1. gnewsbd24@gmail.com : admi2019 :
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০, ০৮:২৮ অপরাহ্ন

”ই-ভ্যালি” ডিজিটাল প্রতারনার ফাঁদ

নিজস্ব প্রতিবেদক :
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২০
  • ২৯ বার পঠিত

লোভনীয় অফারে পণ্য কিনতে ই–ভ্যালিতে অর্থ দিচ্ছেন অসংখ্য গ্রাহক। এখানে মানি লন্ডারিং হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কিনলেই অর্থ ফেরতের অস্বাভাবিক ‘ক্যাশব্যাক’ অফার দিয়ে ব্যবসা করছে বাংলাদেশি ডিজিটাল বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ই-ভ্যালি।

১০০ থেকে ১৫০ শতাংশ পর্যন্ত ক্যাশব্যাক অফার দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ ১০০ টাকার পণ্য কিনলে সমপরিমাণ বা তার চেয়েও বেশি অর্থ ফেরত দেওয়ার লোভনীয় এই অফারে হাজার হাজার গ্রাহক আকৃষ্ট হচ্ছেন। লাভবানও হচ্ছেন অল্প কেউ, বেশির ভাগই আছেন লাভবান হওয়ার অপেক্ষায়। অর্ডার নিয়ে নির্ধারীত সময়ে ডেলিভারির নিয়ম থাকলেও তা পাচ্ছে না গ্রাহক।

যোগাযোগ মাধ্যম ই-ভ্যালির ফেইসবুকে কিছু গ্রাহকে আলাপচারিতা হুবাহু তুলে ধরা হল:

আল- নোমান আকন্দ : দুই মাস দুই দিন হয়ে গেছে আমার এই দুইটা প্রোডাক্টের এখনো প্রসেসিং পরে আছে। মুখস্ত কথা বাদ দিয়ে ঠিকঠাক খবর টা দেন। # EVL962896198#EVL155840447

Al-Amin Ifty : EVL390286709 72 days running….kobe 45 days hobe? Doya kore bolben kobe diben?

Mojaffor Ahmed : EVL031833973 কিছুই বুঝতে পারছি না অনেক বার ফোন করেছি আপনাদের অফিসে কিন্তু একেক সময় একেক কথা বলা হয়েছে।শেষবার ১৪ দিন আগে কল করে ছিলাম বলা হলো ২৪ তারিখে পাবেন কিন্তু লিস্টে আমার নাম নেই???আবার ২২ তারিখে আপনাদের অফিস থেকে কল করে জানানো হলো ১০ দিনের মধ্যে ১০০%গ্যারান্টি পেয়ে যাবেন।

Jon Kabir: সাহস থাকলে কমেন্ট ডিলিট করিস না। আপনাদের সব কিছুই চলমান। কাস্টমারের টাকা নিবেন কিন্তু ৩ মাস হয়ে গেলেও ডেলিভারি দিবেন না। খুব ভালো। এভাবে প্রতারনা বা কাস্টমারকে ভোগান্তি দিয়ে বেশি দুর এগোতে পারবেন না। মাশআল্লাহ আপনাদের বাজাজ বাইক ডেলিভারির কথা আর কি বলবো গতো মাসের ২৮ তারিখ ডেলিভারি তারিখ ছিলো একমাস হয়ে গেল এখনো পেলাম না। EVL315131907

Rajon Das, আমি তো জানতাম ইভ্যালি তে কোন অর্ডার করলে ৩দিনের ভিতরে পেমেন্ট করতে হয়। লাস্ট একটা প্রোডাক্ট অর্ডার করেছিলাম ১৪ আগস্ট, ৩দিন পার হয়ে যাওয়ায় পেমেন্ট করিনি কিন্তু স্ক্রিনশটে দেখেন লিখা আছে ” Order cancelled due to no payment within 7 days – Evaly ” তাহলে কি এখন অর্ডার করার ৭দিনের ভিতর পেমেন্ট করলে হয়? জানাবেন প্লিজ।
থ্যাঙ্কস ইন এডভান্স।

Mujahid Hoque Tuhin : অতিরিক্ত দাম বসিয়ে ৩০% ডিসকাউন্ট দেখানোর দিন শেষ। পাবলিক এখন সব বুঝে। রাসেল ভাই, দিন দিন এতো বোকা হচ্ছেন কেন?

Morshedul Anam Sabuj : আপনাদের এক্সপ্রেস সপের অর্ডার থাকি ২ ঘন্টায় ডেলিভারি হয়,গতকাল 21 তারিখ স্বপ্ন তে অর্ডার করে এখোনা পাই নাই EVL539884622, এখন স্বপ্ন আউটলেটে দেখতেছি না। আর ১ মাস ২৬ দিনেও রিফান্ড করলেন নাEVL391997451,আশার বানি আর কত শুনাবেন,সমাধান করেন হুদায় বানি শুনায়েন না আর।

Adnan Fahim: EVL2097079837 স্যার Delivered ওঠে আছে কিন্তু টি – শাট টা এখনো আমি হাতে পাই নাই।স্যার এইটা কি সমস্যা আমি বুঝতে পারতেছি না। আমাকে একটু বলবেন স্যার কি সমস্যা টি-শাট টার??

উত্তরে Evaly.com.bd যা বলেন, স্যার, ইভ্যালিতে প্রতিটা প্রোডাক্ট অফিসিয়াল প্রাইস কিংবা বাজার মূল্যের সাথে সামঞ্জস্য বজায় রেখেই নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে কোন প্রোডাক্ট এর প্রাইস নিয়ে সন্দিহান কিংবা অতিরিক্ত পরিবর্তন লক্ষ্য করলে সঠিক তথ্য এবং প্রমাণাদিসহ অনুগ্রহ করে ইভ্যালি প্রোডাক্ট এর লিংকটি সহ আমাদেরকে ইমেল করুন Support@evaly.com.bd

ই-ভ্যালির বিরুদ্ধে এরকম হাজারো অভিযোগ রয়েছে যোগাযোগ মাধ্যম ই-ভ্যালির ফেইসবুকে । ই-ভ্যালির কার্যক্রম শুরুর দুই বছর পার না হতেই এ পদ্ধতিতে প্রতিষ্ঠানটি এক হাজার কোটি টাকার পণ্য বিক্রি করেছে। অথচ কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন মাত্র ৫০ হাজার টাকা। ব্যবসা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এক বছর আট মাস বয়সী প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কাছে নানা অভিযোগও জমা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়ের ধরন দেখে বিশেষজ্ঞরাও আশঙ্কা করছেন, এতে মানি লন্ডারিংয়ের সুযোগ রয়েছে।

অনলাইনে পণ্য কিনলে সময় বাঁচে, ঝক্কিও এড়ানো যায়। তাই ঘরের দুয়ারে প্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে নিবন্ধন নেয় ই-ভ্যালি। মোটরসাইকেল, রেফ্রিজারেটর, মোবাইল ফোনসেট, টেলিভিশন ইত্যাদি পণ্য বিক্রি করছে প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি গাড়ি বিক্রিতেও নেমেছে।

ই-ভ্যালি জানায়, তাদের নিবন্ধিত গ্রাহক ৩৫ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। মাসে লেনদেন হচ্ছে ৩০০ কোটি টাকার পণ্য। ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার পণ্য বিক্রির বিপরীতে কর দেওয়া হয়েছে দেড় কোটি টাকা। গড়ে প্রতি মাসে পণ্য বিক্রির অর্ডার পাচ্ছে তারা ১০ লাখ করে। তাদের সঙ্গে এরই মধ্যে যুক্ত হয়ে পড়েছে ২৫ হাজার বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান এবং তারা ৪ হাজার ধরনের পণ্য বিক্রি করে কমিশন পাচ্ছে।

মাত্র ৫০ হাজার টাকা পরিশোধিত মূলধন দিয়ে শুরু করা এই কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন এখনো ৫০ হাজার টাকাই। ২০১৮ সালের ১৪ মে যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মগুলোর নিবন্ধকের কার্যালয় (আরজেএসসি) থেকে নিবন্ধন নেয় ই-ভ্যালি ডটকম লিমিটেড। এর অনুমোদিত মূলধন ৫ লাখ টাকা। ১০ টাকা মূল্যমানের এক হাজার শেয়ারের মালিক কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেল।

আর চার হাজার শেয়ারের মালিক তাঁর স্ত্রী ও কোম্পানির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন। পরিশোধিত মূলধনের মধ্যে ১০ হাজার টাকা দিয়েছেন মোহাম্মদ রাসেল আর শামীমা নাসরিন দিয়েছেন ৪০ হাজার টাকা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট (আইবিএ) থেকে এমবিএ ডিগ্রিধারী মোহাম্মদ রাসেল হচ্ছেন ই-ভ্যালির প্রতিষ্ঠাতা।

কর্মজীবন শুরু করেন তিনি ঢাকা ব্যাংক দিয়ে। পরে ছেড়ে দিয়ে ‘কিডস’ ব্র্যান্ডের ডায়াপার আমদানি শুরু করেন। পরে নিয়ে আসেন ই-ভ্যালি। শুরুর দিকে চালু করা হয় ‘ভাউচার’ নামক একটি পদ্ধতি, এতে দেওয়া হতো ৩০০ শতাংশ ও ২০০ শতাংশ ক্যাশব্যাক। বর্তমানে ১৫০ শতাংশ, ১০০ শতাংশ এবং পরে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ক্যাশব্যাকের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

শুরুর দিকে ১০ টাকায় একটি পেনড্রাইভ এবং ১৬ টাকায় টি-শার্ট বিক্রি করে সাড়া জাগায় ই-ভ্যালি। দুর্নীতি দূর করা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথা বলার পরে রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হওয়া অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবীর সম্প্রতি ই-ভ্যালি নিয়ে ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে বলেন, পণ্য আছে ৫টি, যেহেতু কেউ জানে না, তাই টাকা জমা দিলেন হয়তো ১০০ জন।

পণ্য পাবেন ৫ জন। বাকি ৯৫ জনের টাকা ঝুলে থাকবে। আর সবার বোঝা উচিত যে বিক্রেতা বা কোম্পানি আপনাকে পণ্যের সঙ্গে ১০০ শতাংশ, ১৫০ শতাংশ টাকা ফেরত দিচ্ছে। নিশ্চয়ই তিনি পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে বা পকেট থেকে দেবেন না। দেবেন নিশ্চয়ই অন্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে বা অন্য কোনো অনৈতিক উপায়ে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451