1. gnewsbd24@gmail.com : admi2019 :
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭:১৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

খুলনা নগরীর রূপসা চরের আঁখি এখন জাতিসংঘ’র ‘রিয়েল লাইফ হিরো’

গাজী যুবায়ের আলম, ব্যুরো প্রধান, খুলনা ঃ
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২০
  • ১৩ বার পঠিত

খুলনার রূপসা চরের আঁখি এখন জাতি সংঘ’র ‘রিয়েল লাইফ হিরো’। করোনা প্রাদূর্ভবে যখন জন-জীবন থমকে গেছে। মানুষ ঘর ছেড়ে বাইরে বের হয়নি। তখন নিজেদের বেঁচে থাকার জন্য এবং অন্যকে নিরাপদে রাখার মানসে উদ্যোগ নেয় আঁখি। যে উদ্যোগে দরিদ্র পরিবারের আয় বৃদ্ধিও পাশাপাশি এলাকার দরিদ্ররাও স্বল্প মূল্যে পায় মাস্ক আবার কেউ কেউ পায় বিনামূল্যে।

খুলনা রূপসা ঘাটপার হয়ে ডান দিকে (পূর্ব রূপসা) বীরশ্রেষ্ট রুহুল আমিন সড়ক। এ সড়ক দিয়ে ১ কিলোমিটার পর আব্দর রব মোড়। সেখান থেকে বাঁদিকে ১শ গজ গিয়ে আবার বাঁয়ে ১শ গজ। ইটের রাস্তা। এবার ডানে দিকে কয়েক গজ যেতেই দেখা যাবে ছোট্ট একটা দোকানে মাস্ক, বিভিন্ন হস্ত শিল্পের জিনিষপত্র, রয়েছে ছোটদের খাবার। এ দোকানে বসে বেঁচাকেনা করেন শারীরিক ভাবে অক্ষম মাসুদ মোল্লা। এক সময় মাছ কোম্পানিতে (চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা) কাজ করতো।

স্ত্রী আনোয়ারা বেগম এখন মাছ কোম্পানিতে কাজ করে। এ দম্পত্তির তিন ছেলে-মেয়ের মধ্যে দ্বিতীয় আঁখি (১৭)। সবাই মিলে থাকেন আঁখির খালার জমিতে। যেখানে কোন রকমের মাথা গোজার ঠাঁই তৈরি করে। আঁখি পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ার পর অভাবের তাড়নায় সেও বড় বোনের সাথে মাছ কোম্পানিতে কাজ নেয়। পরে ‘ওয়াল্ড ভিশন বাংলাদেশে’র ‘জীবনের জন্য প্রকল্প’ থেকে দর্জি প্রশিক্ষন নিয়ে সেলাই কাজ করে সংসারে রোজগার বাড়াতে থাকে আঁখি।

রিয়েল লাইফ হিরো আঁখি জানান, যখন করোনা ভাইরাস শুরু হয়েছিল। বাজারে মাস্ক পাওয়া যাচ্ছিল না। অনেক খুঁজে পাওয়া গেলেও দাম ছিল অনেক। আমাদের এলাকার দরিদ্র লোকেরা তা কিনতে পারতোনা। মানুষ ঘর থেকে বাইরে বের হতে পারছেনা। অন্য সমেয় আমি ঘরে বসে সেলাইয়ের কাজ করে মাসে প্রায় ৩ হাজার টাকা আয় করতাম। সেই আয়ও আমার কমে যায় করোনার কারণে। মা, বোনের কাজও থাকে না। এমন সময় জানতে পারলাম, করোনা থেকে মুক্ত থাকতে মাস্ক পরতেই হবে।

তখন আমি নিজেই মাস্ক তৈরি করে কম দামে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেই। যাতে এলাকার গরীব মানুষসহ সবাই মাস্ক পরতে পারে। আবার যাদের টাকা পয়সা নাই, তাদেরকে আমি বিনামূল্যে আমার তৈরি করা মাস্ক বিতরণ করি। আমি বেশ আগে ওয়াল্ড ভিশনের কাছ থেকে দর্জি কাজের প্রশিক্ষন নেই। তারা আমাকে একটি সেলাই মেশিনও দেয়। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এ কাজ করি। মেয়ের সুনাম এখন বিশ্বব্যাপি। সেই অনুভুতি ব্যক্ত করতে গিয়ে আবেগে আপ্লুত হন আঁখির মা আনোয়ারা বেগম।

তিনি বলেন, বস্তিতে থেকে আমার মেয়ে এমন সুনাম আনবে আমি ভাবতেও পারিনি। ওর (আঁখি) বাবা অনেক অসুস্থ। তেমন একটা হাঁটতে পারে না, চলতে পারে না। ওষুধের ওপরে থাকে। আমিও মাছের কোম্পানিতে কাজ করি আর মেয়ের আয়েই চলে সংসার। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ সাউডার্ন বাংলাদেশ রিজিওনের রিজিওনাল ফিল্ড ডাইরেক্টর লিমা হান্না দারিং জানান, ২০১৮ সালে আমাদের কর্মী আবেদা সুলতানা আঁখিকে রূপসার একটা চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় খুঁজে পান।

সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে আমরা স্কুলে ভর্তি করার উদ্যোগ নেই। কিন্তু আখির বয়স বেশী হওয়ায় কোন স্কুলে তাকে ভর্তি করা যায়নি। অবশেষে আখির আগ্রহ দেখে আমাদের জীবনের জন্য প্রকল্পের মাধ্যমে তাকে সেলাই প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করি। প্রশিক্ষণ শেষে আঁখিকে সেলাই মেশিন কিছু থান কাপড় দেওয়া হয়। আমাদের এই সহযোগিতা আঁখির পরিবারে অনেক পরিবর্তন এসেছে।

সে এই করোনা মহামারি-কালে তার কাজের ফাঁকে ফাঁকে মাস্ক সেলাই করেছে, সেই মাস্কগুলো লাভের চিন্তা না করে কম দামে গরীব লোকদের কাছে বিক্রি করেছে। অনেককে বিনা মূল্যে মাস্ক দিয়েছে। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত জাতিসংঘ তার এই মহৎ কাজের স্বীকৃতি দিয়েছে। উল্লেখ, গত ১৯ আগস্ট জাতি সংঘবিশ্ব মানবিক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের অন্য তিনজনের সাথে আঁখি কে “রিয়েল লাইফ হিরো” হিসাবে স্বীকৃতি দেয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451