শুক্রবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২১, ০৭:৫১ অপরাহ্ন

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি’র ক্যাশিয়ার পরিচয়ে আনোয়ারের চাঁদাবাজি

রাশেদ উদ্দিন ফয়সাল, সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি :
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৪৬ বার পঠিত

সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ক্যাশিয়ার নিয়োগ দিয়ে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে। আনোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তি ক্যাশিয়ার হিসেবে এই চাদাঁ তোলেন। তার দাবি, চাঁদার একটি অংশ থানার ওসি কামরুল ফারুকের জন্য বরাদ্দ থাকে। যার কারণে অবৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে থানার কোন অফিসার অভিযান চালালে আনোয়ার নামের ঐ ক্যাশিয়ারকে ফোন ধরিয়ে দিলেই বন্ধ হয়ে যায় পুলিশের অভিযান।

চাঁদাবাজির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং যেসব এলাকা ও প্রতিষ্ঠান থেকে এসব চাঁদা তোলা হয় সেখানকার অনেকের কাছ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। তবে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল ফারুক জানান, আনোয়ার আগে ক্যাশিয়ার ছিল কি না জানি না, এখন আমার কোন ক্যাশিয়ার নেই। অন্যদিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইশতিয়াক আশফাক রাসেল জানান, থানার ক্যাশিয়ার আছে কি না আমার জানা নেই। এটা ওসি সাহেব বলতে পারবেন।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, আনোয়ার সাদা পোশাকে থানা এলাকার বিভিন্ন জুয়ার আসর, চোরাই তেল বিক্রেতা, অবৈধ মশার কয়েল কারখানা, অসামাজিক কাজের আবাসিক হোটেল ব্যবসা, মাদক ব্যবসায়ী, কেরামবোর্ড ঘর, সরকারী জমির অবৈধ মার্কেট ও বিপণির মালিক, ফুটপাতে ভাসমান হকার ও শিল্প এলাকার ভাঙ্গাড়ীসহ বিভিন্ন বেআইনি কাজে লিপ্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে মাসোহারা আদায় করেন। আনোয়ার প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

শিমরাইল মোড়ের বাউল শিল্পীদের অফিসের নামে একটি জুয়া ও পতিতা আসর থেকে দৈনিক ১০ হাজার টাকা করে, শিমরাইল মোড় ফুটপাত থেকে মুরগী রিপনের মাধ্যমে চাঁদা নেন ক্যাশিয়ার আনোয়ার। এই তথ্য নিশ্চিত করেন জুয়া আসরের পরিচালনাকারী। এছাড়াও শিমরাইল মোড়ে সরকারী জমির উপর গড়ে ওঠা ৮টি হোটেল থেকে প্রতিমাসে ৩০ হাজার টাকা করে নেয়া হয় বলে জানান একজন হোটেল মালিক।

এদিকে গোদনাইল বার্মা ষ্ট্যান্ড ও এসওরোড এলাকায় পদ্মা ও মেঘনা অয়েল ডিপোকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে শতাধিক অবৈধ চোরাই তেলের দোকান। ঐ সকল চোরাই তেলের দোকান থেকে সাদ্দাম ওরফে মোটা সাদ্দাম নামের এক পুলিশ সোর্সের মাধ্যমে প্রতি মাসে ৫ লাখ টাকা নেয়া হয় বলে জানান স্থানীয় সূত্র। তবে মাসোহারা দেওয়ার কথা স্বীকার করলেও চোরাই তেলের ব্যবসার কথা অস্বীকার করেছেন সাদ্দাম ওরফে মোটা সাদ্দাম।

তিনি বলেন, খোলা বাজারে তেল বিক্রি করার কারণে এ টাকা দিতে হয় থানার ওসিকে। অন্যথায় আমাদের ব্যবসা বন্ধ করে দিবে পুলিশ। এ ছাড়াও জাহাজের ফার্নিচার ও স-মিল কারখানায় অবৈধ সেগুন, গামারি ও গর্জন কাঠ ব্যবহার করায় থানা এলাকায় ৮টি স-মিল থেকে মোটা অংকের মাসোহারা নেন ক্যাশিয়ার আনোয়ার। এসব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে আনোয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি থানার ক্যাশিয়ার নন বলে অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমি থানার কেউ না। কিন্তু বিভিন্ন স্পট থেকে চাঁদা আদায়ের সুনির্দিষ্ট তথ্য জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে আনোয়ার বলেন, ‘চাঁদা নিয়ে কি আমি খাই? চাঁদার টাকা থানার ওসিকে দেই। এমনকি ওসির বাজারও করে দেই।

তিনি আরো জানান, ক্যাশিয়ার আরো আছে ‘মোটা সাদ্দাম, মুরগী রিপনসহ আরও কয়েকজন। ওসি ও এসআই ফারুককে দিয়ে কিছু থাকলে আমি রাখি। এই আর কি।’ তবে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল ফারুক জানান, আনোয়ার আগে ক্যাশিয়ার ছিল কি না জানি না, এখন আমার কোন ক্যাশিয়ার নেই। ওসির পরিবারের জন্য টাকা দেয়ার যে দাবি করেন আনোয়ার, সে ব্যাপারে জানতে চাইলে ওসি কামরুল ফারুক টিপ্পনী কেটে বলেন, ‘সাংবাদিকরা এসবের খবরও রাখে?

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

cover3.jpg”><img src=”https://www.bssnews.net/wp-content/uploads/2020/01/Mujib-100-1.jpg”>

via Imgflip

 

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451