1. gnewsbd24@gmail.com : admi2019 :
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১:৫১ অপরাহ্ন

নিউইয়র্ক থেকে নগরীয় কৃষির শিক্ষা

॥ মোশাররফ হোসেন মুসা ॥
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২০
  • ১৬ বার পঠিত

কয়েকদিন আগে বাংলাদেশ প্রতিদিনে ‘ নিউইয়র্কে কৃষি আঙিনা’ শিরোনামে একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ ছেপেছে। সংবাদে বলা হয়েছে- করোনা কালে নিউইয়র্ক সিটিতে প্রবাসীরা ঘরে ঘরে ‘আঙিনা কৃষি’ গড়ে তুলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। তারা লাউ, বেগুন,শসা, টমেটো, পেঁপে, পটল, ঢেঁড়স, মরিচ, পালংশাক, পুঁইশাক, লালশাক, কচুপাতা, পাটশাক, ধনেপাতা, গোলআলু, আদা, রসুন, হলুদ, লেবু, করল্লা, চিচিঙ্গা, ঝিঙ্গা আবাদ করে ডলার সাশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছেন (বাংলাদেশ প্রতিদিন, ১৯,জুলাই, ২০২০ খ্রীঃ)।

যাদের বাসার পিছনে সবজি আবাদের জায়গা নেই তারা বেলকনি অথবা জানালার সঙ্গে থাকা প্লাটফরমে টব বসিয়ে সবজির বাগান করেছেন। শুধু বাংলাদেশিরাই নয়, তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন পাকিস্তানী, ভারতীয়, শ্রীলঙ্কান, নেপালিরাও। সেখানে গ্রোসারি বা হাটাপথে কোনো টাটকা সবজির দাম পড়ে ৫ ডলার। চার সদস্যের এক পরিবারের একবেলার জন্যে সবজি ক্রয় করতে ১০ ডলারের প্রয়োজন হয়। ফলে একদিকে অর্থ সাশ্রয় যেমন হচ্ছে, তেমনি কোরোনা কালে তাদের সময়ও কেটে যাচ্ছে।

পুর্বে গৃহিনীরা শীত বিদায়ের পর মাত্র ২৫ ভাগ আঙিনায় সবজি আবাদ করতেন, এখন তারা ৮৫ ভাগ আঙিনায় সবজি আবাদ করছেন। উল্লেখ্য, সেখানে শীত কালে (প্রায় ৮/৯ মাস) তুষারপাতের কারণে বাড়ির আঙ্গিনায় সবজি আবাদ করা যায় না। তখন বাড়ির অভ্যন্তরে বিশেষ ব্যবস্থায় কেউ কেউ শখের বসে সবজি আবাদ করে থাকেন।

সেখানে নতুন বাড়ি করার সময় আঙিনার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ জায়গা( ৪৫% থেকে ৬০% পর্যন্ত) ফাঁকা রাখতে হয়। তবে জোন ভেদে ফাঁকা জায়গার পরিমাণ কমবেশি হয়ে থাকে। এ জাতীয় আবাদকে এদেশের কেউ কেউ ‘নগর কৃষি’ বলে থাকেন। কিন্তু ব্যাকরণগত দিক থেকে ‘নগরীয় কৃষি’ বাক্যটি বলা উচিত। যেহেতু গ্রামীণ কৃষির বিপরীতে নগরীয় কৃষিই হওয়া উচিত ।তবে নিউইয়র্কের ওই আবাদের সঙ্গে বাংলাদেশের সবজি আবাদকে মিলানো ঠিক হবে না। এখানে ১২ মাস কোনো না কোনো সবজি আবাদ করা যায়।

আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ বলে আসছি, ২০৫০ সাল নাগাদ সমগ্র দেশের জনগণ নগরীয় সুবিধা নিয়ে বসবাস করবে। তার নমুনা ইতোমধ্যে প্ররস্ফুটিত হওয়া শুরু হয়েছে। বর্তমানে ৩৩০ টি পৌরসভা, ১২ টি সিটি কর্পোরেশন, ১৭ টি ক্যান্টনবোর্ড এলাকা এবং হাট-বাজার ও শিল্প-কারখানা কেন্দ্রিক এলাকাতে প্রায় ৬ কোটি লোক বসবাস করছে। প্রতি বছর ১% শতাংশ হারে কৃষি জমি শিল্প ও নগরীয় এলাকায় চলে যাচ্ছে। এ ধারা চলতে থাকলে আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় ৩৩ ভাগ এলাকা নগরে পরিণত হবে।

দেশের ৭৫% জনগোষ্ঠী নগরে বসবাস করবে। সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে-আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে ৩ হাজারটি হাট-বাজার (গ্রোথ সেন্টার) কেন্দ্রিক এলাকাকে নগরীয় ইউনিট তথা, পৌরসভা হিসেবে ঘোষণা দেয়া। বর্তমানে ৪০% লোক কৃষি পেশায় জড়িত। আগামীতে মাত্র ২৫% লোক কৃষি পেশায় জড়িত থাকবে। তখন ৭৫% লোক অন্য পেশায় চলে যাবে। তাদের দক্ষ কর্মজীবী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য পর্যাপ্ত পরিমান কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে। বর্তমান সরকার প্রতিটি জেলায় নতুন করে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের চিন্তা-ভাবনা করছে।

সকলের জানা রয়েছে, বিদ্যমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে প্রতি বছর হাজার- হাজার শিক্ষার্থী অনার্স-মাস্টার্সের ডিগ্রি নিয়ে বেকার হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারা আধুনিক প্রযুক্তি বিদ্যায় দক্ষ না হওয়ায় শিল্পকারখানায় চাকুরি পাচ্ছে না। অন্যদিকে নগরীয় কৃষির বিষয়ে সরকারের কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে বলে মনে হয় না। অথচ নগরীয় কৃষি একদিকে যেমন খাদ্য নিরাপত্তা দিবে,অন্যদিকে পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করবে। সেকারণে পাঠ্যপুস্তকে নগরীয় কৃষির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। নগরীয় ইউনিটে নগরীয় কৃষিবিদদের নিযুক্তি দিতে হবে।

স্থানীয় সরকারের বিধি-বিধানে পরিবর্তন এনে প্রতিটি নগর, হাট-বাজার,শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নগরীয় কৃষি আবাদের ব্যবস্থা করতে হবে। সেসঙ্গে কৃষি জমি রক্ষার বিষয়ে কঠোর নজরদারি চালু করতে হবে। এসব কাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য স্থানীয় সরকারকে কার্যকর করতে হবে। বর্তমান স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গণতন্ত্র উপযোগী নয় এবং এগুলো অত্যন্ত ত্রুটিপুর্ণ । সেজন্য ইউনিটগুলোর স্তরবিন্যাস, প্রকারভেদকরণ, নামকরণ ঠিক করতে হবে। ‘সিডিএলজি’ দীর্ঘদিন যাবৎ বলে আসছে- এ দেশে দুই প্রকারের সরকার ব্যবস্থাই বাস্তবায়নযোগ্য; তথা- কেন্দ্রীয় সরকার ব্যবস্থা আর স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা।

স্থানীয় সরকারের সর্বোচ্চ, স্তর হবে ‘জেলা সরকার’। জেলা সরকার এক হাতে গ্রামীণ স্থানীয় সরকার( ইউনিয়ন ও উপজেলা) এবং অন্যহাতে নগরীয় স্থানীয় সরকার( সিটি,পৌর ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড) নিয়ন্ত্রণ করবে। গ্রামীণ ইউনিটগুলোর সংখ্যা ক্রমে হ্রাস পেতে পেতে এক সময় সকল ইউনিট নগরীয় ইউনিটে পরিণত হবে। তখন জেলা সরকারের অধীনে কেবল ‘নগর সরকারগুলো’ থাকবে।

জেলা সরকারের সঙ্গে কেবল কেন্দ্রের সম্পর্ক থাকবে। মনে রাখা দরকার, আমাদের দেশের কৃষি ব্যবস্থা কেমন হবে, তা আমাদেরকেই ভাবতে হবে। নতুন নতুন প্রযুক্তি আবিস্কারের কারণে ‘নগরীয় কৃষি’ হবে খাদ্য নিরাপত্তার বড় সেক্টর। তাছাড়া নগরীয় কৃষিতে নারীর অংশগ্রহণের সুযোগ থাকায় নারীর ক্ষমতায়নও বৃদ্ধি পাবে। বিষয়টি সরকার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল,গবেষক, লেখক, বুদ্ধিজীবীদের ভেবে দেখা জরুরি।
লেখকঃ গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকার ও গণতান্ত্রায়ন বিষয়ে গবেষক। ইমেইল – musha.pcdc@gmail.com

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

© All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451