1. gnewsbd24@gmail.com : admi2019 :
শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০১:৪৯ অপরাহ্ন

কাঁচা মরিচের ঝাঁজ কমলেও ফোস্কা পড়া সবজির দাম

আবু মোতালেব হোসেন, নীলফামারী প্রতিনিধি :
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ২৮ বার পঠিত

নীলফামারীতে ভারত থেকে আসা কাঁচা মরিচ কেজিতে ১০০ টাকা কমলেও বেড়েছে সবজির দাম। জেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, আমদানী মরিচে সয়লাম। তবে দেশী মরিচের দেখা মিলেনি।

গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে জেলার পাইকারী বাজারে মরিচের দাম কমেছে কেজিতে ১০০ টাকা। এর আগে প্রতিকেজি মরিচ খুচরা বাজারে বিক্রি হয়েছে ২৪০-২৫০ টাকায়।

বর্তমানে খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৬০-২০০ টাকা। তবে আড়তদার বলছেন, প্রতি কেজি মরিচ পাইকারী ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ অতি বৃষ্টি আর বন্যার দোহাই দিয়ে এক শ্রেনীর অসাধু ব্যবসায়ী মরিচের বাজার আকাশচুম্বি করেছে। পাইকারী বাজার থেকে খুচরা বাজারের যাওয়ার সাথে সাথে দ্ধিগুন দামে বিক্রি করছেন তারা।

ওই মার্কেটের খুচরা ব্যবসায়ী ইলিয়াস আহমেদ জানান, আড়ত থেকে ৫ কেজি মরিচ কিনলে পচা বেড় হয় আধা কেজি, আবার খুচরা বিক্রিতে ভোক্তাদের একটু বেশী দিতে হয়, বিক্রি না হলে ঘাটতি হয় নানা কারনে ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে মরিচের আমদানী বাড়লে ১০০-১২০ টাকা বিক্রি করা যাবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর জানায়, ২০১৯-২০ চলতি খরিপ-১ মৌসুমে ৪১৬ হেক্টর জমিতে কাঁচা মরিচের চাষ করা হয়। আর রবি মৌসুমে ১ হাজার ৭৭০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। এতে দুই মৌসুমে ফলন হয়েছে ৪ হাজার ১৫৩ মেট্রিকটন।

অনুকুল আবহাওয়া আর ভাল দাম পাওয়ায় চাষিরা মরিচ চাষের ওপর ঝুঁকে পড়েছে। আগামীতে আরও বেশী চাষ করার প্রস্ততিও নিচ্ছেন অনেকেই। এই মৌসুমে চাষিরা তাদের উৎপাদিত মরিচ বিভিন্ন আড়তে কেজি প্রতি ১৭০-১৮০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। আবার খুচরা ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন হাট বাজার সহ ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করছেন ২৪০-২৫০ টাকায়।

জেলা শহরের কিচেন মার্কেটে সবজি কিনতে এসে কথা হয়, নিউবাবু পাড়ার মিঠুন রায়ের সাথে তিনি জানান, ভারতীয় মরিচ এসে স্বস্তি ফিরে পেয়েছে ভোক্তারা, কিন্ত স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সবজির বাজার একেবারে নাগালের বাহিরে।

তিনি বলেন, এক সপ্তাহের ব্যবধানে এমন কি হলো, ৪০ টাকার পেঁয়াজ কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৫০ টাকায় কিনতে হলো। প্রকার ভেদে আলু প্রতি কোজ ১০ টাকা বেড়ে ৪০ টাকা, কচুর বই (সজি) ৫ টাকা বেড়ে ২৫ টাকা, ৪০ টাকার পোটল ১০ টাকা বেড়ে ৫০ টাকা, বরবটি ৪০ টাকা যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০ টাকা, ঢেঁরস ৫ টাকা বেড়ে ৩০ টাকা, ঝিঙ্গা ৪৫ টাকা যা গত সপ্তাহে ছিল ৩২ টাকা, ৩৬ টাকার মুলা ৪ টাকা বেড়ে ৪০ টাকা, প্রকার ভেদে বেগুন ১০ টাকা বেড়ে প্রতিকেজি ৫০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪০ টাকা যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০ টাকা।

এদিকে, প্রতিকেজি রসুন ১১০ টাকা যা গত সপ্তাহে ছিল ৯০ টাকা, আদা প্রতিকেজি পাইকারী ১০০ আর খুচরা বিক্রি ১২০ টাকা। করল্যা ১০ টাকা বেড়ে ৬০ টাকা, শুকনা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২৬০ টাকা যা গত সপ্তাহে ছিল ২২০ টাকা, শসা ১০ টাকা বেড়ে ৪০ টাকা, লাউ প্রতিপিচ ১০ টাকা বেড়ে ৩০ টাকা, কাঁচকলা ৫ টাকা বেড়ে প্রতিহালি ২৫ টাকা ও কাঁচা।

জেলার ডোমার উপজেলার পাঙ্গা মটুকপুর ইউনিয়নের পুরান মেলা পাগলি মা’র হাট, কাঁচা মরিচের জন্য বিখ্যাত। এই হাটে গত মৌসুমে প্রতিদিন ১৫-২০ ট্রাক কাঁচা মরিচ ঢাকা, সিলেট, যশোর ও কুষ্টিয়া থেকে মহাজনরা এসে মরিচ নিয়ে যেত।

ওই এলাকার মরিচ চাষি ও ব্যবসায়ী দুলাল হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে দুই বিঘা জমিতে মরিচের চাষ করেন। গেল বছর চাষ করে ছিলেন, দেড় বিঘা জমিতে। মরিচের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় তিনি বেশ খুশি। তবে এলসি মরিচ বাজারে আসায় হঠাৎ দাম অস্বাভবিকভাবে কমে গেছে। যা এখন ভারতীয় মরিচ নীলফামারীর আড়তদাররা পাইকারী প্রতিকেজি ১০০-১২০ টাকায় বিক্রি করেন।

জেলা শহরের কিচেন মার্কেটের আড়তদার আলম হোসেন জানান, প্রতিদিন ২৫-৩০ টন মরিচ সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার হাট বাজারে পাঠাতে হয়। শেষ মৌসুমে স্থানীয় কৃষককের ক্ষেতের ফসল নস্ট হওয়ায় মরিচের বাজার মানুষকে আতঙ্কিত করেছিল। কিন্ত এলসি মরিচ আসায় ভোক্তরা স্বস্তি ফিরে পেয়েছে।

একই কথা বলেন, ওই বাজারের আড়তদার রুহুল আমিন। তিনি আরো জানান, খুচরা বাজারে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে দাম বৃদ্ধি করে। এক্ষেত্রে বাজার মনিটারিং করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

সদরের রামনগর ইউনিয়নের উত্তর রামনগর গ্রামের মরিচ চাষি রমনী কান্ত রায় জানান, মরিচের আবাদ কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ। অতি বৃষ্টি ও বন্যায় মরিচের গাছ মারা যায়। সেজন্য এবার আবাদের পরিমান কমে গেছে। একই এলাকার ভোক্তা আবুল কাশেম বলেন, মরিচ একটি নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য। দাম বেশী হওয়ায় প্রয়োজন মতো কিনে খাওয়া খুবই কষ্টসাধ্য। সরকার যদি পাশ্ববর্তী দেশ থেকে মরিচ আমদানী করে তাহলে গরীব মানুষের খুব ভাল হতো।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামরুল হাসান জানান, চাষিরা তাদের উৎপাদিত মরিচের ভাল দাম পাওয়ায় অনেকেই মরিচ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। তবে গত বছরের তুলনায় এবার মরিচের আবাদ কম হওয়ায় ও চাহিদার তুলনায় সরবারহ কম দামও বেশী।

নীলফামারী সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. এলিনা আক্তার জানান, বাজারে কাঁচা মরিচের দাম স্থীতিশীল রাখতে নিয়মিত মনিটারিং করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

cover3.jpg”><img src=”https://www.bssnews.net/wp-content/uploads/2020/01/Mujib-100-1.jpg”>

via Imgflip

 

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451