1. gnewsbd24@gmail.com : admi2019 :
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২০, ০৫:৫৫ অপরাহ্ন

খুলনায় পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সবজি ও মোটা চালের দাম

গাজী যুবায়ের আলম, ব্যুরো প্রধান, খুলনা ঃ
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২০
  • ৬ বার পঠিত

পাল্লা দিয়ে বেড়েই চলেছে খুলনায় সব ধরণের সবজি ও মোটা চালের দাম। চলি্লশ টাকার নীচে বাজারে ভালো মানের সবজি মিলছে না। এদিকে কাঁচা মরিচে ফের ডাবল সেঞ্চুরি, কমছেনা পেঁয়াজের দাম। খাদ্য মন্ত্রণালয় গত ২৯ সেপ্টেম্বর চালকল মালিকদের নিয়ে বৈঠক করে মাঝারি ও সরু চালের পাইকারি মূল্য নির্ধারণ কওে দিলেও মানছেনা ব্যবসায়িরা।

গত পাঁচ দিনেও কার্যকর হয়নি সরকারি সিদ্ধান্ত। সব ধরণের নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ। প্রাপ্ত তথ্য মতে, খুলনার বাজারে মোটা চালের সরবরাহে অনেকটা ঘাটতি দেখা দিয়েছে। মিলার ও ব্যবসায়িরা কারসাজি করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ইচ্ছামত বাড়াচ্ছে চালের দাম। দিনদিন বাড়ছে মোটা চালের দাম।

গত এক বছরে মোটা চালের দাম বেড়েছে ২৮ শতাংশ। বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। সরবরাহ ও দাম বৃদ্ধি নিয়ে সৃষ্ট সংকটের দায় নিচ্ছে না কোনো পক্ষই। খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতারা দায় চাপাচ্ছেন মিল মালিকদের ওপর। তাঁরা বলছেন, মিল থেকে মোটা চালের সরবরাহ কমে যাওয়ায় মোকামগুলোতে সংকট তৈরি হয়েছে। আবার মিলাররা বলছেন, মোটা চালের ধান আবাদে কৃষকরা আগ্রহ হারিয়ে চিকন ধানে ঝুঁকে পড়ায় চাহিদা অনুযায়ি ধানের সরবরাহ তেমন মিলছে না।

আজ রবিবার নগরীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে প্রতিকেজি কাঁচামরিচ ২০০ টাকা, বেগুন ৬০ থেকে ৬৫ টাকা, পেঁপে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, কুশি ৪০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ টাকা, কচুরলতি ৪০ টাকা, ঝিঙে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, পেঁয়াজ (দেশি) ৯০ টাকা, পেঁয়াজ (ভারতীয়) ৭০ থেকে ৭৫ টাকা, উচ্ছে ৮০ টাকা, কাকরল ৪০ টাকা, আলু ৪০ টাকা, শীতকালিন সিম ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৩৫ টাকা, বরবটি সিম ৪০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। অথচ একসপ্তাহ আগে প্রতিকেজি কাঁচামরিচ ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা, বেগুন ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, কুশি ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা, ঢেঁড়স ৩৫ টাকা, কচুরলতি ৩৫ টাকা, ঝিঙে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, পেঁয়াজ (দেশি) ৯০ টাকা, পেঁয়াজ (ভারতীয়) ৭০ থেকে ৭৫ টাকা, উচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কাকরল ৩৫ টাকা, আলু ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা, শীতকালিন সিম ৩৫ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৩০ টাকা, বরবটি সিম ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। মাসখানেক আগে নগরীর বিভিন্ন বাজারে স্বর্ণা, ২৮ বালাম, পাইজামসহ বিভিন্ন ধরণের চাল পাওয়া যেত ৪৫ টাকা কেজি দরে। এর মধ্যে কয়েকটির দাম ছিল ৪০ থেকে ৪২ টাকার মধ্যে। করোনা পরিস্থিতিসহ নানা কারণে বৃদ্ধি পেয়েই চালের এই দাম দাঁড়িয়েছিল। এখন করোনা পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক অবস্থায় নেমে আসলেও দাম আরো বেড়েছে।

খুচরা বাজারে ৪৫ টাকা কেজির নীচে কোনো চাল নেই। অনেক দোকানে মোটা চাল পাওয়া যাচ্ছে না। বিক্রেতারা বলছেন, ‘একাধিক পাইকারি বাজার ঘুরে মোটা চাল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। দামও আগের তুলনায় অনেক বেশি। তার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)’র হিসাব অনুযায়ি, গত বছর একই সময়ে স্বর্ণা, বালাম, পাইজামসহ মোটা চালের দাম ছিল ২৮ থেকে ৪০ টাকা। তা বাজারে এখন ৪৪ থেকে ৫০ টাকা কেজি। সে হিসাবে গত এক বছরে এসব মোটা চালের দাম বেড়েছে প্রায় ২৮ শতাংশ।

খাদ্য মন্ত্রণালয় গত ২৯ সেপ্টেম্বর চালকল মালিকদের নিয়ে বৈঠক করে মাঝারি ও সরু চালের পাইকারি মূল্য নির্ধারণ করে দেয়। সেই অনুযায়ি সরু মিনিকেট ৫১ টাকা ৫০ পয়সা ও মাঝারি চাল ৪৫ টাকা কেজি ধরা হয়। গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও মানছে ব্যবসায়িরা। গত দুই দিনেও সে সিদ্ধান্তের কোনো প্রতিফলন খুলনায় দেখা যায়নি। মাঝারি মানের চাল ৪৬ থেকে ৪৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অবশ্যই সরু মিনিকেট চাল সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে বিক্রি করছেন মিল মালিকরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে মোটা ধানের সংকটেই চালের দাম বাড়ছে। মোটা চালে ভোক্তার আগ্রহ কমে যাওয়ায় চাষিরা এখন মোটা ধান কম আবাদ করছেন। সংকট দেখা দেওয়ায় বাসমতি, মিনিকেট ও স্বর্ণা ধানের দাম মণপ্রতি গড়ে ১০০ টাকা বেড়েছে। সে কারণে চালের দামও বেড়েছে। বর্তমানে বাজারে কোনো মোটা ধান নেই, যা ছিল তা সরকার কিনে নিয়েছে।

বোরো ধান না ওঠা পর্যন্ত বাজারে মোটা ধান পাওয়া যাবে না। সপ্তাহখানেক আগে নগরীর মোকামগুলোতে মোটা চাল ৫০ কেজির প্রতিবস্তা ছিল দুই হাজার টাকা। দাম বেড়ে এখন তা বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ২৫০ টাকা। এছাড়া মিনিকেট দুই হাজার ২০০ থেকে বেড়ে দুই হাজার ৩০০ টাকা, স্বর্ণা এক হাজার ৯০০ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই হাজার টাকা বস্তা। অর্থাৎ, প্রতি বস্তায় ১৩০ টাকা এবং মিনিকেট ও স্বর্ণা ১০০ টাকা দাম বেড়েছে। এদিকে মোটা ধান উৎপাদনের বিষয়ে কৃষি বিভাগ যে ধারণা দেয় তার সাথে বাস্তবতার তেমন মিল নেই।

প্রকৃতপক্ষে, মোটা ধান এখন আর আমাদের দেশের কৃষকরা তেমন উৎপাদন করে না। কৃষি বিভাগের ওই ধারণার ওপর নির্ভর করে সরকার যখন মোটা চাল কিনতে চাচ্ছে তখন কৃষকের কাছে সেই ধান পাওয়া যাচ্ছে না। খুলনায় চাহিদা না থাকলেও বেড়েই চলেছে মোটা চালের দাম। বিশেষ করে প্রতি কেজি মোটা চাল এখন পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৪৪ থেকে ৪৫ টাকায়। এছাড়া পাইকারি বাজারে চিকন চাল ৪৮ টাকা কেজিদরে বিক্রি হলেও খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫২ টাকা।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451