1. gnewsbd24@gmail.com : admi2019 :
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২০, ০৮:৫০ পূর্বাহ্ন

ক্ষেতলালে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল গেলো কার পেটে ?

এস এম শফিকুল ইসলাম, জয়পুরহাট প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২০
  • ১ বার পঠিত

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বড়াইল ইউনিয়নে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল গেলো কার পেটে? খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা মূল্যের ৩০ কেজি চাল বিতরনে স্থানীয় ইউপি সদস্য, ডিলার ও খাদ্য বিভাগের বিরুদ্ধে চাল আতœসাতের অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য, ডিলার এবং খাদ্য বিভাগ বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে তারা পরস্পরকে দায়ী করেছেন।

ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকা মূল্যের ৩০ কেজি করে চাল গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু অনেক ভুক্তভোগী তাদের সুবিধাভোগীর কার্ড পেয়েছেন চাল বিতরণের ৯ দিন পরে। ওই কার্ডে তাদের স্বাক্ষর জাল করে কে বা কাহারা চাল তুলে আতœসাৎ করেছেন তা তাদের জানা নেই কিন্তু সুবিধাভোগীরা কোন চাল পাননি। এমনও দু’একজন উপকারভোগী আছেন- যারা জানেনই না যে, তাদের নামে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ড প্রস্তুত হয়েছে। তারা চাল বা কার্ড কোন কিছুই পাননি। অথচ তাদের নামেও চাল উত্তোলন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে উপজেলার বড়াইল ইউনিয়নের প্রতাপপাড়া গ্রামের মৃত মঈন উদ্দিনের ছেলে মজিবর রহমান (কার্ড নং-৭৫১), একই গ্রামের রইছ উদ্দিনের ছেলে মুমিন মন্ডল (কার্ড নং-৭৫২) এবং মোজাফ্ফর হোসেন (কার্ড নং-৭৬৪), বিনাই গ্রামের মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে মাছুম প্রামানিক (কার্ড নং-৭৫৪) উত্তর বিনাই গ্রামের মোস্তফার স্ত্রী রহিমা জানান, তারা সকলেই স্থানীয় ইউপি সদস্য শারফুল ইসলাম সাবু,র মাধ্যমে অক্টোবর মাসের ৫ থেকে ৭ তারিখে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সুবিধাভোগেীর কার্ড পেয়েছেন।

কিন্তু চাল পাননি তারা কেউই। তাদের অভিযোগ, প্রত্যেকের স্বাক্ষর জাল করে ৩০ সেপ্টেম্বর তারিখে কে বা কারা চাল উত্তোলন করে আতœসাৎ করছেন। স্থানীয় মেম্বার তাদেরকে কার্ড দিয়েছেন, তাই তিনিই বলতে পারবেন তাদের চালগুলো কে তুলেছেন।

একই ইউনিয়নের উত্তর বিনাই গ্রামের মৃত তবিজ উদ্দিন মন্ডলের ছেলে নাজিমদ্দিন মন্ডল হেদু (কার্ড নং-৫৮৭), জানান, তার নামে যে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির কার্ড হয়েছে, তা তিনি জানতেন না। আর গত ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত তিনি কার্ড বা চাল কোন কিছুই পাননি।

উপজেলার ওই ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শারফুল ইসলাম সাবু তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গত সেপ্টেম্বর মাসের ২৯ তারিখের মধ্যেই তিনি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সংশোধিত তালিকাভুক্ত সুবিধাভোগীদের কার্ড বিতরণ করেছেন। কেউ চাল না পেয়ে থাকলে তার দায় আমার নয়, সেটা ডিলার এবং খাদ্য বিভাগের বিষয়।

ওই ইউনিয়নের ডিলার বাখেড়া কোমলগাড়ী গ্রামের মাসুদ এবং কলিংগা গ্রামের আনারুল ইসলাম তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, তারা কোন চাল মজুদ না করে সংশ্লিষ্ট কার্ডের বিপরীতে সেগুলো বিতরণ করেছেন।

এ বিষয়ে বড়াইল ইউনিয়ন পরিষেদের প্যালেন চেয়ারম্যান, আওলাদুল ইসলাম জানান, আমি গত মাসের ২৫ তারিখ থেকে দায়িত্ব পেয়েছি খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির এ বিষয়ের চাল বা কার্ড না পাওয়ার বিষয়ে আমার জানা নেই আর জানার কথাও নয় কারন এর আগে প্রতিস্থাপিত কার্ড আমাদের অফিসের মাধ্যমে বিতরন করা হতো এবার ডিলাদের মাধ্যেমে বই বিতরন করা হয়েছে সেক্ষেত্রে কেউ চাল বা কার্ড না পেয়ে যদি অনিয়ম হয়ে থাকে সংশ্লিষ্ট ডিলারগণ এর দায়িত্ব বহন করবেন।

ক্ষেতলাল উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. নাজমুল হক জানান, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণে যে অনিয়ম ও আতœসাতের অভিযোগ উঠেছে, তার জন্য স্থানীয় ওয়ার্ড পর্যায়ের মেম্বার দায়ী। তবে অনিয়ম ও আতœসাতের বিষয়গুলো ক্ষতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451