1. gnewsbd24@gmail.com : admi2019 :
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০২:১৮ অপরাহ্ন

গাংনী; ঘরজামাই হতে চাচ্ছেন না কেউ

মজনুর রহমান আকাশ, মেহেরপুর প্রতিনিধি :
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২০
  • ২৩ বার পঠিত

একসময় মেহেরপুরের গাংনীর চৌগাছা শিশিরপাড়া ও গাড়াডোব গ্রামে ঘরজামাই প্রথাটি চালু থাকলেও এখন সেটি বিলুপ্তির পথে। আগের মতো কেউ আর শশুর বাড়িতে আশ্রিত হতে চান না। আবার অনেক মেয়েরা স্বামীসহ পিতার বাড়িতে অবস্থান করতেও লজ্জ্বা বোধ করেন। ফলে ঘর জামাই প্রথাটি শুধু কাগজ কলমেই শোভা পাচ্ছে।

প্রচলিত অর্থে ‘ঘরজামাই’ বলতে শ্বশুরবাড়িতে আশ্রিত এমন একজনকে বোঝায়। গাংনীর চৌগাছা শিশিরপাড়া ও গাড়াডোব গ্রামে ১৯৮০ সালের দিকে মেয়ের বিয়ে দিয়ে ঘরজামাই আনার প্রবণতা বাড়ে। সে সময় এখানে লোক সংখ্যা ছিলো কম। নিজেদের সম্পদ দেখভাল করার জন্য অনেকেই মেয়ে বিয়ে দিয়ে জামাতাকে বাড়িতে রাখতেন।

আদুরে মেয়ে জামাতাকে নিয়ে সুখে থাকবে। থাকবে না কোন গঞ্জনা। অপরদিকে নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা একজন কর্মঠ ছেলে পেলেও তার সাথে মেয়ে বিয়ে দিয়ে জামাতাকে বাড়িতে রেখে দিতো। এভাবেই বেড়ে যায় ঘরজামাইদের সংখ্যা।

একের পর এক বিয়ে আর ঘর জামাই রাখার কারণে গ্রাম তিনটি ঘর জামাইদের গ্রাম হিসেবে পরিচিতি পেয়ে যায়। তবে ঘরে বসে খাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়ে যায় জামাতাদের মধ্যে। ফলে শশুর শাশুড়িসহ অন্যান্যরা আর তাদেরকে ভাল চোখে দেখতো না। শশুরবাড়ির লোকজনের অত্যাচারে এলাকার ঘর জামাইরা ২০০৩ সালে একটা কমিটি গঠন করে।

সেসময় ঘর জামাইদের সভাপতি রহিম বক্স ও সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন সামজেদ আলী। ওই বছরের ২৮ অক্টোবর ঘর জামাই কমিটির পক্ষ থেকে মেহেরপুর জেলা প্রশাসক বরাবর বিভিন্ন দাবী উত্থাপন করে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। শুধু স্মারকলিপি নয়, নানা রকম আন্দোলন করেও গঞ্জনা থেকে রক্ষা পায়নি তারা।

২০১১ সালের গোড়ার দিকে ঘর জামাই কমিটির নির্বাচনে সভাপতি হন সেকেন্দার আলী ও সম্পাদক নির্বাচিত হন মহিদুল। সে সময়ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রস্তুতি নেয়া হয়। কিন্তু নানা কারণে সে আন্দোলনে সাফলতা আসেনি। পরে অনেকেই শশুর বাড়ি ছেড়ে যান নিজের বাড়ি। আবার অনেকেই নিজের পরিশ্রমে ঘরবাড়ি তৈরী করে ঘর জামাই নামটি ঘোচাতে চেয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ঘর জামাই জানান, লোকে বলে ‘শ্বশুরবাড়ি মধুর হাঁড়ি’ আর আমি বলি ‘শ্বশুরবাড়ি বউয়ের ঝাড়ি।’ সকালে ঘুম ভাঙে বউয়ের বকুনি শুনে। বাজার করা, কাপড় কাচা এমনকি শালীদের মাথা আঁচড়ে উঁকুন মারার কাজটা করেও কারো মন পাওয়া যায় নি। স্বামী স্ত্রীর চার দেয়ালের মাঝে ঘটে যাওয়া ঘটনাতো বলা মুশকিল।

ঘরজামাই ও ধানখোলা ইউপি চেয়ারম্যান আখেরুজ্জামান জানান, তিনি ১৯৯০ সালে বিয়ে করে ঘর জামাই হিসেবে গাড়াডোব চলে আসেন। তখন থেকে শাশুড়ির সংসারের সব দায়িত্ব পালন করেন। সে থেকেই দীর্ঘদিন মেম্বর ও সর্বশেষ ২০১৭ সালে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন। তিনি আরো জানান, ঘর জামাইকে যেমন শশুর বাড়ির লোকজন ভাল চোখে দেখে না তেমন বাবা মায়ের সাথেও এদের সম্পর্ক ভাল থাকে না। এখনকার ছেলে মেয়েরা অনেক সচেতন তাই কেউ আর ঘর জামাই থাকতে চান না।

কয়েকজন জানান, এমনিতেই জামাতারা শশুর বাড়ি থাকতে বেশি পছন্দ করে তার উপর ঘর জামাই। ঘর জামাইরা বেশ তীক্ষè বুদ্ধি সম্পন্ন । এরা স্থানীয় লোকজনদের সাথে মিশে কীভাবে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে হয় এবং কিভাবে শালা শালিকে অধিকার বঞ্চিত করা যায় তার চেষ্টা করে। কোন কাজ না করে শুধু বসে খায়। কাজ তো করেই না আবার স্ত্রীকে নির্যাতন করে।

ঘরজামাই না হয়েও ঘর জামাই কমিটির আহবায়ক ছিলেন দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার গাংনী প্রতিনিধি আমিরুল ইসলাম অল্ডাম। তিনি জানান, আগে ঘর জামাইরা বেশ নির্যাতনের স্বীকার ছিল। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে তারা মানব বন্ধন আন্দোলন ও স্বারকলিপি দিয়েছেন বিভিন্ন দপ্তরে।

কিন্তু কোন প্রতিকার না পাওয়ায় কমিটি ভেঙ্গে দেন এবং কাজের সন্ধান করেন। এখন সবাই কর্মঠ হওয়ায় বৌ, শশুর শাশুড়ি মন্দ কথা বলে না। অনেকেই নিজে বাড়ি করে শশুরবাড়ি ছেড়েছেন। তবে নতুন করে ঘরজামাই হয়েছে এমন কোন খবর নেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451