1. gnewsbd24@gmail.com : admi2019 :
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন

কৃষকের কাছ থেকে সরকারের ধান কেনা এবং কৃষক

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২০
  • ৯৬ বার পঠিত

॥ ফজলুল হক খান ॥
বোরো মৌসুমে ধান কাটা শুরু হয়ে গেছে প্রায়। সরকারও ধান কেনা শুরু করবে সহসাই। কাগজে কলমে সব সরকারের সময় সব মৌসুমে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা হয়। কিন্তু বাস্তবে প্রায় সময়ই কৃষকের ধান সরকারি গুদামে যায় বটে তবে ঐ টাকা কৃষকের কাছে যায় না। যায় একশ্রেনির দালাল কিংবা ক্ষমতাশালী কোন রাজনৈতিক নেতার পকেটে। “ক”নামের কৃষক ধান বিক্রি করেছে এর প্রমান সরুপ যে সকল কাগজ পত্রাদি বিল-ভাউচার করতে প্রয়োজন হয় তা কৃষকের সাথে বোন জামাইয়ের মত ব্যবহার করে এবং অভিনব প্রতারনার মাধ্যমে নিয়ে নেয়া হয়। এর কয়েকটি কারন-

১। সরকারি খাদ্য গুদামের কর্তাব্যক্তিদের ভাষা অনেক সময় কৃষক বুঝতে পারেন না। সরকারি লোক হিসাবে কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনে কৃষকের এতো বড় একটি উপকার করলেন তার জন্য তো তারা কিছু পেয়ে থাকেন। তা সে কৃষকটি বুঝতে চান না।অনেক সময় ঘাম ঝরিয়ে কামানো অর্থ তারা দিতেও চান না কিংবা দরকষাকষিও করেন।

২। কৃষক ধান ভাল করে শুকিয়ে বিক্রি করে আনেন না। ফলে আদ্রতার প্রশ্নে মিটারে গন্ডগোল হয়। মিটার ধান নিতে বারণ করে। এতে সরকারি ধান নষ্ট হওয়ার শঙ্কা থাকে।যেহেতু তিনি সরকারি দায়িত্বশীল কর্মকর্তা তাই সরকারের সম্পদ তিনি তো নষ্ট হতে দিতে পারেন না। তাই কৃষককে ফিরিয়ে দেয়া হয়।

যদিও যুগ যুগ ধরে এ কৃষক কৃষাণিরাই এভাবেই শুকিয়ে গোলায় রেখেছে ধান পুরো বছর। ধন পঁচেও নাই। নষ্টও হয় নাই। তারা নাকি ধান শুকাতে পারে না কিন্তু বাড়ী গিয়ে কি করবে বাজারেই এক শ্রেনির দালালদের কাছে বিক্রি করে তার প্রয়োজন মিটায়ে থাকে। এ দালালরাই ঐ কৃষকের ধান খাদ্য গুদামে দেয় তখন আদ্রতার সমস্যাটি মিটে যায়।

কারণ এ দালাল ও মুনাফাখোরদের সাথে ঐ সমস্ত দেশপ্রমিক খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা যাদের সাথে তাদের ভাই বন্ধু এবং দেনা পাওনার সম্পর্ক। চা সিঙ্গারা এক টেবিলে প্রতিনিয়ত খাওয়ার সম্পর্ক হওয়ায় খাদ্য গুদাম অফিসের লোকজনের চোখের ভাষা তারা বোঝেন তাই তাদের ধান গুদামে ঢুকাতে মিটারে কোন সমস্যা হয় না। দেদারছে দালালরা শত শত টন ধান কৃষককে নামকাওয়াস্তে টাকার বিনিময়ে খুসি করে ক্ষেত্র বিশেষে বাধ্য করে গুদামে ঢুকিয়ে দেন।

মানেন বা না মানেন দু’একটি জায়গা ব্যতিক্রম বাদে এটি সারা দেশের চিত্র। আবার অসহায়ের সাথে লক্ষ্য করা যায় সরকার এমনভাবে এ ধান কেনা কর্মসুচিটি চালু করে যখন কৃষককে তার অতিপ্রয়োজনে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হতে হয়। তখন কর্মসূচিটি চালুেকরা হয়ে ওঠে না।ধান ভেজা তাই আদ্রতা ইস্যুতে ও মিটারে গ্রহন না করার দোহাই দিয়ে বাজরে বিক্রি করতে বাধ্য হয়। কৃষকের গোলা যখন প্রায় খালি হয়ে যায় তখন যার পর নাই ধান কেনার ধুম পড়ে যায়।

সুবিধাবাদি দালাল ও মুনাফাখোর একশ্রেনির ব্যবসায়ির অসৎ কার্যসাধনের দরজাটি সুন্দর করে খুলে যায়। ফলে কৃষক হয়ে যায় বোবা। আকাশের দিকে অপলক দাড়িয়ে থাকে আর বিড় বিড় করে মনের অজান্তেই বলতে থাকে সরকারের ধান কেনার এমন চিত্র দেখার জন্যই কি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জীবন যৌবন কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে কাটিয়ে দেশটি শোষকদের হাত থেকে মুক্ত করেছিলেন ? এমন ফটকাবাজদের রুখতে গিয়েই তো তিনি নিজেকে উৎসর্গ করলেন। তারই কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা জাতির জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়বার প্রত্যয়ে জাতির হাল ধরেন।

তিনি কৃষকেরও নেতা হবেন তাই তো প্রতাশিত। তাই যথেষ্ট কারন ও উপাদান আছে যে, বর্তমান সরকার একটি কৃষি বান্ধব সরকার। কৃষকের ও কৃষির উন্নয়নে বিশাল ভুর্তুকি বলতে গেলে পৃথিবীতে বিরল। যেখানে একটি সময় সারের দাবিতে কৃষককে হত্যা করার মত জঘন্য ঘটনা ঘটতো সেখানে পর্যাপ্ত সারের মজুদ ও সরবরাহ এবং শৃঙ্খলাপুর্ন বিতরন ব্যবস্থায় একটি স্লোগানও কার্যকর যে,
সারের কাছে কৃষক যাবে না – বরং কৃষকের কাছেই সার যাবে। এটি একশতভাগ দৃশ্যমান। শুধু তাই নয় সেচকাজে ব্যবহৃত বৈদ্যতিক গভীর, অগভীর নলকুপ এবং কেরসিন ও ডিজেলচালিত নলকুপের উপর সরাসরি কৃষককে ভুর্তুকির অর্থ পৌছে দেয়ার নীতি এ সরকার গ্রহন করেছে তাতে সরকার কৃষকবান্ধব কি না তা প্রমান করার জন্য কোন গবেষনার দরকার হয় না।

এগুলো কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নের জন্য যুগান্তকারি পদক্ষেপ। কিন্তু সরকারের কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার কাগুজে যে নীতি তা বাস্তবে জাতিকে ধারাবাহিক অবাক করে। তাই কৃষকবান্ধব সরকারের প্রানের কৃষককে বাঁচাতে এবং সরকারের কাছে চলতি মৌসুমে কৃষকের ধান বিক্রির কিছু সুপারিশের ক্ষুদ্র চিন্তার প্রকাশ ঘটাতেই এ লেখার অবতারনা।

এ মৌসুমের জন্য সুপারিশ।

১। প্রতি উপজেলায় সমস্ত চাউলকল/চাতাল এক মাসের বা তারও বেশী সময়ের জন্য সরকার অধিগ্রহন করতে পারে।এক্ষেত্রে তাদের একটা প্রনোদনার ব্যবস্থাও করা যেতে পারে।

২। একটি উপজেলাকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে সপ্তাহের নির্দিষ্ট একেক দিন একেকটি এলাকায় সরকারি গুদাম কর্মকর্তা ও কর্মচারি এবং খাদ্য কর্মকর্তা ও ককর্মচারি গন ঐ সকল চাউক কল/চাতালে সশরীরে গিয়ে কৃষকের কাছ থেকে ভেজা ধান নগদে ক্রয় করতে পারেন।

৩। কৃষকের কাছ থেকে কেনা ভেজা ধান প্রয়োজনে মৌসুমের জন্য প্রয়োজনমাফিক দৈনিক ভিত্তিতে শ্রমিক নিয়োগ করা যেতে পারে। ঐ শ্রমিকরা চাতালে ধান শুকাবে এবং আদ্রতা পরীক্ষা করে গুদামজাত করবে।

৪। কোন চাতালে কোন্ দিন কোন্ কোন্ ওয়ার্ড বা এলাকার কৃষকের ধান কেনা হবে তা আগেই প্রচার করে জানিয়ে দিতে হবে।

এতে করে দালাল ও মধ্যসত্যাভোগীদের একদিকে যেমন নিয়ন্ত্রন করা যাবে তেমনি আদ্রতার ধুয়া তুলে কৃষকের কাছ থেকে ধান না কেনার প্রবনতার মুখটি বন্ধ করা যাবে।

কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনার স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পক।

কৃষিবান্ধব সরকারকে সত্যিকার অর্থেই কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার জন্য নিম্নরুপ স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহন করা যায়।

১। বর্তমান ব্যবস্থায় একটি উপজেলায় প্রকৃতই কত হেক্টর জমিতে ধান চাষ করা হয়েছে তার পরিসংখ্যান কিন্তু গদবাধা। সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বিশেষত: উপজেলা কৃষি অফিস গতানুগতিক কিন্তু ডিজিটাল ফাকিবিদ্যার মাধ্যমে গত বছরের রেকর্ড দেখে তত্ত হালনাগাদ করে থাকেন। তাতে গড়হারে হয় ১০হেক্টর বেশী বা না হয় ১৫ হেক্টর কম এ নীতিতে তত্ব আপডেট করেন। সেভাবেই উৎপাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেন।

কৃষকওয়ারী ধান রোপনের আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক কোন পদ্ধতি ও পরিসংখ্যান একটি উপজেলা কৃষি অফিসে পাওয়া সম্ভব কিনা আমার জানা নেই। আবার জমি নিজেই চাষ করতো এবছর বর্গা দেয়া হয়েছে তারও পরিসংখ্যান তাদের কাছে আছে কিনা এবং কোন ব্যক্তি কার কতটুকু জমি বর্গা চাষ করে তার হিসাবও আমার অনুমান কেবল ভবিষৎই বলতে পারে। তাই কৃষি ও কৃষকবান্ধব শব্দটি যত সহজে উচ্চারণ করা যায় কিন্তু এর গভীরতার কাছে যাওয়া বেশ কঠিন।

ফলে প্রতিটি উপজেলা কৃষি অফিসকে উপজেলা পরিষদের গ্রাউন্ডের মধ্যে রাখা না যত জরুরী তার চেয়ে বেশী জরুরী যে জায়গায় কৃষক থাকে অর্থাৎ গ্রামে কৃষি অফিসগুলো নিয়ে যাওয়া। ওয়ার্ডে, ইউনিয়নে স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকতে পারলে কৃষি অফিস ওয়ার্ড এবং ইউনিয়নে নয় কেনো? দীর্মেয়াদে বিষয়টি এভাবে ভাবা যায়।

২। সরকার যদি সত্যিই কৃষক ও কৃষিবান্ধ হতে চায় তাহলে দীর্ঘমেয়াদে ধান চাষযোগ্য এলাকাগুলো চিহৃিত করে প্রতি উপজেলায় কয়েক লাখ টনের ধারণ ক্ষমতা সম্পর্ন এক বা একাধিক আধুনিক খাদ্যগুদাম ও তার পার্শ্বে ৫/১০একর জমি অধিগ্রহন করে ধান শুকানোর চাতাল নির্মান করে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ভেজা ধান কিনে সরকারি ব্যবস্থাপনায় শুকানো এবং গুদামজাতের প্রকল্প হাতে নেয়া।

এ সব গুদামে সরকার ভেজা ধান কিনে যেমন শুকাবে তেমনি ধান শুকনো হলে এবং স্বাভাবিক আদ্রতা থাকলে তা গুদামজাত করবে। এতে সত্যিকারের কৃষকের কাছ থেকে সরকারের ধান কেনা নীতিটি বাস্তবেই রুপ নেবে। সরকারের সচ্ছতা ও জবাবদিহিতার এক অনন্য উদাহরণও তৈরী হবে। কার্যকরি হবে কাগুজে নয়- কর্যতই কৃষক তার ধান দালালের মাধ্যমে নয় কিংবা ভুয়া মাষ্টাররোল নয়- নিজেই দেবে এবং মুল্য বুঝে নেবে। এভাবেই হতে পারে সততা চর্চার এক নতুন অনুশীলন।
তাই আসুন- কৃষককে ঠকানো নয়- নয় প্রতারণা।

সত্যিকার কৃষককেই যেনো সরকারি খাতায় দেখতে পাই। আর কেউ নয়- শেখ হাসিনাই পারেন এমনভাবে কৃষকের কাছে যেতে।

ফজলুল হক খান
কৃষি ও কৃষককে নিয়ে সাধারণ চিন্তক।

fh.khan52 @Yahoo.com

 

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451