1. gnewsbd24@gmail.com : admi2019 :
শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২০, ১০:১৬ পূর্বাহ্ন

খুলনা ডুমুরিয়ায় বাঁশ-বেতের কাজ করে জীবন চলে তাদের

গাজী যুবায়ের আলম, ব্যুরো প্রধান, খুলনা ঃ
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২০
  • ৭ বার পঠিত

অন্যান্য গ্রামের মতোই সুবজ শ্যামল একটি গ্রাম গোলনা। খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলা সদরে এ গ্রাম। খুলনা-সাতক্ষীরা সড়ক ধরে এ পথে যেতে সড়কের পাশে নজর কাড়ে বাঁশ-বেত দিয়ে শৌখিন পণ্য তৈরির কারিগরেরা। রাস্তার পাশে বিভিন্ন বয়সী পুরুষেরা এ কাজ করছে। গ্রামবাসী তাদের ঋষি সম্প্রদায় হিসেবে চেনে বলেই এ এলাকার স্থানীয় নাম দাসপাড়া বা ঋষিপাড়া।

এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে বহু দূর-দূরান্ত থেকে বাঁশ-বেত কিনে এনে সেগুলো দিয়ে নানা রকম জিনিস পত্র তৈরি করে তারা। সেগুলো দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে পাইকারদের কাছে বিক্রি করে। স্থানীয় বাজারগুলোতে খুচরা বিক্রিও করে। এক সময় এখানে বেত দিয়ে ধান মাপার পালা, ধামা, সের, ঢোল বানাতেন আর বাঁশ দিয়ে বানাতেন, ঢালা, কুলা, চালনি, পানডালা, ধানের গোলা, বিভিন্ন ধরণের ঝুঁড়ি, চাটাই, খেলনা, কলমদানি, ফুলদানি, গাছের ঝাকা, হাংকোড়ো, গরুর ঠুসি, বাঁশি, তরকারির ঢাকনা। দিন গড়াতে থাকে।

আধুনিক মানুষের কাছে কুলার, পালা, ধামার ব্যবহার কমতে থাকে। চলে আসে প্লাস্টিক, ধাতব জিনিসের ব্যববহার। বাধ্য হয়েই এ পাড়ার লোকেরা ঝোঁকে শৌখিন পণ্য নির্মাণে। কিন্তু এখন বাঁশ পাওয়া গেলেও বেতের নাগাল পাওয়া যায়না কোথাও। ডোবা, নালা, খাল, বিল ও পুকুর ভরে গেছে অট্টালিকায়। ঋষি সম্প্রদায়ের লোকদের তেমন ধানের জমি নেই বা বাপ-দাদার অর্থনৈতিক অবস্থাও সচ্ছলতা নেই। কিন্তু জীবন তো বাঁচানো লাগবে। তাই সমায়ের সাথে তাল মিলিয়ে মাথার বুদ্ধিটাকে কাজে লাগায় এ মানুষগুলো। পন্যের ধরণ পরিবর্তন করে।

এ এলাকায় ৫৫টি ঋষি পরিবার রয়েছে, যারা সবাই কোন না কোন ভাবে বাঁশ-বেতের কাজের সাথে জড়িত। পাশের পাড়ায়ও রয়েছের আরও প্রায় ১শ পরিবার। যেখানকার নারী-পুরুষেরা বাড়িতে বসে এসব কাজ কয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আবার অনেকেই বাড়তি আয় করে। বংশ পরম্পরায় আজও এ কাজে জীবীকা নির্বাহ করছে এ এলাকার কালিদাস মনু। ছোট বেলায় খেলার ছলে কখন যে এ কাজ শিখে নিয়েছে তা নিজেই জানে না। যে কাজ ৩০ বছরের অধিক সময় ধরে সংসারের ঘাণি টানছে।

নিজে কোন রকম নাম লিখতে পারলেও তার মেয়ে এখন স্থানীয় কলেজে পড়ে আর ছেলেও পড়ে স্কুলে। কালিদাস মনু জানান, এখন আর এ কাজে তেমন পয়সা হয় না। কিন্তু কি করবো। বাপ-দাদার পেশা। ছাড়তেও পারি না। আবার নিজে পড়লেখা জানি না। কৃষি কাজ করবো, তেমন জমিও নেই। মাঝে মধ্যে বড় বড় অর্ডার আসে। তখন এলাকায় যারা যারা কাজ করে, তাদের সকলকে কাজ দেই। যা লাভ হয়, সবাই ভাগ করে নেই। একই এলাকার পাচু দাসের পৈত্রিক পেশা বাঁশ-বেতের কাজ। তিনিও ৩৫ বছরের অধিক সময় ধরে এ পেশায় রয়েছে।

তিনি জানান, কি করবো। অন্য কাজতো শিখিনাই। বাকী জীবনটা এই কাজ করে যাবো। উপজেলার সদর এলাকার কৃষক মো. সিরাজুল ইসলাম খান জানান, গাছ লাগানোর পরে ভয় থাকে গরু-ছাগলে খেয়ে ফেলে কিনা। সে জন্য বাঁশের খাচা দিয়ে রাখলে ভাল হয়। তাছাড়া গরুর মুখে ঠুসি দিয়ে রাখলে অন্যের ফসলে মুখ দিতে পারে না। এ এলাকা শুধু নয়। এ পাড়ার বাঁশ-বেতের পণ্য খুলনা জেলাসহ আশপাশের এলাকায়ও যায়। এখনো এ পণ্যের চাহিদা রয়েছে। তবে দিন দিন এ বাঁশ-বেতের পন্য হারিয়ে যাচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

© All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451