1. gnewsbd24@gmail.com : admi2019 :
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০২:৪০ অপরাহ্ন

তানোরে নন এমপিও শিক্ষকদের চরম মানবেতর জীবন যাপন

আব্দুস সবুর, তানোর প্রতিনিধি :
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২০
  • ৭৭ বার পঠিত

রাজশাহীর তানোরে নন এমপিও স্কুল কলেজ মাদ্রাসার অন্তত ৩৬০ জন শিক্ষক চরম মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তাঁরা না পারছেন ত্রান নিতে না পারছেন চাইতে। করোনাভাইরাসের চেয়েও মহা সঙ্কটে পরিবার নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছেন। কিন্তু এসব মানুষগড়ার কারিগরদের পাঁশে কেউ কোন ধরনের সাহায্য দেয়নি। তারাও সাহায্যের জন্য হাত পাততে পারছেন না। তাদের এখন পরিবার নিয়ে বেচে থাকায় কষ্ট কর হয়ে পড়েছে বলে একাধিক শিক্ষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

জানা গেছে উপজেলায় ১২টি উচ্চ নিম্ম মাধ্যমিক ৬টি, মাদ্রসা ৯টি ও কারিগরি কলেজ ১টি এবং কলেজ ৩টি বিগত ১০ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত বিনা বেতনে পাঠ দিয়ে যাচ্ছেন এসব নন এমপিও শিক্ষকরা। আবার অনেকে প্রাইভেট কোচিং করিয়ে কোন ভাবে দিন পার করে আসছিল। কিন্তু মহামারী করোনাভাইরাসের কারনে গত ২৬ মার্চ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটি ঘোষণা করে সরকার।

দিনের দিন করোনা রোগীর সংখ্যা যখন হুহু করে বেড়েই যাচ্ছে এজন্য ছুটির মেয়াদও দীর্ঘ হচ্ছে। যার কারনে এসব নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩৫৭জন শিক্ষক পড়েছেন করোনার চেয়েও মহা দুর্যোগে।মোহাম্মাদপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের রেজাউল ইসলাম জানান এই দুর্যোগে আমাদের পাশে কেউ নেই। এমনকি কোন প্রতিনিধি বা প্রশাসনের লোকেরা আমাদের ব্যাপারে কোন খোঁজ খবর নিচ্ছেনা। আমরা আর দশ জনের মত লাইনে দাড়িয়েতো ত্রান নিতে পারিনা।

সরকার বারবার বলছে যারা ত্রান চাইতে পারছেনা তাদের ঘরে পৌছে দিতে বলছে । কিন্তু দুঃখের বিষয় এত দিন হয়ে গেলেও আমরা কিছুই পায়নি। কৃষ্ণপুর বায়তুল আমান মাদ্রাসার সুপার আজহার জানান বিগত প্রায় ১৭/১৮ বছর ধরে বিনা বেতনে পাঠ দান দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের মাদ্রসার ফলাফলও ভালো। অথচ এমপিও না হবার কারনে শিক্ষকরা চরম মানবেতর জীবন যাপন করছেন।নন এমপিও শিক্ষকরা অর্ধাহারে অনাহারে পরিবার নিয়ে দিন যাপন করছেন।

ওই মাদ্রাসার বিএসসি শিক্ষক এবাদত জানান প্রাইভেট পড়িয়ে কোন ভাবে খেয়ে পরে বেচে ছিলাম, সাথে কোচিং সেন্টারে পড়িয়ে যা পেতাম সেটা দিয়ে বেচে থাকার পথ ছিল। কিন্তু করোনার জন্য সব কিছু বন্ধ হয়ে পড়েছে। এখন পরিবার নিয়ে দিন পার করায় কষ্টকর হয়ে পড়েছে।বেশ কিছু শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন ত্রানের জন্য কৃষি ব্যাংকে একাউন্ট খোলা হয়েছে। এমপিও ভুক্ত শিক্ষক সমিতি সে হিসাব নম্বরে ২ লাখ টাকা দিবেন। কিন্তু তাদের কথামত আমরাও তো গাইড দিয়ে থাকি শিক্ষার্থীদের। তাহলে আমাদের এসব শিক্ষকদের চলারমত কিছু অনুদান দিলেও দিতে পারে। এসব মানুষিকতাঁর ব্যাপার। ইচ্ছে থাকলে সবই হয়।

ঝিনাখোর নিম্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মতিউর রহমান বলেন এই মহামারীর সময়ও যদি আমাদের পাশে কেউ না দাড়াই তাহলে তো বলার মত কিছুই নেই। বিনা বেতনে পাঠদান দিয়ে আসছি। আমি নন এমপিও শিক্ষক সমিতির সভাপতি । কিন্তু এই সময় সমিতির শিক্ষকদের জন্য কিছুই করতে পারছিনা।নিজের অবস্থায় মারাত্মক।

এনিয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আমিরুল ইসলাম বলেন আমি বিষয়টি নিয়ে নির্বাহী স্যারের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে একটা ব্যবস্থা করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুশান্ত কুমার মাহাতোর মোবাইলে যোগাযোগ করে বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করা হলে তিনি জানান দেখা যাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451