1. gnewsbd24@gmail.com : admi2019 :
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ১২:৩২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
জীবন দিবো তবুও রাসুল (সা:) এর অপমান সইবো না পৌর কর্তৃপক্ষের তদারক না থাকায় যত্রতত্র খড়ের ব্যবসা বাড়ছে দূর্ঘটনা নবী (সা.)-এর অবমাননার প্রতিবাদে ফ্রান্সের পণ্য বর্জন করুন অভিভাবকদের সাথে মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.)বিশ্বনবী (সা.) সমগ্র সৃষ্টির জন্য রহমত দেশে বেড়েছে করোনায় মৃত্যু ও আক্রান্ত দূর্গাপুজায় ৬ দিন বন্ধের পর হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি শুরু ঈশ্বরদী’র নুরুন্নাহারের ২কোটি ৫৮ লক্ষ টাকার ব্যাংক ঋণে অনিয়মের অভিযোগ নির্বাচনে অংশ নেয়ার আগেই হেরে যায় বিএনপি : ওবায়দুল কাদের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করতে হবে

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিনগুণ বেশি মূল্যে স্থাপিত হচ্ছে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন

সিরাজুল ইসলাম রতন, গাইবান্ধা প্রতিনিধি :
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২০
  • ১২ বার পঠিত

সরকার সারাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে শিক্ষক হাজিরা শতভাগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। নানা অনিয়মের কারণে গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর ডিজিটাল হাজিরা মেশিন স্থাপন বন্ধ করে দেয়। এই নির্দেশনা অমান্য করে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় গত অর্থ বছরের সিøপ ফান্ড থেকে ২১৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন স্থাপন করা হচ্ছে। কিন্তু ডিজিটাল হাজিরা মেশিন স্থাপন নিয়ে তুঘলকি কারবার চলছে পলাশবাড়ী উপজেলায়।

এমনকি পূর্বের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেয়া টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন অমান্য করে নিম্নমানের ডিজিটাল হাজিরা মেশিন স্থাপন করা হচ্ছে। মাত্র ৭ হাজার টাকা মূল্যের নিম্নমানের ডিজিটাল হাজিরা মেশিন ২২ হাজার টাকায় ক্রয় করতে বাধ্য হচ্ছে প্রধান শিক্ষকদের।

প্রতিটি মেশিনে প্রায় ১৫ হাজার টাকা করে বেশি নেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ডিজিটাল হাজিরা মেশিন ক্রয় থেকে উপজেলা শিক্ষা অফিসের সিন্ডিকেটের হাতে উঠছে প্রায় ৩২ লাখ টাকা।এদিকে, গত ২৩ ডিসেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ৩৮.০১.০০০০.৭০০.৯৯.০০৩.১৮-৬৩২/৫৭৪ স্মারক মূলে স্পি ফান্ডের টাকা থেকে ডিজিটাল বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন না কেনার জন্য মাঠ পর্যায়ে নির্দেশনা প্রদান করে।

সেই আলোকে সারাদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন স্থাপন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। কিন্তু পলাশবাড়ীতে করোনাকালীন সময় বিদ্যালয় বন্ধ থাকার পরেও উপজেলা শিক্ষা অফিস অর্থ আত্মসাতের উদেশ্যে অতিরিক্ত মূল্যে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন নিতে প্রধান শিক্ষকদের বাধ্য করছে। যা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনার পরিপন্থী বটে।

অপরদিকে, পলাশবাড়ী উপজেলায় চলতি ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের স্পি ফান্ড থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ডিজিটাল হাজিরা মেশিন স্থাপন করা হচ্ছে। কিন্তু চলতি বছরের গাইড লাইনে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন স্থাপনের কোন নির্দেশনা নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, গত ২৩ অক্টোবর প্রাথমিক ও গণশিা মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে বলা হয় কমপক্ষে ১৫টি স্পেসিফিকেশন দেখে এবং বাজারে প্রচলিত বায়োমেট্রিক মেশিন যেটি কার্যক্ষম ও উপযুক্ত তা সাশ্রয়ী মূল্যে কিনতে হবে। নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ করা মেশিনই যে নিতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

কিন্তু পলাশবাড়ী শিক্ষা অফিস প্রধান শিক্ষকদের নির্দিষ্ট সরবরাহকারীর কাছ থেকে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন কিনতে বাধ্য করছে। উপজেলা শিক্ষা অফিস এ্যাকটিভ পাওয়ার লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠান থেকে মেশিন নিতে বলছে। তাদের সরবারহকৃত মেশিন বাজারের নিম্নমানের মেশিন হলেও দাম নেয়া হচ্ছে প্রায় তিনগুণ।

এ্যাকটিভ পাওয়ার লিমিটেড ও উপজেলা শিক্ষা অফিস একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। ওই সিন্ডিকেটের সহায়তায় জেডকেটেকো ব্রান্ডের ডিজিটাল হাজিরা মেশিন বিদ্যালয়গুলোতে সরবরাহ করা হচ্ছে। যার বাজার সর্বোচ্চ মূল্য ৬ হাজার টাকা। অনলাইনেও সাড়ে ৬ হাজার টাকায় কেনা যায়। আনুষাঙ্গিক ব্যয় ধরলেও এই মেশিনের মূল্য ৭ হাজার টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়। কিন্তু বিদ্যালয়গুলোকে মেশিন প্রতি দিতে হচ্ছে ২২ হাজার টাকা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলার একজন প্রধান শিক্ষক জানান, ২১ সেপ্টেম্বর দুপুরে এই নিম্নমানের ডিজিটাল হাজিরা মেশিন স্থাপনের উদ্বোধন করা হয়েছে। কাস্টার ভিত্তিক এই হাজিরা মেশিন নিতে হচ্ছে। কিন্তু প্রধান শিক্ষকরা এই নিম্নমানের ডিজিটাল হাজিরা মেশিন নিতে ইচ্ছুক নয়। কিন্তু উপজেলা শিক্ষা অফিস শুধু নিজেদের কমিশন নিশ্চিত করার স্বার্থে তাদের এই মেশিন নিতে বাধ্য করছে।

সরবারহকারী প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট করে দেওয়ার কথা অস্বীকার করে উপজেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুস ছালাম জানান, তিনি কোন প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট করে দেননি। তারা শুধু শিক্ষকদের ডিজিটাল হাজিরা মেশিন স্থাপন করার কথা বলেছেন। শিক্ষা অফিসের নির্দেশেই এ্যাকটিভ পাওয়ার লিমিটেড থেকে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন ক্রয় করছে শিক্ষকরা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা থাকা স্বতেও কেন হাজিরা মেশিন নেয়া হচ্ছে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, গত ২১ জানুয়ারীর চিঠির আলোকেই হাজিরা মেশিন স্থাপন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুস ছালামের দেয়া তথ্য মতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে গিয়ে দেখা যায়, গত ২১ জানুয়ারীর চিঠিতে পূর্বে ক্রয়কৃত হাজিরা মেশিন যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে কিনা তা জানতে চাওয়া হলেও নতুন করে ক্রয় করার আদেশ দেয়া হয়নি।

এদিকে তথ্যানুসন্ধানে দেখা যায়, এ্যাকটিভ পাওয়ার লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠান হতে ডিজিটাল মেশিন সরবরাহ করছে উপজেলা শিক্ষা অফিস। ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে উপজেলা শিক্ষা অফিস নিম্নমানের ডিজিটাল হাজিরা মেশিন অতিরিক্ত মূল্যে সরবরাহ করছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451