1. gnewsbd24@gmail.com : admi2019 :
শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০৭:৫৭ অপরাহ্ন

আকাশে মেঘ আর পানি ফুঁসলেই নির্ঘুম রাত

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২০
  • ১৩ বার পঠিত

আকাশে মেঘ আর পশুর নদীর পানি একটু ফুঁসলেই নির্ঘুম রাত কাটে তীরবর্তী ১০ গ্রামের মানুষের। নদী সংলগ্ন হলেও ঝড় জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষার জন্য এ অঞ্চলে নেই কোন ভেড়ীবাঁধ। ফলে কয়েকটি ইউনিয়নের বিপুল সংখ্যক মানুষ দীর্ঘদিন ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছে। পোহাতে হচ্ছে নানা ভোগান্তি।

এসব এলাকার বেশিরভাগ মানুষকে বসবাস করতে হয় জোয়ার ভাটার নিয়ম মেনে। এ নদীর স্রোত আর ভাঙ্গন কেঁড়ে নিচ্ছে জনবসতি, মাথা গোজার ঠাই বসতভিটাও। জোয়ার-ভাটার হলি খেলায় সহায় সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন অসংখ্য পরিবার। সুন্দরবনের বুকচিরে বঙ্গোপসাগর মিশেছে মোংলার পশুর নদী। এ নদীটি উজানে ছুয়েছে এক পাড়ে মোংলা উপজেলা আর অপর পাড়ে খুলনার দাকোপ উপজেলায়। পশুর নদী ছাড়াও বনের আরেক প্রান্ত হতে বয়ে আসা শাখা নদী শ্যালা ও মোংলা-ঘষিয়াখালী নদী প্রাকৃতিক ভাবে ঘিরে রেখেছে মোংলার জনপদ।

এ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে চিলা, চাঁদপাই ও বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়ন ছুয়ে গেছে ওই তিনটি নদী। আর এসব ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রাম প্রতিনিয়ত জোয়ারের পানিতে ডুবছে। একটি বেসরকারি সংস্থা প্রায় একযুগ আগে দেড় কোটি টাকা ব্যায় পৌর শহরের সীমান্ত থেকে সুন্দরবন সংলগ্ন লোকালয়ের জয়মনির ঘোল পর্যন্ত আংশিক ভেড়ীবাঁধ নির্মাণ করে। তবে চাঁদপাই ইউনিয়নের কানাইনগর আবাসন এলাকা থেকে শুরু করে জয়মনির ঘোল শ্যালা নদীর মোহনা পর্যন্ত ভেড়ীবাঁধের অবস্থা এখন বড়ই করুণ।

কাইননগর থেকে চিলা খাল পর্যন্ত যে বাধ নির্মাণ করা হয়েছিল এখন সেই বাঁধের চিহ্নও নেই। কোথায় কোথায় বাঁধের সীমা রেখা একহাত কিংবা এক বিলাস্তের মতো টিকে আছে। এ অবস্থায় পশুর নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষের দুঃখ দূর্দশার যেন শেষ নেই। এসব এলাকায় চলাচলের জন্য সড়ক পথও তেমন উন্নত নয়। তবে নদী সংলগ্ন এলাকার মানুষকে ঝড় জলোচ্ছ্বাস ও লবণ পানির হাত থেকে রক্ষার জন্য বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ একটি ভেড়ীবাঁধ নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা পাঠিয়েছে মন্ত্রণালয়ে।

মোংলার পশুর নদীর জয়মনী থেকে মোড়েলগঞ্জের সন্ন্যাসী পর্যন্ত দীর্ঘ ৯৫ কিলোমিটার কোন ভেড়ীবাঁধ নেই। এসব এলাকায় চলাচলের জন্য সড়ক পথও তেমন উন্নত নয়। এদিকে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের পর মোংলার চাঁদপাই ইউনিয়নের কানাইনগর এলাকায় স্থানীয় প্রশাসনের অনুরোধে পাউবো অস্থায়ী ভিত্তিতে ভেড়ীবাঁধ নির্মাণ শুরু করলেও তা নিয়ে রয়েছে নানা দুর্নীতি আর অনিয়মের অভিযোগ।

এখানে প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যায়ে কোন রকম দায়সারা ভেড়ীবাঁধ দিলেও তা দুই মাস মাথায় ভেঙ্গে নদীর সাথে বিলিন হয়ে যায়। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেয়া ভেড়ীবাঁধ নামে মাত্র দেয়া হয়েছে আর লুটপাট করেছে কর্মকর্তারা বলে ওখানকার এলাকাবসীর অভিযোগ। স্থানীয়রা জানান, স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। উন্নয়ন ও জনগণের জান মালের নিরাপত্তার জন্য উপকূলীয় জনপথে ভেড়ীবাঁধ নির্মাণ করেছে সরকার। কিন্তু নদীর সংলগ্ন হওয়া স্বত্বতেও কোন ইউনিয়নে স্থায়ী ভেড়ীবাঁধ হয়নি।

একের পর এক ঝড়-জলোচ্ছ্বাস আর নদীর স্রোত, কুল ভাঙ্গা গড়ার খেলায় এ জনপদের বাসিন্দারা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বছরের পর বছর ধরে ভেড়ীবাঁধ না থাকার দূর্ভোগ চললেও জেলা, উপজেলা কিংবা পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেই। ফলে প্রতি বছর বর্ষা আর ঝড় জলোচ্ছ্বাসের মৌসুমে পশুর নদীর পেটে বিলিন হচ্ছে বসতভিটা ও জনবসতি। লবণ পানি প্রবেশ করে ঘের ও পুকুর ভেসে কোটি কোটি টাকার মাছ ভেসে যায়।

সামুদ্রিক ঘুর্নিঝড় সিডর, আইলা, ফণি, বুলবুল পরবর্তী সর্বশেষ ছোবল হানা ঘুর্নিঝড় আম্পান এ জনপদের মানুষকে নিঃস্ব করেছে। প্রত্যেক বারই ঘুর্নিঝড় পরবর্তী নদীর তীরবর্তী এ জনপদ পত্যক্ষ ও পরিদর্শন করে থাকেন জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা। চাঁদপাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোল¬া তারিকুল ইসলাম বলেন, যুগযুগ ধরে জোয়ার ভাটার সাথে তাল মিলিয়ে জীবন চলছে আমাদের। আমাদের এলাকার কয়েক হাজার মানুষ সব সময় ঝুঁকির মধ্যে থাকে।

নদী ও খালে একটু পানি বৃদ্ধি পেলেই ঘরের সামনে তলিয়ে যায়। নদী ও খালে লবণ পানি থাকায় ধান ও সবজি তেমন হয় না। প্রধান জীবিকার উৎস মাছের ঘেরও প্রতি বছর কয়েক বার ভেসে যায় প্রাকৃতিক জলোচ্ছ্বাস ও জোয়ারের পানিতে। তিনি আরো বলেন, জলোচ্ছ্বাস এবং দুর্যোগের সময় এখানে ব্যাপকভাবে ঘর বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থায়ীভাবে এখানে যদি কিছু না করা হয় তবে নদী ভাংগন থেকে এলাকা রক্ষা করা যাবে না। কাজেই এখানে স্থায়ী ভেড়ীবাঁধ একান্ত প্রয়োজন।

মোংলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার কমলেশ মজুমদার জানান, পশুর নদীর তীরবর্তী মানুষের নিরাপত্তায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে কানাই নগর থেকে বড় একটি বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনার রয়েছে। আশা করি আগামি বছর নাগাদ এ ভেড়ীবাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু হবে। বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ নাহিদুজ্জামান খাঁন বলেন, ছোট ছোট প্রকল্প দিয়ে মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করা যাবেনা।

তবে ৩৫/২ পোল্ডারের আওতায় মোংলার জয়মনির ঘোল থেকে রামপাল হয়ে মোড়েলগঞ্জের সন্ন্যাসী পর্যন্ত প্রায় ৯৫ কিলোমিটার ভেড়ীবাঁধের একটি প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আশা করি প্রকল্পটি অনুমোদন হলে ওই অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ কমবে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

cover3.jpg”><img src=”https://www.bssnews.net/wp-content/uploads/2020/01/Mujib-100-1.jpg”>

via Imgflip

 

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451