1. gnewsbd24@gmail.com : admi2019 :
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০, ০৪:৫৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
দেশে বেড়েছে করোনায় মৃত্যু ও আক্রান্ত দূর্গাপুজায় ৬ দিন বন্ধের পর হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি শুরু ঈশ্বরদী’র নুরুন্নাহারের ২কোটি ৫৮ লক্ষ টাকার ব্যাংক ঋণে অনিয়মের অভিযোগ নির্বাচনে অংশ নেয়ার আগেই হেরে যায় বিএনপি : ওবায়দুল কাদের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করতে হবে ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান এর ৪৯ তম শাহাদাত বার্ষিকী পালন ইরফান ও দেহরক্ষী জাহিদ রিমান্ডে ভারতে সুস্থতায় স্বস্তি মিললেও ভোগাচ্ছে প্রাণহানি মাগুরার ছাত্রলীগ নেতা রাজনের খুনিদের দ্রুত বিচারের দাবীতে মানবন্ধন গ্যাস সিলেন্ডার ও দাহ্য পদার্থের রমরমা বাণিজ্য

খুলনায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চিংড়ি শিল্প হুমকির মুখে, চক্র ফের সক্রিয়

গাজী যুবায়ের আলম, ব্যুরো প্রধান, খুলনা ঃ
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২০
  • ১২ বার পঠিত

খুলনায় চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশ চক্র ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে। পুশ বিরোধী অভিযান ঝিমিয়ে পড়ায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। দীর্ঘদিন পুশ বন্ধ থাকার পর গেল মার্চ থেকে শুরু হয়েছে চিংড়ির দেহে অপদ্রব্য (জেলী) পুশ। বিভিন্ন মাছ কোম্পানি মালিকের নির্দেশে কোম্পানিতে চিংড়ি ওজনের সময় বাটখারায় ওজন বেশি দিয়ে ক্রয় করছে চিংড়ি। ফলে ওজনে কম দেওয়ায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অধিকাংশ ব্যবসায়ি।

আর এ ক্ষতির পরিমাণ পোশাতে ব্যবসায়িরা পুশ করছে চিংড়ির দেহে অপদ্রব্য। সম্প্রতি পূর্ব রূপসা এলাকায় কয়েকটি ডিপোতে পুশ বিরোধী অভিযানে জেল-জরিমানা করলেও বেঁচে থাকার তাগিদে বহাল তবিয়তে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে চিংড়ির দেহে পুশ। তবে মাছ কোম্পানি মালিকরা যদি পুশকরা চিংড়ি খরিদ না করে; তাহলে পুশ নির্মূল হতে পারে। গত কয়েকদিন ধরে বেশ কয়েকটি এলাকায় সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, বর্তমানে মরাগোনেও থেমে নেই চিংড়ির দেহে অপদ্রব্য পুশ।

পুশ বিরোধী অভিযান ঝিমিয়ে পড়ায় ফের বেপরোয়া হয়ে উঠেছে অসাধু কিছু ব্যবসায়ী। এসব অসাধু ব্যবসায়ী আগে কখনো এ ব্যবসায় আসেনি। নয়া ব্যবসায়ীরা এ সেক্টরকে ধ্বংস করতে বহাল তবিয়তে চালিয়ে যাচ্ছে চিংড়ির দেহে জেলী পুশ। সাধারণত প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত চিংড়ির দেহে জেলী পুশ করা হয় নারী-পুরুষ দিয়ে। ইনজেকশনের সিরিঞ্জ দিয়ে চিংড়ির দেহে জেলী পুশ করা হয়। প্রতিকেজি চিংড়ি পুশ বাবদ পাঁচ টাকা করে পাচ্ছেন তারা। এদিকে অভিযোগ উঠেছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ম্যানেজ করে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ও এ্যাকাউন্ট হোল্ডাররা বহলা তবিয়তে জেলী পুশ করা চিংড়ি কোম্পানি খরিদ করছে কর্তৃপক্ষ ।

আর এদের মধ্যে যে সখ্যতা আছে এটা রয়েছে অধোরা। এমনই মন্তব্য করেছেন একাধিক ব্যবসায়ী। অপদ্রব্য পুশের কারণ : অধিকাংশ মাছ কোম্পানি মালিক চিংড়ি খরিদের সময় বাটখারায় ওজন ৪ থেকে ৫শ’ গ্রাম বেশি দিয়ে ক্রয় করছে চিংড়ি। ফলে ওজনে কম দেওয়ায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে অধিকাংশ ব্যবসায়ী। আর এ ক্ষতির পরিমাণ পোশাতে ব্যবসায়ীরা পুশ করছে চিংড়ির দেহে অপদ্রব্য। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বিএসটিআই অনুমোদিত যে বাটখারা ব্যবহার না করে বেশি ওজনের বাটখারা দিয়ে চিংড়ি খরিদ করা হচ্ছে।

যা সরেজমিন তদন্ত করলে সত্যতা বেরিয়ে আসবে বলে মন্তব্য করছেন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, কোম্পানিতে যদি ২০ কেজি চিংড়ি বিক্রি করতে যাওয়া হয় তখন ওয়েটম্যান যখন ওজন দেয় তখন ১৯ কেজি দেখানো হয়। ফলে ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিএসটিআই কর্তৃপক্ষ যদি প্রত্যেকটি কোম্পানির বাটখারা চেক করে তাহলে পুশ বন্ধ হয়ে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন একাধিক ব্যবসায়ি। পুশ চিংড়ি কেনা হচ্ছে যেসব কোম্পানিতে : জেলার রূপসা উপজেলাধীন ন্যাশনাল সী ফুডস, সালাম সী ফুডস, বায়োনিক সী ফুডস, রোজেমকো সী ফুডস, এ্যাপোলো সী ফুডস, প্রাইমাস সী ফুডস, ফ্রেশ সী ফুডস, রূপালী সী ফুডস, নগরীর এটলাস সী ফুডস, আছিয়া সী ফুডসসহ বেশ কয়েকটি মাছ কোম্পানিতে বহল তবিয়তে জেলী পুশ করা গলদা ও বাগদা চিংড়ি ক্রয় করা হচ্ছে।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী সময়ের খবরকে বলেন, ‘মহামারী করোনার শুরু থেকে শুরু হয়েছে চিংড়ির দেহে অপদ্রব্য পুশ। তাদের অভিযোগ, মাছ কোম্পানি মালিকরা একাউন্ট হোল্ডারদের চিংড়ির একটা টার্গেট দিয়ে দেয়। কিন্তু প্রান্তিক চাষিরা মাছ কোম্পানিতে চিংড়ি বিক্রি করে বছরের পর বছর তাদের পেমেন্ট দেওয়া হচ্ছে না। ফলে চাষিরা একদিকে হারাচ্ছে আগ্রহ; অপর দিকে হচ্ছেন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। আগ্রহ হারানোর কারণে চিংড়ি উৎপাদনও অনেক কমে গেছে। এদিকে কাক্সিক্ষত উৎপাদন না হওয়ায় ডিপো মালিকরা আগের মতো আর চিংড়ি খরিদ করতে পারছেন না। একাধিক ডিপো মালিক কোম্পানিতে চিংড়ি বিক্রি করা না পাওয়ায় অনেকে পথে উঠে গেছে।

এক প্রকার জিম্মি হয়ে আছে কতিপয় মাছ কোম্পানি মালিকের কাছে ব্যবসায়ীরা।’ পুশ করা হয় কোথায় : খুলনা নগরীর নতুন বাজার, উপজেলার ফুলতলার জামিরা বাজার, শাহাপুর, আড়ংঘাটা, চুকনগর, পূর্ব রূপসা, রূপসার আলাইপুর বাজার, শিয়ালী বাজার, ডোবা বাজার, ডুমুরিয়া, ফলতিতা বাজার, ফকিরহাট, ফয়লা বাজার, ফকিরহাট, ফকিরহাটের ফলতিতা বাজার, পাইকগাছা, খর্ণিয়া বাজার, মোংলা, সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন মাছের ডিপো ও আড়তে চিংড়ির দেহে অপদ্রব্য পুশ করা হয়। পুশের উৎপত্তি : ৯০ দশকের শেষের দিকে প্রথমে সাতক্ষীরা-কালিগঞ্জ এলাকার ফড়িয়া ও ব্যবসায়ীরা চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশ করা শুরু করেন।

এরপর খুলনার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে পুশের কার্যক্রম। হুমকির মুখে রপ্তানি : অপদ্রব্য মেশানোর কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম অর্থনৈতিক খাত চিংড়ি শিল্প হুমকির মুখে পড়েছে। গলদা ও বাগদা চিংড়ি দিনদিন বিদেশের বাজার হারাচ্ছে। মাঝে মধ্যে বিভিন্ন স্থানে অপদ্রব্য পুশকরা চিংড়ি ধরাও পড়ছে। পরে এসব চিংড়ি নষ্ট এবং পুশকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জরিমানাও করা হচ্ছে। জেল জরিমানা করলেও থেমে নেই চিংড়ির দেহে অপদ্রব্য পুশ।

গত সোমবার দুপুরে রূপসা উপজেলার বাগমারা এলাকায় তিনজন ব্যক্তিকে চিংড়িতে জেলি পুশ করার অপরাধে এক লাখ টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যজিস্ট্রেট দেবাশীষ বাসক’র নেতৃত্বে মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা এবং কোস্ট গার্ডের সদস্যরা অভিযানে অংশনেন। ভ্রাম্যমান আদলতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেবাশীষ বসাক ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯’ এর যথাযথ ধারার বিধান মোতাবেক সোহান শেখ (১৯), মোঃ শাহাজাহান (২২) ও শেখ কানন (২৩) কে ১৫ দিন করে বিনাশ্রম কারাদন্ড দেন। একই সাথে ওই তিনজনসহ ভ্যানচালক ইব্রাহিম হাওলাদারকে ২৫ হাজার টাকা করে মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করেন। পুশের দ্রব্য বিক্রি হয় কোথায় : ভারত থেকে আনা দুই ধরনের পাউডার মিশিয়ে জেলী তৈরি করা হয়।

এসব জেলী বাগদা ও গলদা চিংড়ির দেহে পুশকরা হয়। নগরীর বিভিন্ন ওষুধের দোকান থেকে একটি চক্র আগার এবং সিএম পাউডার কিনে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেন। রূপসা চিংড়ি বণিক সমিতির সভাপতি মোঃ আব্দুল মান্নান শেখ বলেন, ‘বিএসটিআই যদি প্রত্যেকটি মাছ কোম্পানির বাটখারা চেক করে তাহলে পুশ নির্মূল হওয়া সম্ভব। তিনি বলেন, অধিকাংশ মাছ কোম্পানি মালিক চিংড়ি খরিদের সময় বাটখারায় ওজন ৪ থেকে ৫শ’ গ্রাম বেশি দিয়ে ক্রয় করছে চিংড়ি। ফলে ওজনে কম দেওয়ায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে অধিকাংশ ব্যবসায়ি।

আর এ ক্ষতির পরিমাণ পোশাতে ব্যবসায়িরা চিংড়ির দেহে অপদ্রব্য পুশ করছে। তিনি বলেন, চাষি ও একান্ড হোল্ডাররা বিভিন্ন কোম্পানিতে চিংড়ি বিক্রি করে পেমেন্ট না পাওয়ায় অনেকে এ ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছে। অধিকাংশ কোম্পানি মালিকের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী যারা আগে কখনো এ ব্যবসায় আসেনি, তারাই চিংড়ির দেহে জেলী পুশ করছে। এদেরকে আইনের আওতায় আনা উচিৎ।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451