1. gnewsbd24@gmail.com : admi2019 :
বুধবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ০৪:১৯ অপরাহ্ন

তানোরে ধান কাটতে শ্রমিক সঙ্কট: দুশ্চিন্তায় ঘুম নেই

আব্দুস সবুর, তানোর প্রতিনিধি :
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২০
  • ১১১ বার পঠিত

কারোনা সংক্রমণ ঠেকাতে পারেনি বোরো আবাদকে। স্বাভাবিক নিয়মেই প্রতি বছরের ন্যায় এবারও রাজশাহীর তানোরে ইরি-বোরো ধান মাঠে পাকতে শুরু করেছে। ফলে ফসল ঘরে তোলার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন উপজেলার কৃষক ও শ্রমিকরা। তবে, করোনা ভাইরাসের কারণে অঘোষিত লকডাউন যত দীর্ঘ হচ্ছে ততই কৃষকদের কপালে পড়ছে চিন্তার ভাঁজ।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, পুরো উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে ১২ হাজার ৫৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১৩ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধানের আবাদ করেছেন চাষিরা।

এই উপজেলায় সময় উপযোগী ও আগাম জাতের ধান পাঁকতে শুরু করেছে। তবে, দুশ্চিন্তায় ঘুম নেই উপজেলার কৃষকের। বর্তমানে করোনা ভাইরাসের জন্য অঘোষিত লকডাউন যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, ততই কৃষকদের দুশ্চিন্তা বাড়ছে। ধান কাটা ও ঘরে তোলার শ্রমিক কোথায় পাবেন? একদিকে নগদ টাকা হাতে না থাকা, অন্যদিকে করোনা পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হওয়ার আশঙ্কা।

এনিয়ে তানোর পৌর এলাকার জিওল-চাঁদপুর গ্রামের কৃষক চৈত্যা, আলতাব, রবিউলসহ আরও অনেকে জানান, কারোনা সংক্রমণ ঠেকাতে পারেনি তাদের বোরো আবাদকে। মাঠে ধান ক্ষেত দেখলে মন ভরে যাচ্ছে। এবারে আবহাওয়া শেষ পর্যন্ত অনুকূলে থাকলে ভাল ফলনের আশা করছেন তারা।

আর মাত্র ৮-১০ দিনের মধ্যে বোরো ধান কাটা ও মাড়া পুরোদমে শুরু হবে। কিন্তু শ্রমিক সংকটের আশঙ্কায় তাদের ঘুম নেই। প্রতি বছর এ অঞ্চলের বোরো ধান বাইরের শ্রমিক ছাড়াও আশপাশের শ্রমিকরা কর্তন করতো। তবে, চলতি মৌসুমে বোরো ধান কর্তনের জন্য বাইরের শ্রমিক আসতে পারবে না বলে মোবাইলে জানাচ্ছে। আর আসবেই বা কি করে। বাস ও ট্রাকসহ সকল যানবাহন বন্ধ। শ্রমিক না আসলে ধান ঘরে তুলব কি করে? বর্তমানে ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। ফলে দুশ্চিন্তা কাটছে না তাদের।

দিনমজুর শ্রমিক আক্কাস বুদু জানান, বর্তমান করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে কৃষক শ্রমিকসহ সবাই ঘরমুখো। ফলে প্রায় ১ মাস ধরে কোন কাজ কর্ম নেই। চাল-ডাল ঘরে ফুরিয়ে আসছে। আশায় আছি মানুষের বোরো ধান কেটে ৪ সদস্যের সংসারে ভাতের জোগাড় হবে। কিন্তু করোনার ভয়ে ঘর থেকে বের হওয়া যাচ্ছে না। সরকারি বা বেসরকারি কোন প্রতিষ্ঠান কিংবা মেম্বার-চেয়রম্যানরা কোন সাহায্য সহায়তাও করছে না। এঅবস্থায় খোঁজও নিতে আসেনি কেউ। মনে হয় আর কিছুদিন পর তাদের পরিবারকে না খেয়ে মরতে হবে বলে আক্ষেপ করেন এই শ্রমিক।

গত বুধবার দুপুরের দিকে অটোরিক্সায় করে প্রায় ১০জন মত শ্রমিক চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলাকার সুন্দরপুর ইউনিয়ন থেকে এসেছেন। এক যোগে তাদেরকে দেখে স্থানীয়রা উপজেলা কৃষি অফিসারকে অবহিত করেন। লোকের জটলা দেখে সেখানে গেলে তাঁরা সুন্দর পুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রত্যায়ন পত্র নিয়ে ধান কাটতে যাবেন চৌবাড়িয়া এলাকায়। আপনারা একটি অটোতে এত শ্রমিক কিভাবে আসলেন কিংবা কৃষি দপ্তর থেকে কোন অনুমতি নিয়েছেন কিনা জানতে চাইতে তাঁরা শুধু ইউনিয়ন পরিষদের প্রত্যায়ন পত্র ও নিজের আইডি কার্ড দেখান। তাঁরা জানান চেয়ারম্যানের কাছে প্রত্যায়ন নিতে সপ্তাহ ধরে ধরনা দিয়ে প্রত্যায়ন পেয়ে ধান কাটতে এসেছি। পরে তাঁরা কৃষি অফিসে যান।

উপজেলায় রোপা আমনের পর বোরো চাষ হয় সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে বিলকুমারী বিলের ধানে পাক ধরেছে । আর কয়েকদিন পর কাটা শুরু হবে। উপজেলার ধান কাটা মাড়ায়ে বহিরাগত শ্রমিকরাই মুল ভরসা। বিশেষ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকার শতশত শ্রমিক আসে ধান কাটতে। কিন্তু ওই জেলার জনসাধারণ প্রবাসী বেশি । তারাও যে ধান কাটতে আসবেনা কে যানে। আবার চাপাই জেলায় প্রথমবারের মত করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছে। যার ফলে উপজেলা বাসী বহিরাগত শ্রমিক নিয়েও পড়েছেন চরম আতঙ্কে। কারন এখনো এউপজেলায় করোনা রোগী সনাক্ত হয় নি।

বহিরাগত শ্রমিকরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে ধান কাটা যায়না। আর স্বাস্থ্যবিধি মেনে ধান কাটা মাড়া অসম্ভব। এজন্য উপজেলা বাসীর দাবি বহিরাগত শ্রমিক আসুক কিন্তু তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে প্রবেশ করতে দেয়া হোক। তানাহলে এউপজেলায়ও করোনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন।বোরো চাষি মফিজ জানান বিলকুমারী বিলে ৪বিঘা জমির ধানে পাক ধরেছে। আর ৪/৫ দিনের মধ্যে ধান কাটতেই হবে। আর বহিরাগত শ্রমিক ছাড়া ধানও কাটা অসম্ভব। কিন্তু মহামারী করোনাভাইরাস ফেলেছে চরম আতঙ্কে।

যাই হোক ধান কাটতে হবে না হলে পরিবার নিয়ে বাঁচা বড় দায়। শুধু মফিজ না তাঁর মত শতশত কৃষক ধান কাটা ও বহিরাগত শ্রমিক নিয়ে মহা দুশ্চিন্তায় প্রহর গুনছেন। তবে কৃষি বিভাগ বলছে বহিরাগত শ্রমিক আসামাত্রই আমাদেরকে অবহিত করতে হবে এবং আমরা তাদের সম্পর্কে মনিটরিং করব। কিন্তু এসব কথার কথা বিশ্বাস করতে নারাজ উপজেলাবাসি। আনারুল নামের এক কৃষক জানান ধান পেকে গেছে কিন্তু শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছেনা। শ্রমিকের অভাবে ধানও ঘরে উঠছেনা। আবার বহিরাগত শ্রমিক নিয়েতো আছে এক প্রকার দুশ্চিন্তা।

এব্যাপারে তানোর উপজেলা কৃষি অফিসার শামিমুল ইসলাম বলেন, এবার এলাকার ও বাইরের শ্রমিক মাঠে ধান কাটতে আসলে ইউএনও স্যারকে অবগত করা হবে। এছাড়া সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে নিয়ম শৃংখলার মধ্যে কৃষককে ধান কাটতে হবে।

তিনি আরও বলেন, কৃষকেরা সুষ্ঠু ভাবে ধান ঘরে তুুলতে পারলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ফলন হবে বলে আশা করছি। দেশের অবস্থা একটু স্বাভাবিক হলে শ্রমিক সংকট কেটে যাবে বলে জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

cover3.jpg”><img src=”https://www.bssnews.net/wp-content/uploads/2020/01/Mujib-100-1.jpg”>

via Imgflip

 

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451