বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২১, ১১:০১ পূর্বাহ্ন

চাকরির নামে লাখ লাখ টাকা বানিজ্যের অভিযোগ আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে

আতিকুজ্জামান দিপু, পটুয়াখালী প্রতিনিধি :
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২০
  • ৫১ বার পঠিত

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় চাকুরী দেয়ার নাম করে বেকার তরুণ-তরুণীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে মিজানুর রহমান তসলিম নামের এক আওয়ামীলীগ নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযুক্ত তসলিম রাঙ্গাবালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও রাঙ্গাবালী নেছারিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে একটি প্রতিবন্ধী স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন মিজানুর রহমান তসলিম। তবে প্রতিষ্ঠানের নামে এখনো পর্যন্ত সরকারী রেজিষ্ট্রেশন হয়নি। এরই মধ্যে প্রতিবন্ধী স্কুলের সভাপতি দাবী করে চাকরি দেয়ার কথা বলে ৩২ জন তরুণ-তরুণীর কাছ থেকে প্রায় ৪০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তসলিম। কারো কাছ থেকে দুই লাখ আবার কারো কাছ থেকে ১ লাখ অথবা ৮০ হাজার টাকা নেয়। কিন্তু এখও পর্যন্ত কাউকে চাকরি দিতে পারেনি সে।

এছাড়াও যারা ১ লাখ অথবা এর কম টাকা দিয়েছে, তাদেরকে আবার নতুন করে টাকা দেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করছেন। টাকা দিতে না পারলে পিছনে যে টাকা দিয়েছে, তা বাদ যাবে এবং স্কুলে চাকরি দেয়া হবেনা বলে হুমকি দেয়। এ কারণে চাকরী প্রত্যাশী এসব ভুক্তভোগীরা হতাশ হয়ে পরেন। কোন উপয়ন্ত না পেয়ে স্থানীয়দের সাথে নিয়ে তসলিমকে আটক করেন চাকরি প্রত্যাশীারা। পরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুজ্জামান মামুন এবিষয়ের সমাধানের আশ্বাস দিয়ে তসলিমকে ছাড়িয়ে দেন। কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যান কোন সমাধান করতে পারেনি। পরবর্তিতে বুধবার জেলা প্রশাসক বরাবার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগী মোসা. আনিকা বলেন, ‘প্রতিবন্ধী স্কুলে শিক্ষক পদে চাকরি দেয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে ১ লাখ টাকা নেয় তসলিম মাস্টার। কিন্তু স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীদের যে খসড়া তালিকা করে, তাতে আমার নাম শিক্ষক পদে দেয়নি। আমাকে রাখা হয়েছে আয়া পদে। এরপর আবার আমার কাছ থেকে নতুন করে ২ লাখ টাকা দাবী করে সে। আমি টাকা দিতে পারবো না বললে সে আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দেয়। এখন তার সাথে কথা বলার চাঞ্জই দেয়না’।

ভুক্তভোগী মো.সিরাজুল ইসলাম জানান, প্রতিবন্ধী স্কুলে চাকরি দেয়ার কথা বলে ৯ মাস আগে তার কাছ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেয় তসলিম। এখনো পর্যন্ত চাকরির কোন নাম নাই। টাকা চাইতে গেলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এমনকি হাত কেটে ফেলারও হুমকি দেয় সে।

ভুক্তভোগী মোসা. শীলা জানান, সাত মাস পূর্বে প্রতিবন্ধী স্কুলে চাকরি দেয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নেয়। কিন্তু দীর্ঘ ৭ মাসেও চাকরি কোন খবর নাই। টাকাও দেয়না, চাকরিও দেয়না। কিছু জানতে চাইলে হুমকি দেয়। আমরা ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ দিয়েও কোন সমাধন পাই নাই।

এছাড়াও চাকরি দেয়ার নাম করে অহিদুল ইসলামের কাছ থেকে ১ লাখ, মো.আনোয়ারের কাছ থেকে ৫৫ হাজার, মো.আতাউল সরদারের কাছ থেকে ১ লাখ, মো.মাসুদের কাছ থেকে ৫৫ হাজার, মো.শাকিলের কাছ থেকে ১৭ হাজার, মো. আসাদের কাছ থেকে ৮০ হাজার, রাকিব মাহমুদের কাছ থেকে ৮০ হাজার, সিরাজুল ইসলামের কাছ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার ও আল-মামুনের কাছ থেকে ৫৫ হাজার টাকা নেয় মিজানুর রহমান তসলিম।

এব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মিজানুর রহমান তসলিম অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, (০১৭১৩৯৫৬৯৬৬) আমার কাছে কেউ টাকা পাইবেনা। আমাকে শুধু শুধু মারছে।

এব্যাপারে রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.মাশফাকুর রহমান বলেন, সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিবন্ধী স্কুলের সভাপতি থাকার কথা ইউএনও’র। কিন্তু মিজানুর রহমান তসলিম নিজে সভাপতি দাবী করে ইতোমধ্যে অনেককে নিয়োগ দিয়ে অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়েছেন বলে শোনা যাচ্ছে। যেহেতু নীতিমালা অনুযায়ী আমি সভাপতি, আমিতো কাউকে নিয়োগ দেইনি। তাই কোন নিয়োগই বৈধ নয়। কেউ নিয়োগ কার্যক্রম করে থাকলে সেটা প্রতারণা।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

cover3.jpg”><img src=”https://www.bssnews.net/wp-content/uploads/2020/01/Mujib-100-1.jpg”>

via Imgflip

 

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451