1. gnewsbd24@gmail.com : admi2019 :
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০, ০৯:৪৬ অপরাহ্ন

গাংনীতে সরকারী বাসগৃহ পেলো সম্পদশালীরা

মজনুর রহমান আকাশ, মেহেরপুর প্রতিনিধি :
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২০
  • ২৪ বার পঠিত

মেহেরপুরের গাংনীতে ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে গ্রাামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় গৃহহীণদের দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ পেয়েছেন বিত্ত্বশালীরা। জমি আছে ঘর নাই এমন দরিদ্র ও অসহায় শ্রেণীর মানুষ উপকারভোগ করার কথা থাকলেও ক্ষমতাসীন দলের আস্থাভাজন হওয়ায় দুস্থদের তালিকায় চলে এসেছে বিত্তবানদের নাম। উপজেলা প্রশাসন বলছেন, চেয়ারম্যানদের তালিকা অনুযায়ি ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কোন অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গাংনী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সুত্রে জানা গেছে, ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে গ্রাামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় গৃহহীণদের দুর্যোগ সহনীয় ৮৯ টি বাসগৃহ নির্মাণের জন্য ২৬ কোটি সাত লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। জমি আছে ঘর নাই এমন দরিদ্র ও অসহায় শ্রেণীর মানুষ নামের তালিকা চাওয়া হয় বিভিন্ন ইউপি চেয়ারম্যানদের কাছে। তাদের দেয়া তালিকা অনুযায়ি ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়।

তালিকা অনুযায়ি সরেজমিনে দেখা গেছে, সাহারবাটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য জোড়পুকুরিয়া গ্রামের সাহাবুদ্দিনকে ৩ লাখ টাকার দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শাহাবুদ্দিন জানান, কয়েক মাস আগে বাজারে একটি গোডাউনসহ জমি ক্রয় করেন যার আনুমানিক মূল্য ৪০ লক্ষ টাকা, মাঠের জমি ক্রয় করেন ১২ লক্ষ টাকায়, মাছ চাষ করার জন্য তার তিনটি পুকুর রয়েছে। মাঠে প্রায় ১০-১২ বিঘা আবাদি জমি রয়েছে।

মেহেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান খোকনের আস্থাভাজন হওয়ায় এবং তার নির্দেশে সরকারি ঘর দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন।

বর্তমান ইউপি সদস্য সাহাব উদ্দিন জানান, চেয়ারম্যান মহোদয় তাকে এই প্রকল্পের পিআইসি করতে চেয়েছিলেন। সচ্ছল ব্যক্তিকে সরকারী ঘর দেওয়ার পক্ষে না তাই তিনি পিআইসি হননি। জোড়পুকুর গ্রামের মকলেছুর রহমার স্বপন বিশ্বাস বলেন, সাবেক ইউপি সদস্য অবস্থাশালী মানুষ। তার সম্পদের অভাব নেই। মাঠে আবাদ আছে। তার নামে সরকারী ঘর বরাদ্দ খুবই দুঃখজনক।

সাহারবাটি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক হোসেন জানান, এমপি সাহিদুজ্জামান খোকনের বিশেষ আবদারের কারণে সাহাবুদ্দীনকে ঘর দেয়া হয়েছে। তবে মাঠের জমিজমা ও ব্যাবসা আছে বলে স্বীকার করেন।

উপজেলার বামন্দী ইউপির তেরাইল গ্রামের বাগান পাড়ার মৃত হারেজ উদ্দীনের ছেলে বাহার আলীকে সরকারী ঘর। বাহার আলীও বিত্ত্বশালী। তার ৪ বিঘা ধানী জমি আছে। একই ভাবে ষোলটাকা ইউপির সহড়াবাড়িয়া গ্রামের শ্রীমতী দীপু রানীর পাকা বাড়ি থাকলেও দেয়া হয়েছে সরকারী ঘর। একই ইউপির আমতৈল গ্রামের ছকিনা খাতুনের নামে ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়। চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার হাটুভাঙ্গা গ্রামে তার বাড়ি হলেও চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামানের অনুগত হওয়ায় সরকারী ঘর পেয়েছেন তিনি।

ষোলটাকা ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনি জানান, হাটুভাঙ্গা ও আমতৈল গ্রাম পাশাপাশি। আগে আমতৈল গ্রামের মধ্যে বসবাস করায় তিনি ঘর পেয়েছেন। একজন গরীব মানুষ তার প্রতি অবিচার করা হয়নি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তা নিরঞ্জন চক্রবর্তী জানান, এই ঘরগুলো সকল ইউনিয়ন পরিষদের রেজুলেশনের মাধ্যমে তালিকা পেয়ে মেহেরপুরে পাঠিয়ে দেয়া হয়। জেলা থেকে অনুমোদন হয়ে আসলেই আমরা কাজ শুরু করে দিই।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451