1. gnewsbd24@gmail.com : admi2019 :
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২০, ১১:০৬ পূর্বাহ্ন

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের বিষয়ে জাতিসঘের ভূমিকায় বাংলাদেশ অত্যন্ত হতাশ

জি-নিউজবিডি২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ১৪ বার পঠিত

জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠার ৭৫ বছর পূর্তিতে বৈশ্বিক সংস্থাকে ঢেলে সাজানোর সময় এসেছে। বিশেষ করে জরুরি প্রয়োজনে রাষ্ট্র নয় মানুষের কল্যাণে প্রত্যাশা অনুযায়ী জাতিসংঘকে আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা জরুরি হয়ে পড়েছে। কারণ জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে অনেকের মাঝে হতাশা রয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ বিষয়ে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারের কর্ম অধিবেশনে বক্তারা এই অভিমত দেন।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর পিস স্টাডিজ (সিপিএস) ও জাতিসংঘ বাংলাদেশ যৌথভাবে ‘জনগণের প্রয়োজনের সময়ে জাতিসংঘ: বহুপক্ষীয় ব্যবস্থা নিয়ে পুনর্ভাবনা’ শীর্ষক দুই দিনের ওই ওয়েবিনারের আয়োজন করে। দুই দিনের ওয়েবিনারের দ্বিতীয় দিনে নাগরিক সমাজের প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের ভবিষ্যত নিয়ে প্রথম কর্ম অধিবেশনে আলোচনা হয়।

পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, জাতিসংঘে এক ধরনের পরিবর্তনের সুর লক্ষ্য করা যাচ্ছে তবে সব দেশই একইভাবে এই পরিবর্তনে যুক্ত হচ্ছে না। অনেক দেশ দায়িত্বশীল হয়ে সহযোগী হয়ে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকছে। আবার কোন কোন দেশ বাধাও সৃষ্টি করছে। ফলে জাতিসংঘ এখনও অন্তবর্তীকালীন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জাতিসংঘের ৭৫ তম বর্ষপূর্তিতে এসে ভাবার সময় এসেছে কোথায় আমরা যেতে চাই।

জাতিসংঘের কাছে বাংলাদেশের প্রত্যাশার প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা অবশ্যই বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার প্রতি আস্থাশীল। তবে আমরা আরো স্বচ্ছ ও দক্ষ জাতিসংঘ চাই। যেখানে জরুরি প্রয়োজনে জাতিসংঘ আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে। যাতে সদস্য দেশের প্রত্যাশা পূরণ হয়। তবে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানের বিষয়ে জাতিসঘের ভূমিকায় আমরা অত্যন্ত হতাশ।

তিনি বলেন, জাতিসংঘের বর্তমান কাঠামো যে যথেষ্ট কার্যকর নয়। সেটা নিরাপত্তা পরিষদের ভোটাধিকার হোক, প্রবল শক্তিধর দেশগুলোর দ্বৈরথই হোক না কেন। কক্সবাজারে গিয়ে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বললে জানবেন জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে তারা হতাশ। কারণ তৃণমূলে জাতিসংঘ রোহিঙ্গাদের সহায়তা করলেও মূল সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘ স্পষ্ট কোন পথ নকশা দিচ্ছে না।

ভারতের অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট সামীর সরন বলেন, বর্তমান দুনিয়া হচ্ছে এশিয়ার দুনিয়া এবং জাতিসংঘে এশিয়ার সঠিক প্রতিনিধিত্ব থাকতে হবে।

এশিয়ার দেশগুলি তাদের সম্পর্কেও জটিলতা দুর করে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে তিনি বলেন, চীন ও ভারত এবং অন্যান্য দেশগুলি এক সময়ে সংলাপে বসবে এবং নিজেরা বিষয়টি সমাধান করবে।

বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী মিয়া সেপ্পো বলেন, তরুণদের নেতৃত্বে নাগরিক সমাজের কর্মকান্ড বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তন, নারীর প্রতি সহিংসতাসহ নানা ইস্যুতে তাদের ভূমিকা চোখে পড়ার মত।

তাঁর মতে, নাগরিক সমাজের কাজের ক্ষেত্রের জন্য চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। কারণ তারা কথা বলতে পারেন জাতিসংঘের মধ্যে। জাতিসংঘের সদস্য দেশের গরীব মানুষের কন্ঠ তখনই শোনা যায়, যখন ওই দেশ তাদের দূর্দশা লাঘবের চেষ্টা করেন। কাজেই শেষ পর্যন্ত সদস্য দেশগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। কারণ সদস্য দেশে যদি নাগরিক সমাজের জন্য কাজের ক্ষেত্র না থাকে তবে জাতিসংঘের করিডোরে কীভাবে তারা সুযোগ পাবে।

পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জামান বলেন, বড় তহবিল থাকার কারণে বড় বড় এনজিওগুলো জাতিসংঘের প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারছে না। তহবিলের সংকট থাকায় ছোট ছোট এনজিওগুলো জাতিসংঘের প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে পারছে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, জাতিসংঘের খোলনলচে পরিবর্তনের সময় এসেছে। ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত রেনসে টেরিঙ্ক বলেন, মানুষের কল্যাণে ভূমিকা রাখার স্বার্থে জাতিসংঘকে কাঠামো নয় পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে হবে। এই প্রেক্ষাপট থেকে ইইউ সেই শূণ্যতা পূরণের জন্য কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআইয়ের নীতিমালা পরামর্শক আনীর চৌধুরী বলেন, জাতিসংঘ এবং এর সংস্থাগুলি বাংলাদেশসহ আরো অনেক দেশগুলিকে জনগণের জন্য সহজভাবে ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি তৈরী করতে সহায়তা করছে।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র ফেলো এবং সাবেক পররাষ্ট্র সচিব রাষ্ট্রদূত শহীদুল হক বলেন, শুধুমাত্র দেশের জন্য কাজ না করে জনগণের প্রতি আরো বেশি মনোযোগি হওয়া উচিৎ জাতিসংঘের।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর আতিকুল ইসলাম বলেন, জাতিসংঘকে মানুষ-কেন্দ্রিক হতে হবে এবং প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে।

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ভূরাজনীতি ও আঞ্চলিক বিষয়ক এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় কেন্দ্রের প্রধান শেখ তানজীব ইসলাম বলেন, সরকারের উপর অনেকের বিশ্বাস আছে কিন্তু তারা ঠিকমতো সেবা দিতে পারেনা আবার বেসরকারি খাতের উপর কারো বিশ্বাস নেই কিন্তু তারা সেবা প্রদান করছে এবং এদুটি বিষয় নিয়ে জটিলতা আছে।

অনুষ্ঠানে ইউনাইটেড ন্যাশন ইয়ুথ এন্ড ষ্টুডেন্টস এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট শাম্মী ওয়াদুদ বক্তব্য রাখেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451