্স কৃষি বিপনীকে তার নিয়োগ প্রাপ্ত ইউনিয়নের যেকোন বাজাওে সভার তারিখ থেকে ১লা মার্চ ২০১৯ তারিখের মধ্যে মেসার্স কৃষি বিপনীর সকল ব্যবসা কার্যক্রম স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত প্রদান করা হয়।

উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সিদ্ধান্তের বিষয়ে বড়দল উত্তর ইউনিয়নের পৈলনপুর গ্রামের একটি বাড়ির ভেতরে ঘরের মধ্যে বিসিআইসি’র ওই সার ডিলারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাইন বোর্ড টানিয়ে তার ব্যবসা স্থানান্তর করা হয়েছে মর্মে উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটিকে অবগত করেন।

মেসার্স কৃষি বিপনী’র ব্যবসা কার্যক্রম পৈলনপুর গ্রামের ভেতরে নামে মাত্র স্থানান্তর করায় বড়দল উত্তর ইউনিয়নের কৃষকদের আপত্তি থাকায় কৃষকদের সুবিধা বিবেচনায় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে গত ২৫ জুন ২০২০ খ্রিস্টব্দে মাসিক সভায় বড়দল উত্তর ইউনিয়নের শান্তিপুর বাজার অথবা জনতা বাজাররে ব্যবসা কার্যক্রম স্থানান্তরের সুপারিশ করে জেলা প্রশাসক সুনামগঞ্জ, উপ-পরিচালক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুনামগঞ্জ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাহিরপুর ও উপজেলা কৃষি অফিসার তাহিরপুরকে রেজুলেশন প্রেরণ করেন।

এবিষয়ে বড়দল উত্তর ইউপি’র ৫ নং ওয়ার্ডের সদস্য পুরানঘাট গ্রামের বাসিন্দা কৃষক আবু তাহের, একই গ্রামের কৃষক এনাম তালুকদারসহ অনেকেই বলেন, ১০০ টাকার সার সংগ্রহ করতে যেয়ে ৮০ টাকা পরিবহন খরচ দিতে হচ্ছে। অন্যদিকে বাড়তি সময়ও ব্যয় হচ্ছে।

ব্রাম্মণগাঁও গ্রামের কৃষক আব্দুর রহিম, হাবিজ মিয়া ও আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, আমাদের ইউনিয়নের ডিলার ইউনিয়নে ডিলার বাদাঘাট বাজারে দোকান দেওয়ায় ১বস্তা সার আনতে হলে ১০০ টাকা গাড়ি ভাড়া দিতে হয়। যদি শান্তিপুর বাজারে ডিলারের দোকান বা গোদাম থাকতো তাহলে অতিরিক্ত খরচ লাগতো না।

শান্তিপুর গ্রামের কৃষক মুহিবুর রহমানসহ একাধিক কৃষক বলেন, ইউনিয়নের ডিলারের দোকান ইউনিয়নে না থাকায় বাদাঘাট বাজার থেকে ১বস্তা সার গিয়া ৬০ট্যাকা খরচ যায়। এক ঘন্টা সময়ও লাগে।

এ বিষয়ে ডিলার আবুল কালাম বলেন, বাদাঘাট বাজারে যে ব্যবসা আছে সেটি ভিন্ন। বড়দল উত্তর ইউনিয়নে গোদাম আছে। সেটিই দোকান।
এবিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পদ্মাসন সিংহ জানান, আমি এ উপজেলায় যোগাদনের পর এ কোন বিষয়ে অভিযোগ পাইনি, নীতিমালা না মেনে ব্যবসা পরিচালনা করে থাকলে প্রাথমিকভাবে আমি মৌখিকভাবে ওই ডিলারকে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে ব্যবসা স্থানান্তরের জন্য বলবো। যদি ব্যবসা সরিয়ে না নেয় তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এবিষয়ে কৃষি কর্মকর্তা হাসান উদ দৌলা জানান, ওই ডিলারের গোদাম পৈলনপুরে আছে। তার ব্যবসাটি বাদাঘাট বাজারে পরিচালনা না করে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে স্থানান্তরের জন্য বলে দেওয়া হবে। অন্যতায় কৃষি বিভাগের বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন সিলেট অঞ্চলের যুগ্ম পরিচালক (সার) রবীন্দ্র কুমার সিংহ জানান, বিষয়টি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের, আমরা শুধু সার প্রদান করে থাকি। বরাদ্দপত্র কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে আসে। বরাদ্দপত্র বা বরাদ্দ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা ডিলারের নিজ ইউনিয়ন ছাড়া অন্য কোন ইউনিয়নের বা স্থানের ঠিকানা ব্যবহার করলে এ দায় আমাদের নয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

© All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451