বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারী ২০২১, ১২:০৩ অপরাহ্ন

খড়ের মন ৮০০ টাকা পীরগঞ্জে বন্যায় গো-খাদ্যের সংকট

সরওয়ার জাহান, ভ্রাম্মমান প্রতিনিধি পীরগঞ্জ (রংপুর) ঃ
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২০
  • ৫১ বার পঠিত

আমাদের দেশের মানুষের প্রধান খাদ্য ভাত আর গবাদী পশুর প্রধান খাদ্য খড়। এ দু’টি খাবার আসে কৃষকের উৎপাদিত প্রধান ফসল ধান থেকে। দেশের মোট আবাদী জমির প্রায় ৭৬ ভাগ জমিতে ধান চাষ হয়ে থাকে। চাষকৃত ধান কাটা-মাড়াই এর পর ধান গাছ গুলো শুকিয়ে (খড়)গবাদী পশুর খাদ্য হিসেবে মজুদ করে রাখেন কৃষকরা। যাতে গবাদী পশুর খাবারে কোন ঘাটতি না পড়ে।

প্রতিবছর ভাদ্র মাস থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত গবাদী পশুর প্রধান খাবার খড়ের সংকট দেখা দেয় । সাম্প্রতিক সময়ে ঘন বর্ষণ আর উজান থেকে আসা পানির কারনে সৃষ্ট বন্যায় খড়ের সংকট তীব্র হওয়ায় কৃষকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে গবাদী পশুর খাদ্য সংগ্রহে । গত ক’বছর থেকে বর্নিত সময়ে উপজেলার বড়-বড় কয়েকটি হাট বাজারে খড়ের হাটি বসে । সপ্তাহে ২ দিন হাট বসলেও খড়ের হাটি কিন্তু প্রতিদিন । এসব হাটে খড়ের দামও আকাশ ছোয়া। কোন-কোন হাট-বাজারে খড় ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জের আনোয়ার, পিযুষ,শাহিনুর ,দেলওয়ার ও আনারুল ইসলাম ৫ ভ্যানে বোঝাই করা খড় নিয়ে পীরগঞ্জ উপজেলা সদরের প্রধান সড়ক হয়ে যাচ্ছেন গাইবান্ধায়। তাঁরা জানায়,আমরা খড়ের ব্যবসা করছি। মনে দেড় থেকে ২০০ টাকা থেকে লাভ হয় ।এক ভ্যানে ৬/৭ মন খড় আছে। ৭ শত থেকে ৮’শ টাকা মন দরে আমরা পাইকাড়ী হিসেবে বিক্রি করি । গাইবান্ধা এলাকায় খড়ের চাহদিা বেশী ্ একটু দুর হলেও লাভ হয় । ত্ই নবাবগঞ্জ থেকে রিক্সাভ্যানে করে খড় নিয়ে যাই গাইবান্ধায়।

পীরগঞ্জ উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্রে জানাগেছে, উপজেলায় শংকর জাতের গাভীর খামারীর সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৩’ শ জন। খামারীদের এসব খামারে ২ থেকে ২০ টি পর্যন্ত শংকর জাতের গাভী আছে। খামারীদের ১৩ হাজার ৪’শ ৩৪ টি গাভীসহ উপজেলায় মোট গরুর সংখ্যা প্রায় সোয়া ৩ লাখ ।

খামারী নুরুন্নবী, রবিউল , রনজু একরামুল হকসহ অন্যান্য একাধিক খামারী ও কৃষকের সাথে কথা হলে তারা জানান, এমনিতেই এবারে করোনার ভয়ে গো-খাদ্যের জন্য বোরো ধানের খড় যথাযথভাবে মজুদ করতে পারেননি তারা। তার উপর ঘন-ঘন বর্ষা আর উজানের পানিতে সৃষ্ট বন্যার কারনে গো-খাদ্যের সংকট দেখা দেয়ায় গবাদী পশু লালন-পালন করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ১ কেজি খড় ২০ টাকা । গুড়া-ভুশির দাম আরও বেশী । এরকম হলে গরু লালন পালনে আগ্রহ হারাবে অনেকেই।

উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম বলেন, পীরগঞ্জের খামারীসহ সাধারণ কৃষকরা গরু লালন-পালন করে লাভবান হচ্ছেন। যে কারনে এখানে খামারীর সংখ্যা প্রায় ১হাজার ৩’শ । গরুর সংখ্যাও প্রায় সোয়া ৩ লাখ । প্রাণি সম্পদ বিভাগ থেকে খামারীসহ সাধারণ কৃষকদের গবাদী পশুর খাদ্য ঘাটতি পুরনে উন্নত জাতের ঘাষ চাষে উদ্বুদ্ধু করায় এখানে ঘাষ চাষ হয় প্রচুর । অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে ঘাষ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। চাষকৃত ঘাষ গো-খাদ্যের সংকট মোকাবেলায় গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা রাখছে।

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

cover3.jpg”><img src=”https://www.bssnews.net/wp-content/uploads/2020/01/Mujib-100-1.jpg”>

via Imgflip

 

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451