1. gnewsbd24@gmail.com : admi2019 :
শনিবার, ২১ নভেম্বর ২০২০, ০৭:২৯ অপরাহ্ন

পোরশায় সবুজে ঘেরা ফসলের মাঠে আমনের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

ডিএম রাশেদ, পোরশা প্রতিনিধি (নওগাঁ) :
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২০
  • ১৩ বার পঠিত

নওগাঁর পোরশায় ফসলের মাঠে মাঠে এখন সবুজের সমারোহ। ফসলের মাঠ যেন সবুজের বিছানা হয়ে দাড়িয়ে আছে। যতদুর চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজ। চারিদিকে এক নয়নাভিরাম দৃশ্য। কৃষকের মনে দোলা দিচ্ছে এক ভিন্ন আমেজ। চলতি বছর আমন মৌসুমে এখন পর্যন্ত সময়মত আকাশের বৃষ্টিপাত হওয়ায় এবং আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় দেখা দিয়েছে আমনের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি আমন মৌসুমে পোরশা উপজেলায় ১৬হাজার ৬৯৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আমন চাষ করা হয়েছে ১৬হাজার ৭১০হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে বন্যায় ৮৩ হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়েছে। চলতি মৌসুমে আমনের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি হেক্টরে ৬টন ধান। যার সর্বমোট ধান উৎপাদন হবে ১লক্ষ টন।

উপজেলার বিভিন্ন আমনের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত আমনের গাছ বেশ ভাল রয়েছে। আমনের ক্ষেতে তেমন কোন রোগ বালাই দেখা যাইনি। আমনের গাছ ভাল রাখতে আর ধানের উৎপাদন বাড়াতে কৃষকরা দিন রাত সমানতালে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। এখানকার কৃষকরা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকার বিশাল জনগোষ্ঠীর খাদ্য চাহিদা মেটাতে দিন রাত যেন সমানতালে পরিশ্রম করে আসছেন। সবুজে ঘেরা আমনের মাঠ রেখে যেন এক মুহূর্তের জন্যেও বসে বিশ্রাম নেওয়ার সময় নেই কৃষকদের।

কৃষকরা এখন ক্ষেতের আগাছা তোলা, পোকামাকড় দমন করতে ঔষধ স্প্রে করা, জমির পানি দেখাসহ বিভিন্ন কাজে ব্যাস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। এখন যেন দ্রুত গতিতে বেড়ে উঠছে আমনের গাছ। মাঠে মাঠে হাওয়ায় দুলছে আমন গাছের পাতা। আর আনন্দে দুলছে কৃষকদের মন। এবারে মাঠের ফসলে তেমন কোন রোগ বালাই না থাকায় বেশ ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন কৃষকরা। কোন প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবারে আমনের বাম্পার ফলন হবে বলে জানান কৃষকরা।

উপজেলার আমদা গ্রামের কৃষক শাহজাহান আলী সরদার, সহড়ন্দ গ্রামের কৃষক ফরহাদ হোসেন, কালুকান্দর গ্রামের কৃষক তইবর রহমান জানান, এ বছর আমন ক্ষেত এখন পর্যন্তু ভাল রয়েছে। আকাশের পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় ও আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় আর তেমন কোন প্রকার রোগ বালাই না থাকার কারনে এবারে আমন ধানের বাম্পার ফলন হবে বলে তারা আশা করছেন।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল হাই জানান, তারা প্রত্যেকটি ইউনিয়নে প্রতিদিন ঘুরে বেড়াচ্ছেন, কৃষকদের সঠিক পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। ধানকে রোগ বালাই থেকে রক্ষা করে ফলন কিভাবে বাড়ানো যাবে সে বিষয়ে তারা সার্বক্ষনিক কাজ করে যাচ্ছেন বলে তিনি জানান।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মাহফুজ আলম জানান, এবারে তাদের লক্ষ মাত্রা ছাড়িয়ে আমন চারা রোপন করা হয়েছিল। কিন্তু বন্যায় কিছু ধান নষ্ট হয়েছে। তবে যে পরিমান ধান এখন বর্তমান রয়েছে তা আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে আমন ধান উৎপাদনের লক্ষমাত্রা অর্জিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এসময় ধানে কিছু রোগ বালাই দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে ধান গাছে বাদামী গাছ ফড়িংয়ের জন্য তিনি প্লেনাম, গ্লামোর, পাইরাজিন, হপারশট, পাইটাফ ও কারেন্ট সর্ট নামের যে কোন একটি কীটনাশক। মাজরা পোকার জন্য বেল্ট এক্সপার্ট, মক্সি, সানটাপ প্লাস, রিলোড ১৮এসসি, ফরাটাপ, কার্টাপ্রিড, এসিপ্রিড প্লাস ও কারটাপ নামের যে কোন একটি কীটনাশক।

ব্লাস্ট রোগে নাটিভো, ট্রুপার, এডিফেন, ফিলিয়া, ব্লাস্টিন ও দিফা নামের যে কোন একটি কীটনাশক এবং খোলপোড়া বা পচন রোগে এমিস্টার টপ, নাভারা, এসিবিন, সানরক্সি, নাটিভো, কারিশমা, তারেদ ও ইমিনেন্ট প্রো নামের যে কোন একটি কীটনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেয়েছেন কৃষকদের। তবে কীটনাশকগুলো স্প্রে করার পূর্বে অবশ্যই কোন কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে অথবা অভিঙ্গ কীটনাশক ব্যবসায়ীদের থেকে পরামর্শ নিয়ে স্প্রে করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

cover3.jpg”><img src=”https://www.bssnews.net/wp-content/uploads/2020/01/Mujib-100-1.jpg”>

via Imgflip

 

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451