1. gnewsbd24@gmail.com : admi2019 :
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৫:১৩ পূর্বাহ্ন

৬ আগস্ট জননেতা পঙ্কজ ভট্টাটার্যের ৮১ তম জন্মদিন

জি-নিউজবিডি২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২০
  • ১৮ বার পঠিত

বঙ্গবন্ধু কন্ঠ হিসেবে খ্যাত ছাত্রজীবন থেকে অনলবর্ষী বক্তা, সময়ের প্রয়োজনে যিনি নীতি-নিষ্ঠতার সাথে লড়াই করে যাচ্ছেন। শোষণমুক্ত, অগ্রসর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় আপোষহীন ব্যক্তিত্ব, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের ¯েœহধন্য, ৬ দশকের বেশী সময় থেকে যিনি দেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সামনের সারিতে অবস্থান নিয়ে গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রগতির ধারায় মানুষকে সংগঠিত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আজ ৬ আগষ্ট জননেতা পঙ্কজ ভট্টাচার্য জন্মের ৮১তম বছরে পদার্পন করবেন। তাঁর শুভ জন্মদিনে আমরা সারাদেশের শুভানুধ্যায়ী এবং দেশবাসীর পক্ষ থেকে সু-স্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

এমন একটি জটিল সময়ের মুখোমুখি হতে হবে দেশবাসীকে তার আগাম বার্তা কারো কাছে রয়েছে বলে বিবেচনায় নেয়া দুরুহ হয়ে পড়েছে। সময়ের ব্যবধানে দেশপ্রেমের রাজনীতি এখন নির্বাসনে। লুন্ঠন ভাগবাটোয়ারা, কতৃর্ত্ববাদের কাছে দেশ ও জনগণের জিম্মিদশা, এমনকি জাতীয় চেতনা, ইতিহাস ঐতিহ্য এখন নতুন প্রজন্মের কাছে অস্পষ্ট। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৪৭ সালের কথিত দ্বি-জাতিতত্ত্বের অসারতার ভিত্তিতে উপমহাদেশের বিভক্তি থেকে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় রক্ত¯œাত ভাষা আন্দোলন, ৬০ এর দশকের স্বৈরাচার আইয়ুব-ইয়াহিয়া বিরোধী ছাত্র গণআন্দোলন, ৬৬ সালের বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা ও পরবর্তীতে ছাত্র সমাজের ১১ দফা আন্দোলন ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে একটি উন্নয়নমুখী, গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের ও সর্বশেষ ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী ছাত্র-গণ-অভ্যুত্থানের পর জন আকাঙ্খার যে প্রতিফলন ঘটেছে, তার পূনরাবৃত্তি করছি। খুবই দুর্ভাগ্য বাংলাদেশের ১৬ কোটি জনতার, আজকের প্রজন্মের কাছে দীর্ঘ রক্তাক্ত লড়াইয়ের ইতিহাস এখন অসার ও ম্লান হতে চলেছে।

এখানে তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে লক্ষ কোটি টাকার বাজেট প্রণীত হলেও সমাজ, সভ্যতা, মানবিকতা, মূল্যবোধ, সম্প্রীতি ও বৈষম্যহীনতার মানদ-ে বাংলাদেশ ক্রমাগত তলানিতে নেমে যাচ্ছে। উপরোক্ত বিষয়াদি নিয়ে আরো গভীরে যাওয়ার প্রয়োজনীতা অনুভব করছি বটে, তবে আজ সমাজে-রাষ্ট্রে, দেশপ্রেম ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা নিয়ে কথা বলবেন, অনুপ্রাণিত করবেন, লড়বেন এমন সুজন তৈরী হচ্ছে না। এই বাস্তবতাকে নিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন বৈরিতা ও সাম্প্রদায়িকতার বাতাবরণ প্রবাহিত হচ্ছে।

নীতিহীনতা ও গণবিমুখ ধান্ধাবাজদের দৌরাত্বে দেশের মানুষ অনিশ্চয়তার মাঝে আশার আলো খুঁজে বেড়াচ্ছে। ব্যক্তি জীবনের সকল ধরনের লোভ-লালসার উর্দ্ধে উঠে গরীব মেহনতী, কৃষক-শ্রমিক, সংখ্যালঘু-আদিবাসী, নারী-শিশুসহ মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় দায়িত্বশীল ভূমিকায় অবতীর্ন হওয়ার ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্ব, ইতিহাসের দায়বদ্ধতা নিয়ে এখনও দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরে বেড়ান, প্রচারবিমুখ ও অগ্রসর চিন্তার এমন একজন পরিছন্ন রাজনৈতিক, তিনি হলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক দেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অগ্রসৈনিক জননেতা পঙ্কজ ভট্টাচার্য।

পঙ্কজ ভট্টাচার্য, জন্ম চট্টগ্রামের রাউজান থানার নোয়াপাড়া গ্রামে ১৯৩৯ সালের ৬ আগস্ট। দুই ক্ষণজন্মা মহাপুরুষের জন্ম এই গ্রামে। যাদের একজন অগ্নিযুগের বিপ্লবী ‘মাস্টারদা সূর্য্যসেন’ ও অন্যজন মহাকবি ‘নবীন চন্দ্রসেন’। পিতামহ রমেশ ভট্টাচার্য ছিলেন ব্রিটিশ আমলের বিশিষ্ট আইনজীবী ও সমাজ সংস্কারক। পিতা প্রফুল্লকুমার ভট্টাচার্য একজন আত্মনিবেদিত শিক্ষাব্রতি আর মাতা মনিকুন্তলা দেবী স্বদেশী ও প্রগতিশীল আন্দোলনের নেতাকর্মীদের মাতৃসম ও সুখ-দু:খের আশ্রয়স্থল।

পঙ্কজ ভট্টাচার্য মূলত ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে গড়ে উঠা যুগান্তর ও অনুশীলন নামক সংগঠনের ছায়াতলে বেড়ে উঠেন। পরিবারের আদর্শিক ধারাবাহিকতায় শৈশব থেকেই মানব মুক্তির দীক্ষায় প্রবাহিত হন। ফলে স্কুল জীবন থেকেই জড়িয়ে পড়েন মানবমুক্তির রাজনীতিতে। অদ্যবধি লড়ছেন, লড়াই করাচ্ছেন, উৎসাহিত করছেন, উৎসাহ যোগাচ্ছেন সহকর্মী ও দেশবাসীর প্রত্যাশিত সমাজের পথরেখা বিনির্মাণে।

আগরতলা মামলার কয়েক মাস পূর্বে স্বৈরাচার আইয়ুব-ইয়াহিয়া নীল-নক্শায় ১৯৬৭ সালে স্বাধীন বাংলা ষড়যন্ত্র মামলায় পঙ্কজ ভট্টাচার্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে আগরতলা মামলায় যুক্ত করার পরিকল্পনাও করা হয়, কিন্তু পাকিস্তানের ন্যাপ এই আন্দোলনে যুক্ত হয়ে পড়বে বিবেচনায় স্বাধীন বাংলা ষড়যন্ত্র মামলায় একক আসামী হিসেবে তাঁকে কারাগারে ৩ মাসের অধিক সময় থাকতে হয়। আগরতলা মামলার পরিসমাপ্তির পর রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ থেকে স্বাধীন বাংলা ষড়যন্ত্র মামলাও প্রত্যাহার করা হয়।

উল্লেখ্য স্বৈরাচার আইয়ুব-ইয়াহিয়ার সময়ে সাড়ে ৪ বছরের অধিক সময় কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে মানবেতর জীবন যাপন করতে হয় পঙ্কজ ভট্টাচার্যকে ।

৬ আগস্ট ২০১৯ জননেতা পঙ্কজ ভট্টাচার্যের ৮০ তম জন্মদিন। আজকের এই সময়ে তাকে জানাই আন্তরিক অভিবাদন, একইসাথে তার জীবনব্যাপী প্রত্যাশিত শোষণ মুক্ত ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হোক এই প্রত্যাশায় আমরাও আশাবাদী হতে চাই।

ছাত্র জীবনে রাজনীতিতে তার হাতেখড়ি, পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুবাধে বিভিন্ন সময়ে স্বৈরাচার বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ১৯৬৪-৬৫ সালে তিনি বাংলদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কার্যকরী সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিতে যোগ দেন। মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে ঐ সময়ে মানুষকে সংগঠিত করা, মুক্তির সংগ্রামকে তরান্বিত করাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত এই দায়িত্ব কৃতিত্বের সাথে পালন করেন।

বিশ্ব রাজনীতি ও সমাজ ব্যবস্থার পট পরিবর্তনের জটিল পরিস্থিতিতে প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক ধারার আন্দোলনে অনেক প্রশ্ন ও মূল্যায়নে মেরুকরণের ফলশ্রুতিতে আমাদের দেশের বাম প্রগতিশীল রাজনীতিতে ও সম্ভাবনা ও কৌশলের বিষয় বিবেচনা নিয়ে জননেতা পঙ্কজ ভট্টাচার্য মানব মুক্তির নতুন দিগন্তের সন্ধানে অনুপ্রাণিত হয়ে সমমনা বিভিন্ন রাজনৈতিকদল, ব্যক্তি, শ্রেণী-পেশার মানুষদের নিয়ে জাতীয় কনভেনশনে মিলিত হয়ে গঠন করেন নতুন রাজনৈতিক দল গণফোরাম।

সময়ের ব্যবধানে গণফোরামের কর্মসূচি দেশবাসীর কাছে সমাদৃত হলেও নেতৃত্বের কৌশল ও লক্ষ্যহীনতার কারণে গণফোরাম জনভিত্তি অর্জনে সক্ষম হয়ে উঠেনি। পরবর্তীতে জাতীয় প্রয়োজনে গণফোরাম নিয়ে পথচলা ও সফলতার সম্ভবনা না থাকায় সময়ের বাস্তবতায় পঙ্কজ ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে ঐক্য ন্যাপ গঠিত হয়। তিনি ঐক্য ন্যাপের সভাপতি হিসেবে এখনও জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকায় রয়েছেন।

পাশাপাশি ১৯৯৭ সালে কমরেড অজয় রায় (প্রয়াত), জাতীয় নেতা কাজী আরেফ আহমেদ (প্রয়াত), পীর হবিবুর রহমান (প্রয়াত), বিধান কৃষ্ণ সেন (প্রয়াত), ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান, অধ্যাপক ড. অজয় রায়, অধ্যাপক ড. হায়ৎ মাহমুদ, জিয়াউদ্দিন তারেক আলী (বর্তমান সভাপতি) সহ জাতীয় ব্যক্তিত্ব ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে পঙ্কজ ভট্টাচার্য সময়ের দাবিতে রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি ‘সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন’ এবং ২০১০ সালে ২৮ টি শ্রেণী পেশার সংগঠনের সমন্বয়ে গড়ে তোলেন ‘সাম্প্রদায়িকতা জঙ্গিবাদ বিরোধী মঞ্চ’।

একইসাথে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাম্প্রদায়িকতা জঙ্গিবাদ বিরোধী মঞ্চের অন্যতম সংগঠকের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন তিনি।

পঙ্কজ ভট্টাচার্যের রাজনৈতিক আন্দোলনের পাশাপাশি ও ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকার পূর্বাচলের সন্নিকটে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জে শতাধিক একর জমিতে প্রতিষ্ঠিত জিন্দাপার্ক খ্যাত স্থানটিতে ৩০ বছর পূর্বে প্রতিষ্ঠিত স্থানীয় যুব সমাজের হাতে গড়া ২০ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির গাছ, স্কুল-কলেজ, লাইব্রেরিসহ প্রকৃতির নি:স্বর্গ স্থাপনা উচ্ছেদ প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে স্থানীয় ১০ হাজারেরও অধিক লোকজন-সহ অবস্থান নিয়ে পার্কসহ সকল স্থাপনা রক্ষায় স্বার্থক ও সফলতা অর্জন করেন। সরকার ও প্রশাসনের পক্ষে সমঝোতার ভিত্তিতে বর্তমানে অক্সিজেন সমুদ্রখ্যাত স্থাপনাটি “অগ্রপথিক পল্লী সমাজ” উক্ত স্থাপনাসমূহ পুনরায় পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন।

৮১ বছরের এই মানুষটি এখনও নানান ধরনের সীমাবদ্ধতা, শারিরীক অসুস্থতা নিয়ে জাতীয় সংকট মোকাবেলা ও সংগঠনের কাজে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অবিরাম ঘুরে বেড়াচ্ছেন। বিশেষ করে সংখ্যালঘু আদিবাসীসহ সমাজের নিপীড়িত মানুষের পাশে তিনি হাজির হন। তাদের যে কোন বিপদে-আপদে, উৎসাহ-দেন, সংগঠিত করেন ও প্রতিবাদ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন।

অসাম্প্রদায়িক চিন্তা ও মননশীল এই ব্যক্তিটি এখনও উদার, শোষণ, বঞ্চনা নিপীড়ন মুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে চলেছেন। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দেশের নানান উত্থান পতনের সাক্ষ্য বহন করে, এখনও তিনি মানুষের উপর আস্থাশীল। মানব মুক্তির লড়াইয়ে সদা সক্রিয় রয়েছেন এখনো। বিভিন্ন সময়ে মন্ত্রীত্বের প্রলোভন ও লোভ লালসার প্রস্তাব বিনয়ের সাথে প্রত্যাখান করে অদ্যবদি নিজের বিশ্বাসের প্রতি আস্থাশীল থেকে পথ চলছেন।

৯০ এর দশকের প্রথম দিকে একজন ছাত্রকর্মী হিসেবে পঙ্কজ ভট্টাচার্যের সান্নিধ্যে আসার পর থেকে যে বিষয়গুলো তাঁর কর্মময় জীবনে লক্ষ্য করছি তা বর্ণনা করে শেষ করা খুবই কঠিন। সার্বক্ষণিক রাজনৈতিক হিসেবে প্রতিদিন সকাল বিকাল অফিসে আসা, কাজ পাগল, দেশ পাগল, কর্মীবান্ধব নিবেদিত মানুষটি এখনও নিজের বিশ্বাসের প্রতি-দৃঢ় আস্থাশীল ও আশাবাদী।

সারাদেশের সহকর্মীদের সুখে-দু:খে সাহস যোগানো, বুদ্ধি পরামর্শ প্রদান ছাড়াও চিকিৎসা, কর্মসংস্থানের প্রচেষ্টা নেয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে উদ্যোগী ভূমিকায় অবতীর্ন হতে দেখা যায় তাকে। সংগঠনের নেতা কর্মীদের যে কোন সংকটে তাকে উদ্বিগ্ন ও ব্যথিত করে। নিজের সাধ্যমত সহযোগিতার পাশাপাশি সহানুভুতিশীল বন্ধু-বান্ধবের কাছেও তিনি এক্ষেত্রে শরনাপন্ন হন। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা সহকর্মী ও নিরীহ জনসাধারনের সমস্যার কথা শুনে তিনি প্রয়োজনীয় বুদ্ধি পরামর্শের পাশাপাশি প্রশাসনিক সহায়তার ক্ষেত্রে ও ভূমিকা রাখার চেষ্টা করে থাকেন।

মূলত রাজনৈতিক নেতার পাশাপাশি একজন সমাজকর্মী ও মানবপ্রেমী জননেতা পঙ্কজ ভট্টাচার্র্র্র্য। ব্যস্ততার মাঝেও তিনি বিভিন্ন দৈনিকে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংকট নিয়ে লেখালেখি করেন, তা ছাড়া সম্প্রতি “সাতনরী কথামালা” নামে গল্পগ্রন্থের প্রণেতা তিনি। “দু:মুর্খের দরবার” ভিন্নতর গ্রন্থটি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে অনেকের। আত্মকথন মূলক গ্রন্থ “আপনহারা দিনগুলি”, জীবনী গ্রন্থ “পীর হবিবুর রহমান এবং তার সময়” বরণীয় স্মরণীয় ব্যক্তিদের নিয়ে লেখা “জীবন থেকে পাঠ” প্রকাশিত হয়েছে ইতোমধ্যে।

প্রকাশের পথে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস কেন্দ্রীক “ন্যাপ, কমিউনিস্ট পার্টি, ছাত্র ইউনিয়নের বিশেষ গেরিলা বাহিনী এবং উচ্চ আদালতের রায়”, লোক নায়ক “মওলানা আহমেদুর রহমান আজমী” ইত্যাদি।

বর্তমান সময়ে দেশে মানবপ্রেমিক ও দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক নেতাকর্মী খুঁজে পাওয়া দুঃষ্কর। এই অবস্থার মাঝেও হাতে গোনা দু-চারজন ত্যাগী, একনিষ্ঠ আদর্শবাদী রাজনীতিবিদ পাওয়া যায় তাদের অন্যতম সংগ্রামী জননেতা পঙ্কজ ভট্টাচার্য। যিনি প্রায় ছয় দশকের অধিক সময় এদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধসহ গণমানুষের মুক্তির জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করে যাচ্ছেন।

এই সুদীর্ঘ সংগ্রামী জীবনে তিনি অনুপ্রাণিত হয়েছেন অনেকের জীবনকর্ম থেকে, অনেক খ্যাতিমান রাজনৈতিক, শিক্ষাবিদ পেশাজীবিদের সংস্পর্শে এসে তিনি সমাজ সভ্যতার বাস্তবমুখী জীবনাদর্শে অনুপ্রাণিত ও উৎসাহিত হয়েছেন। বিভিন্ন সমেেয় দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। সর্বশেষ স্বৈরাচার এরশাদের পতনের শেষ প্রান্তে এসে ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় তাকে কারাগারে যেতে হয়।

রাজনীতির এই মানুষটি সর্বদা লালন করেন মননশীলতা, সৃজনশীলতা ও সংস্কৃিতবোধ। রাজনীতি ও সমাজকর্মের ব্যস্ততার মাঝে বিগত প্রায় ৬/৭ বছর থেকে নানা ধরনের জটিল রোগে ভুগতে হচ্ছে তাঁকে। মাঝে মাঝে হাসপাতাল বা ডাক্তারের শরণাপন্ন হন তিনি। ব্যক্তিজীবনে তার সহধর্মিনী রাখীদাস পুরকায়স্থ একজন অবসরপ্রাপ্ত উচ্চপদস্ত সরকারী কর্মকর্তা।

অবসর নিয়ে এখন সুপ্রতিষ্ঠিত আইনজীবী হিসেবে সুপ্রীম কোর্টে আইন পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন। পঙ্কজ ভট্টাচার্য জাতীয় নেতা হিসেবে গড়ে উঠার পিছনে রাখীদাস সর্বদা সাহস, উৎসাহ ও সহযোগীতা দিয়েছেন অকুন্ঠভাবে। নি:সন্তান এই দম্পতি এখনও রয়েছেন সমাজ সভ্যতার অগ্রসর সৈনিক হিসেবে সক্রিয়। উদার, মননশীল, শোষন ও বঞ্চনামুক্ত অগ্রসর, মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় ৮১ তম জন্মদিনে তার পথচলা স্বার্থক হোক এই প্রত্যাশা ও পঙ্কজদার দীর্ঘায়ু এবং সু-স্বাস্থ্য কামনা করছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

© All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451