1. gnewsbd24@gmail.com : admi2019 :
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০, ১০:০৭ পূর্বাহ্ন

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী গৃহবধু পারিছার জিবন যুদ্ধ

মজনুর রহমান আকাশ, মেহেরপুর প্রতিনিধি :
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২০
  • ১২ বার পঠিত

চোখের আলো না থাকলেও অদম্য ইচ্ছা শক্তিতে বলিয়ান হয়ে জিবন যুদ্ধে হার মানেননি দৃষ্টি প্রতিবন্ধী গৃহবধু পারিছা। নিজে প্রতিবন্ধী হলেও হাল ছাড়েননি সংসারের। মানসিক ভারসাম্যহীণ ননদ, বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্বামী ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী দুই সন্তানকে নিয়ে তার জিবন সংগ্রাম। অভাব অনটন কুরে কুরে খেলেও আজো তার কপালে জোটেনি সরকারী কোন সহযোগিতা। অনেকেই সরকারী সহযোগিতা দেয়ার কথা বলে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা স্বাবলম্বীদের খোঁজ খবর রাখলেও এ প্রতিবন্ধী পরিবারের কোন খোঁজ রাখেন না তারা।

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের শাহিনের স্ত্রী দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পারিছা। বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্বামি, মানসিক ভারসাম্যহীণ ননদ রঙিলা আর দৃষ্টি প্রতিবন্ধী দুই সন্তানকে নিয়ে তার সংসার। স্ত্রী পারিছার চোখের আলো না থাকলেও মনের আলোয় পথ চলা শুরু করে সে। স্বামি শাহিনকে কামলার কাজে পাঠিয়ে আবার সাথে করে নিয়ে আসে সে। বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হওয়ায় শাহিনের মজুরি দেয়া হয় অর্ধেক। এই সামান্য টাকা দিয়ে সংসার চালানো অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হওয়ায় শুরু করে হাঁস মুরগি পালন। অল্প দিনেই কিছুটা স্বস্তি আসে সংসারে।

বছর খানেক পরে অনেক আশা নিয়ে সন্তান গর্ভে ধারণ করলেও বিধি বাম। পরপর দুটি সন্তান হয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। শুরু হয় তাদের অভিশপ্ত জিবন সংগ্রাম। তবুও হাল ছাড়েনি পারিছা। ভিক্ষাবৃত্তি না করে পরিশ্রম করে খেয়ে না খেয়ে সংসার সংগ্রামে লিপ্ত রয়েছেন। স্বামি স্ত্রী দুজনই বাঁধাগ্রস্ত হওয়ায় তাদের মাথা গোজার ঠাঁইও ছিল না। স্থানীয় ও প্রবাসী কয়েকজন যুবক কোন রকম থাকার ঘরটি ঠিক করে দিয়েছে। এখন ওই কুড়ে ঘরে ছেড়া কাথায় শুয়েই রঙিণ স্বপ্ন দেখা।

গৃহবধু পারিছা জানান, অনেকেই বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বলে শাহিনকে ঘৃণা করলেও স্বামী হিসেবে তার যতœ আদ্দির কমতি করি নাই। তার সব কাজই করতে হয়। চোখের আলো না থাকলেও মনের আলোয় সব কাজ করতে পারি। স্বামির আদর সোহাগ ভালবাসা আর সহযোগিতা সংসারের বড় সম্পদ। পারিছা আরো জানান, বাড়িতে থাকার ঘর ছিল না। স্থানীয় ও প্রবাসী কিছু যুবক কোন রকম থাকার ঘরটি ঠিক করে দিয়েছে। এখন ওই কুড়ে ঘরে ছেড়া কাথায় শুয়েই রঙিণ স্বপ্ন দেখা।

প্রতিবেশিরা জানান, পারিছা নিজে অন্ধ হয়ে গোটা সংসারটি যেভাবে টিকিয়ে রেখেছে তা একজন স্বচ্ছল মেয়ের পক্ষে সম্ভব না। অনেকের সংসারে ছোটখাটো মতবিরোধ থাকলেও পারিছার সংসারে অভাব থাকলেও আছে গভীর ভালবাসা।

ইউপি মেম্বর আনারুল ইসলাম জানান, এ ধরণের একটি পরিবার রয়েছে ভবানীপুরে এটা তার জানা নেই। বিষয়টি দেখে সহযোগিতা করা হবে। একই কথা জানালেন ইউপি চেয়ারম্যান রাহাতুল্ল্যাা।

গাংনী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তৌফিকুর রহমান জানান, গোটা পরিবারটি একটা সংকটের মধ্যে পড়ে আছে। জনপ্রতিনিধিদের উচিৎ ছিল এদের জন্য কিছু করার। তিনি আরো জানান, পরিবারটির খোঁজ নিয়ে সরকার প্রদেয় সুবিধা দেয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451