শুক্রবার, ২২ জানুয়ারী ২০২১, ০৫:৪৪ অপরাহ্ন

তানোরে দ্বিতীয় দফায় বন্যায় ডুবছে ফসলী জমি

আব্দুস সবুর, তানোর প্রতিনিধি(রাজশাহী) ঃ
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২০
  • ৫৪ বার পঠিত

টানা ভারি বর্ষণ উজানের পানিতে রাজশাহীর তানোরে বন্যার পানি বাড়ার সাথে সাথে রোপা আমনের শতশত একর ফসলী জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এর আগে একবার তলিয়ে গিয়েছিল ফসলী জমি। পুনরায় কয়েকদিন ধরে দিন রাতে ভারী ও গুড়িগুড়ি বৃষ্টির কারনে দ্বিতীয় দফায় ডুবেছে ফসলী জমি। এতে করে চরম দিশেহারা হয়ে পড়েছেন উপজেলার কৃষকরা।

কারন যে সমস্ত ফসলী জমি ডুবেছে সে সব জমিতে আর ধান হওয়ার কোনই সম্ভবনা দেখছেনা। এর আগে যাদের ফসলি জমি ডুবেছিল তাঁরা অনেকেই কোন কিছুই পাইনি। অথচ যারা চাষাবাদ করেনি তারাই পেয়েছেন বলেও একাধিক চাষিরা অভিযোগ করেন। এমনকি কৃষি দপ্তরের ব¬ক সুপারভাইজারেরা সরেজমিনে গিয়ে তালিকাও করেন না ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের।

এখানেও রয়েছে দলীয় থাবা বলে অহরহ অভিযোগ। এছাড়াও পৌর এলাকার কুঠিপাড়া শীতলি পাড়া ড্রেন পাড়াসহ বেশ কিছু বাড়িতে ঢুকে পড়েছে বন্যার পানি। তবে অবাক করার ব্যাপার কৃষি দপ্তর মাত্র ৮ হেক্টর ফসলী জমি ঢুবেছে বলে সংশ্লিষ্ট বিভাগে প্রতিবেদন দিয়েছেন এমন তথ্যই প্রদান করেছেন।

ক্ষতিগ্রস্থ একাধিক কৃষকের সাথে কথা বললে তারা জানান এর আগের বন্যায় ফসলী জমি ঢুবেছিল । কয়েকদিনের ভারী গুড়িগুড়ি বৃষ্টিতে পুনরায় জমি ঢুবেছে। গতবার বিভিন্ন এলাকা থেকে অধিক দামে চারা সংগ্রহ করে রোপণ করা হয়েছিল। কিন্তু এবার আর কোন উপায় নেই। কোন ভাবেই ধান রোপণ করা যাবেনা। আবার অনেকের এই বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে ফসলী জমি। যাদের এবার পানিতে ঢুবেছে ধান তাদের ক্ষতির পরিমাণও বেশি।

তানোর পৌর এলাকার তালন্দ গ্রামের তরুণ কৃষক মামুন জানান তালন্দ নাপিত পাড়া গোকুলগ্রামের নিচ পাড়া পর্যন্ত প্রায় ৫০ থেকে ৬০ একর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। তারমধ্যে আমার নিজের আছে পাচ বিঘা। এসব দুবার করে তলিয়েছে।

উপজেলার কামারগা মালার মোড় এলাকার আব্দুল্লাহ জানান অনেক কৃষকের দুবার করে জমি ঢুবেছে। টানা বৃষ্টি হলেই হাতিনান্দা, ছাঐড়, মোহাম্মাদ আলী পুর, মিরাপুর,পাড়িশো,কামারগা, দমদমা, শ্রীখন্ডা,সহ পুরো ইউপি এলাকার ফসলী জমিতে বন্যার পানি উঠে পড়ে। তার সাথে কথা বলতেই এলেন বয়স্ক কৃষক ফয়েজ উদ্দিন তিনি জানান ২বিঘা জমির ধান দুবার ঢুবল। আর জমিতে ধান হবেনা। আমরা ক্ষতিগ্রস্থ হলেও পাই অন্যরা। বিঘাপ্রতি ৮ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, অল্প সময়ের মধ্যে শীষ বের হত। কিছুই করার নাই।

উপজেলার চান্দুড়িয়া, কামারগাঁ ও তানোর পৌরসভা এবং কলমা ইউপির চন্দনকোঠা, আজিজপুর, কুজিশহর এলাকার বেশির ভাগ ফসলী জমিতে বন্যার পানি। যদিও গত শনিবার রোদ দেখে কৃষি দপ্তর আশা করছেন দ্রুত পানি নেমে যাবে। কিন্তু কৃষকরা বলছেন দ্রুত পানি নামার কোনই সম্ভবনা নেই।আবার মরার উপর খাড়ার ঘায়ের মত অবস্থা গুবিরপাড়া কারিগরি কলেজের সামনে ও চাপড়া ব্রিজের মুখ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। মাছ ধরার জন্য মুখ বন্ধ করে পানির চলমান প্রবাহ বন্ধ করে দিয়েছে।ব্রিজ সরকারে কিন্তু মুখ তাদের কি অবস্থা।

এসব বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামিমুল ইসলামের মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। না করারই কথা কারন সেদিন ছিল শনিবার ছুটির দিন। কর্তা বাবুদের আরাম আয়েশের প্রয়োজন ব্যাপক। তিনি থাকেন শহরে প্রতিদিন গাড়ী নিয়ে করেন যাতায়াত।

অথচ সরকারি গাড়ি নিয়ে যাতায়াতের কোন নিয়ম নেই। তিনিসহ বেশ কিছু কর্মকর্তা সেই অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করে দেদারসে বছরের পর বছর পার করে দিচ্ছেন। তাদের হিসেবে প্রথম বন্যায় ১৫০ হেক্ট্রর দ্বিতীয় বন্যায় ৮ হেক্টর মাত্র।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

cover3.jpg”><img src=”https://www.bssnews.net/wp-content/uploads/2020/01/Mujib-100-1.jpg”>

via Imgflip

 

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451