1. gnewsbd24@gmail.com : admi2019 :
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, ০১:০৫ পূর্বাহ্ন

জুলাই মাসের সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩৫৬ এবং আহত ৩৪১

জি-নিউজবিডি২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২০
  • ২৬ বার পঠিত

গত জুলাই মাসে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ২৯৩ টি। নিহত ৩৫৬ জন এবং আহত ৩৪১ জন। নিহতের মধ্যে নারী ৬৪, শিশু ৩৫। এককভাবে মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় বেশি প্রাণহানি ঘটেছে। ১০৭ টি মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ৯৮ জন, যা মোট নিহতের ২৭.৫২ শতাংশ। মোটর সাইকেল দুর্ঘটনার হার ৩৬.৫১ শতাংশ। দুর্ঘটনায় ৮৪ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২৩.৫৯ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৫৩ জন, অর্থাৎ ১৪.৮৮ শতাংশ।

এই সময়ে ১৬ টি নৌ-দুর্ঘটনায় ২৭ জন নিহত এবং ২১ জন নিখোঁজ হয়েছেন। ৪ টি রেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪ জন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ৭টি জাতীয় দৈনিক, ৫টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ইলেক্টনিক গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।
দুর্ঘটনায় ট্রাক যাত্রী ১৮, বাস যাত্রী ১৪, পিকআপ যাত্রী ৯, কাভার্ডভ্যান যাত্রী ৪, মাইক্রো যাত্রী ৫, প্রাইভেটকার যাত্রী ২৩, এ্যাম্বুলেন্স যাত্রী ৩, ট্রলি যাত্রী ৬, লরি যাত্রী ২, সিএনজি যাত্রী ২২, ইজিবাইক-অটোরিকশা যাত্রী ২০, নসিমন-করিমন যাত্রী ১৩, ভটভটি-আলমসাধু-মাহিন্দ্র যাত্রী ৯, রিকশা ও রিকশাভ্যান যাত্রী ১১, লেগুনা যাত্রী ৭, টমটম ১, পাওয়াটিলার ২ এবং বাই-সাইকেল আরোহী ৫ জন নিহত হয়েছেন।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, নিহতদের মধ্যে শিক্ষক ৭ জন, চিকিৎসক (ঢাকা মেডিকেল) ১ জন, সেনা সদস্য ১ জন, পুলিশ সদস্য ৪ জন, রেলওয়ে পুলিশ ১ জন, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ১ জন, স্বাস্থ্যকর্মী ২ জন, সাংবাদিক ৩ জন, এনজিও কর্মকর্তা/কর্মী ৭ জন, ইউপি সদস্য ১ জন, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ৬ জন, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের নিরাপত্তারক্ষী ১ জন, সরকারি চাকরিজীবী ৮ জন, স্থানীয় ব্যবসায়ী ২১ জন, পোশাক শ্রমিক ১৩ জন, পাটকল শ্রমিক ১ জন, চা শ্রমিক ১ জন, প্রবাসী শ্রমিক ২ জন এবং শিক্ষার্থী ৩৯ জন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১১৬ টি (৩৯.৫৯%) জাতীয় মহাসড়কে, ৯৮ টি (৩৩.৪৪%) আঞ্চলিক সড়কে, ৪৮ টি (১৬.৩৮%) গ্রামীণ সড়কে এবং ৩১ টি (১০.৫৮%) শহরের সড়কে সংঘটিত হয়েছে।

দুর্ঘটনাসমূহের মধ্যে ৭২ টি (২৪.৫৭%) মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৭৮ টি (২৬.৬২%) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ৮৬ টি (২৯.৩৫%) পথচারীকে চাপা/ধাক্কা, ৪৩ টি (১৪.৬৭%) যানবাহনের পেছনে আঘাত এবং ১৪ টি (৪.৭৭%) অন্যান্য কারণে ঘটেছে।

দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে দায়ী- ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ ২৬.৯৩ শতাংশ, ট্রাক্টর-ট্রলি-লরি ৩ শতাংশ, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-এ্যাম্বুলেন্স-জীপ ৬.৭৩ শতাংশ, যাত্রীবাহী বাস ১৩.২১ শতাংশ, মোটর সাইকেল ২৬.৬৮ শতাংশ, থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-লেগুনা) ৮.৭২ শতাংশ, নসিমন-করিমন-ভটভটি-আলমসাধু-মাহিন্দ্র ৭.৭৩ শতাংশ, রিকশা-বাইসাইকেল ৪.৪৮ শতাংশ এবং অন্যান্য (টমটম, পাওয়ারটিলার, ভ্যামপার বাস, হ্যালো বাইক, ষোল চাকার লং ভেহিক্যাল ও কন্টেইনার ট্রাক) ২.৪৯ শতাংশ।

দুর্ঘটনায় আক্রান্ত যানবাহনের সংখ্যা ৪০১ টি। (ট্রাক ৭৮, বাস ৫৩, কাভার্ডভ্যান ১১, পিকআপ ১৯, লরি ৩, ট্রলি ৫, ট্রাক্টর ৪, মাইক্রোবাস ৭, প্রাইভেটকার ১৭, এ্যাম্বুলেন্স ৩, র‌্যাবের জীপ ১, কন্টেইনার ট্রাক ১, ষোল চাকার লং ভেহিক্যাল ১, ভ্যামপার বাস ১, হ্যালো বাইক ২, পাওয়ারটিলার ৩, মোটর সাইকেল ১০৭, বাই-সাইকেল ৫, নসিমন-করিমন-ভ্যানগাড়ি ১৬, ভটভটি-আলমসাধু-মাহিন্দ্র ১৫, ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-লেগুনা ৩৫, টমটম ১ এবং রিকশা ১৩ টি।

সময় বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনাসমূহ ঘটেছে ভোরে ৯.২১%, সকালে ৩০.৩৭%, দুপুরে ১৮.৪৩%, বিকালে ১৫.৬৯%, সন্ধ্যায় ৯.৮৯% এবং রাতে ১৬.৩৮%।

দুর্ঘটনার বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকা বিভাগে ২৩.৮৯%, রাজশাহী বিভাগে ১৫.০১%, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৪.৬৭%, খুলনা বিভাগে ৯.৫৫%, বরিশাল বিভাগে ৮.৮৭%, সিলেট বিভাগে ৮.৫৩%, রংপুর বিভাগে ৯.২১% এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১০.২৩% দুর্ঘটনা ঘটেছে।
বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। ৭০ টি দুর্ঘটনায় ৭৬ জন নিহত। কম খুলনা বিভাগে। ২৮ টি দুর্ঘটনায় নিহত ২৭ জন। একক জেলা হিসেবে ময়মনসিংহে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। ১৬ টি দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত। সবচেয়ে কম মৌলভীবাজারে। ২ টি দুর্ঘটনায় ১ জন নিহত।

সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণসমূহ:
১. ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন; ২. বেপরোয়া গতি; ৩. চালকদের অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা; ৪. বেতন-কর্মঘন্টা নির্দিষ্ট না থাকা; ৫. মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল; ৬. তরুণ-যুবদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো; ৭. জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা; ৮. দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা; ৯. বিআরটিএ’র সক্ষমতার ঘাটতি; ১০. গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজি।

সুপারিশসমূহ:
১. দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বৃদ্ধি করতে হবে; ২. চালকদের বেতন-কর্মঘন্টা নির্দিষ্ট করতে হবে; ৩. বিআরটিএ’র সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে; ৪. পরিবহন মালিক-শ্রমিক, যাত্রী ও পথচারীদের প্রতি ট্রাফিক আইনের বাধাহীন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে; ৫. মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন বন্ধ করে এগুলোর জন্য আলাদা রাস্তা তৈরি করতে হবে; ৬. পর্যায়ক্রমে সকল মহাসড়কে রোড ডিভাইডার নির্মাণ করতে হবে; ৭. গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে; ৮. রেল ও নৌ-পথ সংস্কার করে সড়ক পথের উপর চাপ কমাতে হবে; ৯. টেকসই পরিবহন কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে; ১০. “সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮” এর সুষ্ঠু প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

মন্তব্য: গত জুন মাসের তুলনায় জুলাই মাসে সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি উভয়ই সামান্য কমেছে। জুন মাসে ২৯৭ টি দুর্ঘটনায় ৩৬১ জন নিহত হয়েছিলেন। এই হিসাবে জুলাই মাসে দুর্ঘটনা ১.৩৬% এবং প্রাণহানি ১.৪০% কমেছে। দুর্ঘটনায় ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী কর্মক্ষম মানুষ নিহত হয়েছেন ২৬৮ জন, অর্থাৎ ৭৫.২৮%।

দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি যে সামান্য পরিমাণ কমেছে- তা পরিস্থিতির উন্নতির ক্ষেত্রে কোনো টেকসই লক্ষণ নির্দেশ করছে না। আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়কের তুলনায় জাতীয় মহাসড়কে দুর্ঘটনার হার ক্রমেই বাড়ছে। জাতীয় মহাসড়কে পণ্যবাহী যানবাহনের বেপরোয়া গতি এবং মোটর সাইকেল ও স্বল্পগতির যানবাহনের অবাধ চলাচল এ জন্য দায়ী। এটা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

মূলত সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করার ক্ষেত্রে নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো এবং গণপরিবহন খাতের সুশাসন- উভয়ই জরুরি। এক্ষেত্রে প্রয়োজন “সড়ক পরিবহন আইন” আপোসহীনভাবে বাস্তবায়নে সরকারের দায়বদ্ধতা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451