1. gnewsbd24@gmail.com : admi2019 :
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ১০:২১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
দেশে করোনায় ২৪ ঘন্টায় আক্রান্ত ১ হাজার ৩০৮, মৃত্যু ২৩ জন সুনামগঞ্জ সীমান্তে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে কয়লা পাচাঁর: ২টন জব্দ ফুলবাড়ী রাবার ড্রাম নির্মাণ করলে কয়েক হাজার জমি সেচ সুবিধা পাবে শ্রীপুরে গড়াই নদীতে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত ধর্ষন ও নারী নির্যাতনকারীদের আওয়ামীলীগের দরজা চিরদিনের জন্য বন্ধ – সেতু মন্ত্রী ব্যবহার হচ্ছেনা বেসিন: শীতে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি ভালুকা উপজেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠিত আমিও সাংবাদিক পরিবারের একজন সদস্য: প্রধানমন্ত্রী করোনায় যুক্তরাষ্ট্রে ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৮১ হাজারের বেশি বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত সোয়া ৪ কোটি ছাড়াল, মৃত্যু প্রায় সাড়ে ১১ লাখ

পুলিশে মাদকাসক্ত, ডোপ টেস্টে ধরা পড়লেই চাকরিচ্যুত

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২০
  • ১২ বার পঠিত

সারাদেশে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে যারা মাদকাসক্ত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে এক্সট্রিম এ্যাকশন শুরু হয়ে গেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ডোপ টেস্টের ফলাফলের ভিত্তিতে তাদের সনাক্ত করে চাকরিচ্যুত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে পুলিশে যারা মাদকাসক্ত তারা ইতোমধ্যেই সতর্ক হয়ে গেছেন। তাদের অনেকেই মাদক ছেড়ে সুষ্ঠু জীবনে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যারা দীর্ঘদিন মাদক গ্রহণে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলেন, মাদক ছাড়তে পারছেন না, তারা গোপনে গোপনে চিকিৎসকের কাছে দৌঁড়াচ্ছেন। আসলে তাদের কেউই মাদকাসক্তির কারণে সরকারি চাকরিটা হারাতে চাচ্ছেন না।

ডোপ টেস্টের পর যথাযথ ব্যবস্থায় যেতে যেনো প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা হয় এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যসহ অন্যদের মনোবল যেনো না ভাঙে সেই বিষয়ে পুলিশের উর্ধ্বতন পর্যায় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ বছরের ২৭ জুন দুপুরে উত্তরার দিয়াবাড়িতে ডিএমপির আঞ্চলিক পুলিশ লাইন্সে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট ফোর্সের ব্যারাক উদ্বোধন শেষে আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ বলেছিলেন, পুলিশ বাহিনী ড্রাগ নিজে খাবে না। কাউকে কোনো ধরনের সহযোগিতাও করবে না।

পুলিশ বাহিনীর কোনো সদস্য কোনো অবৈধ অর্থ নেবে না। জিরো করাপশন হবে আমাদের লক্ষ্য। আর ড্রাগ থেকে পয়সা নেয়ার তো প্রশ্নই আসে না।

শরীরে ক্যানসার হলে আমরা সে অংশটাকে একেবারে নির্দয়-নিষ্ঠুরভাবে শরীর থেকে অপসারিত করি। যদি আমাদের কোনো সদস্য ওই ধরনের অপকর্মে লিপ্ত হয়, তাকে আমরা ক্যানসার মনে করে পুলিশ নামক শরীর থেকে অবশ্যই নিষ্ঠুর ও নির্দয়ভাবে অপসারণ করব।

এরপর গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে মিরপুরে ট্রাফিকের ডিসির নতুন কার্যালয়ের উদ্বোধন শেষে ডিএমপি কমিশনার বলেন, মাদকের বিষয়ে আমরা সন্দেহভাজন পুলিশ সদস্যদের ডোপ টেস্ট করিয়েছি। এর মধ্যে ২৬ জন সদস্যের পজিটিভ পেয়েছি। এই ২৬ জনকে চাকরিচ্যুত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

পুলিশ সদস্যের শরীরে মাদকের নমুনা সনাক্তের কারণে তাদের চাকরিচ্যুতির ঘোষণা দেওয়ায় নড়েছড়ে বসেছে পুলিশে কর্মরত মাদকাসক্ত সদস্যরা। সরেজমিনে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহে গিয়ে এমনটিই জানা গেছে।

তথ্য মতে, ডোপ টেস্টের কার্যক্রম কেবল ডিএমপিতেই থেমে নেই। এটি সারাদেশের বিভিন্ন এলাকায় সন্দেহভাজন পুলিশ সদস্যদের উপর প্রয়োগ করা হচ্ছে। উচ্চ পর্যায় থেকে নেওয়া পুলিশের এই কার্যক্রমকে অনেকেই স্বাগত জানাচ্ছেন।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি) কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান আরটিভি নিউজকে বলেন, আমাদের এখানেও ডোপ টেস্টের প্রক্রিয়া চলমান আছে। টেস্টে যাদের পজেটিভি আসছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। বিএমপিতে কর্মরত মাদকে সন্দেহভাজন পুলিশ সদস্যদের নজরদারির মধ্যে রাখা হচ্ছে।এদিকে ডিএমপি কমিশনারের ঘোষণার পর সারাদেশে পুলিশের ডোপ টেস্ট কার্যক্রম নিয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া শাখার সহকারী পুলিশ মহাপরির্দশক (এআইজি) সোহেল রানা বলেন, বর্তমান আইজিপি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মাদক বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করছেন।

আইজিপি বিশেষ করে ৫ টি লক্ষ্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সেগুলো হলো- জিরো ড্রাগ, জিরো করাপশন, জিরো টর্চার, বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং পুলিশ কল্যাণ ও শৃঙ্খলা। মূলত এই ৫ টি লক্ষ্য নিয়ে পুলিশ কাজ করছে।

এআইজি সোহেল রানা আরও বলেন, মাদক নির্মূল করতে গিয়ে পুলিশের একেকটি ইউনিট একেক রকমের ব্যবস্থা নিচ্ছে। কেউ ডোপ টেস্ট করছেন, কেউবা অন্য ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছেন। মাদক নির্মূলের বিষয়ে অলরেডি সারাদেশের পুলিশের উর্ধ্বতন পর্যায়ের নির্দেশনা দেওয়া আছে। সেই অনুযায়ী কাজ চলছে।

ডিএমপির উর্ধ্বতন পর্যায় থেকে জানা গেছে, একটি স্পেশাল উইং দিয়ে ঝিমুনি ধরে থাকা, দায়িত্ব পালনে অনিহা দেখানোসহ অন্যান্য লক্ষণ থাকা পুলিশ সদস্যদের নজরদারি করা হচ্ছে। পরে তাদের মধ্যে যাদেরকে মাদকাক্ত বলে সন্দেহ হয় তাদের ডোপ টেস্ট করানো হচ্ছে। কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করেই এই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

জানা গেছে, সন্দেহভাজন পুলিশ সদস্যদের তালিকা তৈরি করে প্রথম তা পাঠানো হচ্ছে ডিএমপি সদর দপ্তরে। সেই তালিকা ধরে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের জরুরি ভিত্তিতে ডিএমপি সদর দপ্তরে হাজির হতে বলা হয়। এরপর তাকে সেখান থেকে সিআইডি’র ল্যাবে নিয়ে তাদের রক্ত ও প্রস্রাবের নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে।

সেখানে টেস্টে পজিটিভ পাওয়া গেলেই তাকে সাসপেন্ড করে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হচ্ছে। এরপরেই চাকরিচ্যুতির প্রক্রিয়ায় যাওয়া হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যপক আতঙ্কে রয়েছেন মাদকাসক্ত পুলিশ সদস্যরা।রাজধানীর মধ্যে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং সিটি স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) এটি নিয়ে কাজ করছে।

পাশাপাশি ডিএমপি সদরদপ্তরের ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস ডিভিশন (আইএডি) সন্দেহভাজনদের তালিকা ক্রস চেক করে পুলিশ কমিশনারের কাছে তা হস্তান্তর করার কাজে আছে।

তথ্য রয়েছে, কেবল ডিএমপি’র বিভিন্ন ইউনিট ও বিভাগের সন্দেহভাজন ১০০ জনের ডোপ টেস্ট করে ২৬ জন পুলিশ সদস্যের পজিটিভ ফল পাওয়া যায়। কনস্টেবল থেকে এসআই পদমর্যাদার মাদকাসক্ত এসব পুলিশ সদস্যের চাকরিচ্যুত করার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

ডোপ টেস্টে মাদকাসক্ত ধরা পড়া পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়েছে। বিভাগীয় মামলার মাধ্যমে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের চাকরিচ্যুত করা হবে। ডোপ টেস্টে ধরা পড়া পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বেশিরভাগই থানায় কর্মরত ছিল। তাদের প্রত্যেককেই প্রাথমিকভাবে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

শনাক্ত হওয়া ২৬ জনের মধ্যে ১ জন ট্রাফিক সার্জেন্ট, ৪ জন এসআই, ৩ জন এএসআই, ১ জন নায়েক এবং ১৭ জন কনস্টেবল। এরমধ্যে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ১ জন, পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্টের (পিওএম) ৪ জন, কল্যাণ ও ফোর্সের ৪ জন, ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি জোনের ৭ জন এবং বাকি ১৭ জন পল্লবী, আদাবর, খিলগাঁও, উত্তরখান ও গেন্ডারিয়া থানায় কর্মরত।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডোপ টেস্টে যাদের পজিটিভ এসেছে তাদের মধ্যে রয়েছেন, ট্রাফিক সার্জেন্ট মুনতাসিম, এসআই মো. জাহাঙ্গীর, কনস্টেবল রাসেল, দীন ইসলাম, মো. জুয়েল, আশরাফুল ইসলাম এবং আব্দুল বারী। তারা সবাই ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি ডিভিশনে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের একটি সূত্র জানায়, ডিএমপি কমিশনারের এমন ঘোষণার পর আইজিপির পক্ষ থেকে সকল জেলা, মেট্রোপলিটন এলাকা এবং ব্যাটালিয়ানগুলোতে মাদকাসক্ত পুলিশ সদস্যদের ব্যাপারেও কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এমন নির্দেশের পর প্রত্যেকটি পুলিশ দপ্তরে নিজস্ব গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকার জেলার এসপিদের এ বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে ওইসব জেলায়ও সন্দেহভাজন পুলিশ সদস্যদের ডোপ টেস্ট করানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের সঙ্গে মাদক কারবারীদের কোনো ধরনের সখ্যতা রয়েছে কিনা সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই নজরদারীর বাইরে পুলিশের জ্যেষ্ঠ বা কনিষ্ঠ কাউকেই বাদ রাখা হচ্ছে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451