1. gnewsbd24@gmail.com : admi2019 :
শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২০, ০৯:০৪ পূর্বাহ্ন

রডের বদলে বাঁশ॥ প্রকাশ্যে ভবন ভেঙ্গে বাঁশ সরিয়ে নিলেন

আব্দুল্লাহ আল নোমান, আমতলী প্রতিনিধি ( বরগুনা) :
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২০
  • ৩ বার পঠিত

রডের বদলে বাঁশের কঞ্চি (টুনি) দিয়ে আমতলী উপজেলার বৈঠাকাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওয়াস ব্লক নির্মণ করেছে সাবেক ছাত্রলীগ আহবায়ক ঠিকাদার নুরুজামাল। এ খবর এলাকায় ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঠিকাদার প্রকাশ্যে তার লোকজন দিয়ে ভবন ভেঙ্গে বাঁশের কঞ্চি সরিয়ে নিয়েছেন।

ভবন ভেঙ্গে বাঁশের কঞ্চি সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখেছেন বিদ্যালয় এলাকার শত-শত মানুষ । স্থানীয়রা রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ওয়াস ব্লক নির্মাণকারী ঠিকাদার নুরজামালকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দাবী করেছেন।

জানাগেছে, উপজেলা জণস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর আমতলীর বৈঠাকাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওয়াস ব্লক নির্মাণের জন্য ২০১৫ সালে দরপত্র আহবান করে। ৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ওই কাজ পায় আমতলী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক ঠিকাদার নুরজামাল। ব্লক নির্মাণের শুরুতেই নি¤œমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ শুরু করেন তিনি।

কাজের শুরুতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এতে বাঁধা দেয়। কিন্তু বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বাঁধা উপেক্ষা করে প্রভাব খাটিয়ে ঠিকাদার নুরজামাল কাজ করেন। তার ভয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কাজ দেখভাল করতে পারেনি। তৎকালিন উপজেলা জণস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মোঃ রেজাউল করিমের সাথে আতাত করে ঠিকাদার নিজের ইচ্ছা মাফিক রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি (টুনি) দিয়ে ওয়াস ব্লক নির্মাণ করেছেন। ২০১৭ সালে ওই কাজ শেষ হয়।

ওই সময়ে বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মোসাঃ সুলতানা রাজিয়ার কাছে প্রত্যায়ন চায়। কিন্তু কাজের মান ভালো না হওয়ায় তিনি প্রত্যায়ন দেয়নি এমন দাবী প্রধান শিক্ষকের। ওয়াস ব্লক নির্মাণের তিন বছরের মাথায় লেন্টিন ও ওয়ালে ফাটল ধরে। ওই ফাটল মেরামতের জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস এ বছর বিশ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়।

শনিবার ওই ওয়াস ব্লকের মেরামতের কাজ শুরু করেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। রাজ মিস্ত্রি সুলতান হাওলাদার কাজের শুরু করলেই মুহুর্তের মধ্যে ওয়াস ব্লকের লেন্টিন ও ওয়াল ভেঙ্গে পড়ে। এরপরই লেন্টিন থেকে বেড়িয়ে আসে রডের বদলে বাঁশের কাঞ্চি। তাৎক্ষনিক রাজ মিস্ত্রি সুলতান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও স্থানীয়দের খবর দেন।

প্রধান শিক্ষক রড়ের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি দেখে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মজিবুর রহমানকে জানায়। রবিবার বিকেলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মজিবুর রহমান বিদ্যালয় ভাঙ্গা ওয়াস ব্লক পরিদর্শন করেন। খবর পেয়ে উপজেলা জণস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মোঃ তরিকুল ইসলাম ও ঠিকাদার নুরজামাল গিয়ে ভাঙ্গা ওয়াস ব্লক থেকে বাঁশের কঞ্চির লেন্টিন ও কঞ্চি সরিয়ে ফেলেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। এ সময় স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়েন তারা।

এ খবর বিভিন্ন মহল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মঙ্গলবার ঠিকাদার নুরজামাল নিজেকে আড়াল করতে নিজে দাড়িয়ে থেকে তার লোকজন দিয়ে ওয়াস ব্লকের অবশিষ্টাংশ ভেঙ্গে বাঁশের কঞ্চি বের করে নিয়ে যায়। ঠিকাদারের এমন দৃশ্য অবলোকন করেছেন স্থানীয় শত-শত মানুষ। তারা ঠিকাদার নুরজামালের বিচার দাবী করেছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখাগেছে, ঠিকাদার নুরজামাল ওয়াস ব্লকের লেন্টিন ভেঙ্গে বাঁশের কঞ্চি সরিয়ে ফেলার পরে নির্মাণ সামগ্রী ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। এখনও লেন্টিনের মধ্যে রডের বদলে বাঁশের কাঞ্চি দেয়া আছে।

স্থানীয় মুরাদ খান, দেলোয়ার হোসেন ও এনামুল খাঁন বলেন, ঠিকাদার নুরজামাল নিজে দাড়িয়ে থেকে তার লোকজন দিয়ে ওয়াস ব্লকের অবশিষ্টাংশ ভেঙ্গে বাঁশ বের করে নিয়ে গেছে। ঠিকাদারের এমন অপকর্মের বিচার দাবী করছি।

বিদ্যালয় দফতরি মোঃ শাওন খলিফা বলেন, প্রকৌশলী মোঃ তরিকুল ইসলাম ও ঠিকাদার নুরজামাল এসে বাঁশ দিয়ে নির্মাণ করা ভেঙ্গে পড়া লেন্টিন সরিয়ে ফেলেছে। আমি নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা শুনেনি। পরে গোপনে আমি ভাঙ্গা লেন্টিনের দুইটি টুকরো লুকিয়ে রেখেছি।

রাজ মিস্ত্রি মোঃ সুলতান হাওলাদার বলেন, মেরামতের কাজ শুরু করা মাত্রই ওয়াস ব্লকের লেন্টিন ও ওয়াল ভেঙ্গে পরেছে। পরে দেখতে পাই লেন্টিনের মধ্যে রাশের কাঞ্চি। তিনি আরো বলেন, ধারনা করা হচ্ছে ওয়াস ব্লকের ছাদ ঢালাইয়ে রডের বদলে বাশের কঞ্চি ব্যবহার করেছে।

বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মোসাঃ সুলতানা রাজিয়া বলেন, ঠিকাদার নুরজামাল নিজেকে রক্ষায় নিজে দাড়িয়ে থেকে তার লোকজন দিয়ে ওয়াস ব্লক ভেঙ্গে বাঁশের কঞ্চি বের করে নিয়ে গেছেন। আমি তাকে নিষেধ করেছি কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ভবন ভাঙ্গতে পারেন না কিন্তু তিনি আমার কথা শুনেনি।
ঠিকাদার নুরজামাল রডের পরিবর্তে বাঁশ দিয়ে ওয়াস ব্লক নির্মাণের কথা অস্বীকার করে বলেন, আমাকে ফাসানোর জন্য ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, নতুন করে মেরামতের জন্য ওয়াস ব্লক ভেঙ্গেছি।

আমতলী উপজেলা জণস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মোঃ তরিকুল ইসলাম বলেন, ভবন ভেঙ্গে বাঁশ বের করে নিয়ে গেছে তা আমার জানা নেই। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আমতলী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মুজিবুর রহমান বলেন, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঠিকাদার রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ওয়াস ব্লক নির্মাণ করেছে। আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা পারভীন বলেন, আমি শুনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

© All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451