1. gnewsbd24@gmail.com : admi2019 :
মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২০, ১২:০৫ অপরাহ্ন

কৃষক বাচঁলে বাচঁবে দেশ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২ মে, ২০২০
  • ৯০ বার পঠিত

ঃ আমিনুল ইসলাম ঃ

বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতির পরবর্তি অবস্থায় একমাত্র কৃষি সম্পদের উপর নির্ভর হবে বাংলাদেশ সেই কৃষি বা কৃষকদের অবমূল্যায়নের কমতি নেই এদেশে। সারা বিশ্ব যখন করোনা ভাইরাসের মত মহামারীতে ভুগছে তখন করোনা পরিস্থিতির পরবর্তিতে যার যার দেশের উৎপাদন পন্য নিয়েই ঘুরে দাড়াতে হবে। যেখানে বাংলাদেশ একটি কৃষি প্রধান দেশ, এদেশের শতকরা প্রায় ৮০% ভাগ লোক কৃষির সাথে সরাসরি জড়িত। কিন্তুু এই কৃষি এবং কৃষকদের অবহেলা আর অব্যবস্থাপনায় আজ অনেকেই কৃষি পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় ঝুকছে।

করোনা ভাইরাসের কারণে যে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে তাতে বিশ্ব অর্থনীতির মারাত্মক ক্ষতিসাধন হবে এবং বিশ্বব্যাপী ব্যাপক খাদ্য ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অসংখ্য মানুষ দুর্ভিক্ষে মারা যাওয়ার সম্বাবনা রয়েছে।

দেশের মানুষ করোনা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে এটা যেমন সত্য, তার থেকে বড় সত্য হচ্ছে মানুষ ভবিষ্যৎ খাদ্য সঙ্কট নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে।

বাংলাদেশে অন্যান্য পেশার মত এই পেশায়ও হাজার হাজার কোটি টাকা ঋন দিচ্ছে সরকার তা হলে কৃষি বা কৃষকের এই দন্য দশা কেন ? প্রশ্ন সকলের। সবাইকে মনে রাখতে হবে কৃষক বাচলে দেশ বাচবে। বাংলাদেশে এ পর্যন্ত যত গুলো রাষ্ট্রপ্রধান এসেছেন সকলকে দেখা গেছে কৃষক বা কৃষির উপর সর্বচ্চো নজরদারী এবং সহানূভুতি কোন অংশে কমতি ছিলো না। এটার কারন কি ? কারন তারা যানতেন তারা বুঝতেন এদেশ সোনালী ফসল ফলানোর দেশ। আজ কৃষকরা হাড়ভাঙ্গা শ্রম দিয়ে জমিতে ধান এর পাশাপাশি উৎপাদন করছে মরিচ, পেয়াঁজ, রসুন, করলা, টমেটো, পটল ও মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন ফসল। কিন্তু বর্তমান সময়ের করোনাভাইরাস তাদের সেই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে।

কয়েক বছর ধরে দেশের প্রতিটি জেলায় সবজি চাষ করে যারা সাবলম্বী হয়েছেন এবার তাদের কপালে দুঃচিন্তার ভাঁজ পড়েছে। দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা।

দেশের মানুষের খাদ্য সঙ্কট মোকাবেলার জন্য কৃষক সমাজ আবহমানকাল ধরেই নিরলসভাবে উৎপাদনের সঙ্গে নিজেদের ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রেখেছেন। বছর বছর নিজের ক্ষতির দিকটা উপেক্ষা করেও তারা উৎপাদনের মাঠে অবস্থান করে দেশের মানুষের খাদ্যের যোগান দিয়ে চলেছেন। এ কারণে এখন পর্যন্ত দেশের মানুষ খেয়ে- পরে বেঁচে আছে।

সারা দেশে বোরো ধান কাটার সময় সমাগত। এই সময় ধান কাটা-ঝাড়া-মাড়াই, প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণের জন্য বিপুল সংখ্যক কৃষি শ্রমিক এক জেলা থেকে অন্য জেলায়, এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় যাতায়াত করে থাকে। বর্তমান লকডাউন অবস্থার মধ্যে এসকল কৃষিশ্রমিকের যাতায়াত এবং তাদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা খুবই জরুরি। এ ব্যাপারে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ ও তা যথাযথ বাস্তবায়ন সময়ের দাবি।

কৃষক যাতে নির্বিঘ্নে তার উৎপাদিত ধান-গম- মরিচ, পেয়াঁজ, রসুন, করলা, টমেটো, পটল ও মিষ্টি কুমড়া-ভুট্টাসহ সকল ফসল ঘরে তুলতে পারে সে বিষয়টি এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করা জরুরী। গ্রামীণ জনপদে কৃষকের আর্থিক লেনদেনের জন্য ব্যাংকগুলোকে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কৃষকের ফসল সংগ্রহের সঙ্গে জড়িত যন্ত্রপাতি তৈরি, মেরামত ও ক্রয় করার সুবিধার্থে কামারের দোকান ,কৃষি যন্ত্রপাতি বিক্রয় ও বিপণন ব্যবসা সীমিত সময়ের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে।

গোলায় উঠছে নতুন ধান। কিন্তু কৃষকের মুখ মলিন। তৃপ্তি নেই কৃষকের মনে। একদিকে উৎপাদন খরচ বেশি, অন্যদিকে বিক্রির বেলায় দাম কম। উৎপাদক কৃষকরা ধানসহ অন্যান্য ফসলের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। তাদের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত বা সহজ করে দেয়ার জন্য কোনো ব্যবস্থা বা পদক্ষেপই ফলপ্রসূ হচ্ছে না। মাঝে মধ্যস্বত্বভোগী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের পোয়াবারো। কর্তৃপক্ষের সে দিকে সর্বচ্চো পর্যায়ের বিশেষ নজর সব সময় দিতে হবে।

প্রতি বছরই সার, বীজ, কৃষিপণ্য কৃষকরা যাতে সঠিক সময়ে এবং ন্যায্যমূল্যে পান, সে বিষয়ে সরকারের তৎপরতা দেখা যায় না। কিন্তু নতুন ধান উঠলেই দাম নিয়ে দিশেহারা হয়ে যায় কৃষক। সরকার পদক্ষেপ নিতে নিতে কৃষকের ধান বিক্রি শেষ হয়ে যায়। এতে করে প্রান্তিক কৃষকের ঘরে সুফল যায় না। মধ্যস্বত্বভোগীরাই সরকারের সব উদ্যোগের ফসল ঘরে তোলে।

কৃষকরা বলছেন সরকারিভাবে ধানের মূল্য ধরা হয়েছে কেজিপ্রতি ২৬ টাকা। সে হিসাবে মণপ্রতি হয় হাজার চল্লিশ টাকা। এ দামটি পেলে কৃষক বেঁচে যেত। কিন্তু সেটি হবার নয়। কখনো সরকারের কাছে ধান বিক্রি করতে পারেনা কৃষক। সব যায় ফড়িয়া আর মধ্যস্বত্ব ভোগীর কাছে। সরকারের কাছে কৃষকের ধান বেচার স্বপ্ন স্বপ্ন রয়ে যায়।

আজ সময় এসেছে এই কৃষিখাতকে সরকারের বেশী বেশী নজর দেয়ার। হাজার হাজার কোটি টাকা ঋন দিচ্ছে সরকার তা হলে লোকসান হচ্ছে কেন ? কৃষকের মুখে হাসি নেই কেন ? আজ কৃষক ক্ষেত থেকে ন্যয্যমূল্য পাচ্ছে না কেন ? এক্ষেত্রে কৃষি মন্ত্রনালয়কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের দায়ীত্ব ভূমিকা পালন করতে হবে। আর এসব ফড়িয়া আর মধ্যস্বত্ব ভোগী এবং রাস্তায় রাস্তায় চাঁদাবাজদের নিয়ন্ত্রন করতে হলে ধান, চাল, কাচাঁমালসহ বহন করার জন্য বিশ্বের উন্নত দেশ গুলোতে ট্রেনের একটি বিশেষ ব্যবস্থা থাকে সেরকম কোন ব্যবস্থা হলেই এদের দৌরাত্ব কমে আসবে এবং কৃষকরাও ন্যয্যদাম থেকে বঞ্চিত হবেনা এতেকরে সাধারন ক্রেতারাও সুবদা ভোগ করতে পারবে।

লেখক ঃ আমিনুল ইসলাম,ব্যবস্থাপনা সম্পাদক, জি-নিউজবিডি২৪.কম

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

© All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451