শনিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২১, ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

তানোর গুদাম কর্মকর্তা তারেক নিজেই ব্যবসায়ী

আব্দুস সবুর, তানোর প্রতিনিধি :
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২০
  • ৮৩ বার পঠিত

রাজশাহীর তানোরে খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা ওসিএলএসডি তারেকুজ্জামা তারেক নিজেই সিন্ডিকেট করে ব্যবসায়ী হয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকার স্ব মিল থেকে নিম্মমানের চাল সংগ্রহ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

শুধু এখানেই শেষ না তিনি কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের সময় এক মন করে বেশি ধান নিয়েছেন বলেও একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে এবং ধান ক্র্যাসিং্যের নামে একাধিক অকেজো চাতালের নামে রমরমা ব্যবসা করেছেন বলেও জানা গেছে। কারন ত্রানের এবং ১০টাকা কেজির চাল নিম্মমানের হবার কারনেই তাঁর এই জালিয়াতি ধরা পড়েছে। ফলে তারেকের বিরুদ্ধে সরেজমিন তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবার দাবি তুলেছেন ত্রান পাওয়া ব্যক্তিসহ ১০টাকা কেজির চালের ডিলাররা।

জানা গেছে রোপা আমন ধান সংগ্রহে নাম মাত্র লটারি করা করা হয়। লটারিতে যে কৃষকের নাম উঠে তাদের ধান নিতে বিভিন্ন তালবাহানা শুরু করে গুদাম কর্মকর্তা তারেক। যে সব কৃষকরা তাকে তুষ্ট করতে পেরেছেন তাদের ধান শুকনো না হলেও নেয়া হয়েছে। প্রতি কৃষকের কাছ থেকে ১ হাজার টাকাও নিয়েছেন আবার বাড়তি ধান নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

যে সব কৃষকের লটারিতে নাম উঠেছে তাঁরা জানার আগেই ক্ষমতাসীন দলের সাবেক কমিশনার গোল্লাপাড়াগ্রামের বাসিন্দা প্রসিদ্ধ দাদন ব্যবসায়ী রাসেল সরকার উত্তমকে দেয়া হয় তালিকা। সেই তালিকা নিয়ে কৃষকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে সল্প মুল্যে তাদের কার্ড কিনে নেয়। তিনি অন্তত ৫০০ থেকে ৬০০ কার্ড কিনে নিম্মমানের ধান দিয়েছেন গুদামে। অথচ তাঁর এক কাঠাও জমি নেই ।

ক্ষমতাসীন দলের এক ব্যক্তির কথা অনুযায়ী তিনি সহ বেশ কয়েকজন কার্ড কিনে ধান দিয়েছেন। আর রসব সিন্ডিকেটের মদদ দাতা ওসিএলএসডি তারেক নিজেই বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে। শুধু এখানেই শেষ না তারেক ও উত্তম সরকার মিলে বেশ কিছু চালাত মিলও কিনেছেন। চাতালের নামে বরাদ্দকৃত ধান পাচার করে দেশের বিভিন্ন মোকাম থেকে হাইব্রিড জাতের নিম্মমানের চাল গুদামে সংগ্রহ করেছে।

এক চাতাল মালিক জানান গুদাম কর্মকর্তা উত্তম মিলে মিলও কিনেছেন। অথচ এই উত্তম হাটের সরকারী জায়গা দখল করে পাকা ঘর নির্মাণ করে নামে ফিডের ব্যবসার আড়ালে চালিয়ে যাচ্ছেন খাদ্য গুদামের ব্যবসা। প্রতি টনে আমাদের কাছ থেকে মোটা টাকা আদায় করছেন তারেক। অথচ উত্তমের কোন মিল না থেকেও দেদারসে বাহির থেকে একেবারে নিম্মমানের চাল দিলেও কিছুই হয়না।

উত্তম ও তারেক মিলে পৌর এলাকার জিওলগ্রামের গণি ও হাসানের মিল কিনেছেন। ওই চাতাল মালিক আরো জানান ধান সংগ্রহের ডাবলু কেসিতে একেকজন দুই তিনশোতে স্বাক্ষর করেছেন। যা নির্বাহী অফিসার ধরে ফেললে গুদাম কর্মকর্তা আর হবেনা বলে ক্ষমা চেয়ে রক্ষা পান। যে সব ত্রানের চাল দেয়া হচ্ছে তা বাহির থেকে নিম্মমানের । যা সরেজমিন তদন্ত করলেই বেড়িয়ে পড়বে এসব অনিয়ম দুর্নীতি।

ক্রেতা সেজে এক চাতাল মালিকের কাছে পাচবস্তা চাল কিনতে চাইলে তিনি জানান আপনি নিজের লোক এসব চাল খেতে পারবেননা। কারন হাইব্রিড জাতের বাহির থেকে একেবারে নিম্মমানের চাল।১০ টাকা কেজি দরের চালের এক ডিলার জানান গুদাম কর্মকর্তা তারেক নিজেই বিভিন্ন মোকাম থেকে এসব চাল আমদানি করে থাকেন। তিনি নিজেই কর্মকর্তা হয়ে ব্যবসা করছেন ।

এতই নিম্মমানের চাল যে খাওয়ার মত কোন অবস্থা নেই। এরাই সরকারের ভালো কাজগুলো জনগণের মাঝে খারাপ করে ফেলছেন। ত্রান পাওয়া একাধিক ব্যক্তি জানান এসব চাল আমরা কখনো দেখিনি। কোন ভাবেই ভাত খাওয়া যাচ্ছেনা। আবার রান্নার কিছুক্ষন পর নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এসবের মুলহোতাদের কঠোর বিচারের আওতায় আনা দরকার। কারন এউপজেলায় এসব ধান উৎপাদন হয়না। ভালো ধান পাচার করে খারাপ চাল দিচ্ছে এদের আগে বিচার হওয়া দরকার।

এবিষয়ে সিন্ডিকেট চক্রের সদস্য উত্তমের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান এসব খবর করে কোন লাভও হবেনা, আমার পশমও উঠবেনা বলে দাম্ভিক্ত প্রকাশ করেন।
গুদাম কর্মকর্তা ওসিএলএসডি তারেকুজ্জামানের সাথে কথা বলা হলে তিনি বলেন খবর প্রকাশ করে কি করবেন। সারা দেশেই এভাবেই ব্যবসা হয় তাঁর চেয়ে সমন্বয় করে চলাটাই উত্তম।

উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা আলাউলের মোবাইলে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

cover3.jpg”><img src=”https://www.bssnews.net/wp-content/uploads/2020/01/Mujib-100-1.jpg”>

via Imgflip

 

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451