1. gnewsbd24@gmail.com : admi2019 :
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:৫১ অপরাহ্ন

স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসার বেতন কাঠামোর নীতিমালা জারির দেড় বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি

সোহেল রশীদ,রংপুর থেকে :
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২০
  • ৫৪ বার পঠিত

স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসার জনবল বেতন কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা জারি হয়েছে ২০১৮ সালের ১৮ নভেম্বর। এই নীতিমালায় স্কেল অনুযায়ি বেতন-ভাতা দেয়ার কথা থাকলেও দেয়া হচ্ছে না। ইতিমধ্যেই নীতিমালা জারির দেড় বছর পেরিয়ে গেছে। তার পরেও এখনও বাস্তবায়ন হয়নি।

এতে করে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসার শিক্ষকরা মানববেতর জীবন যাপন করছে। তারা স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসার শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি নিয়ে এমন টালবাহনায় চরম ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ এবং মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের দায়িত্ব অবহেলা ও উদাসীনতাকে দায়ি করেছেন। তবে মাদরাসা ও কারিগরি বিভাগ সূত্র জানায়, সারাদেশের জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসার তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। সব জেলার তথ্য আসলেই সিদ্ধান্ত দেয়া হবে।

সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৩ সালে প্রাথমিক শিক্ষা বিস্তারে বেসরকারি বিদ্যালয় ও ইবতেদায়ি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা শুরু হয়। এর মধ্যে ২৬ হাজার ১৯৩ প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ হয়। কিন্তু অভিন্ন আইনে প্রতিষ্ঠা হলেও বঞ্চিত থাকে ইবতেদায়ি (পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত) মাদরাসা। তারা মাত্র ৫শ’ টাকা করে মাসোহারা পেয়ে আসছেন। তবে ২০১০ সালে মাসোহারা এক হাজার টাকা করা হয়। পরে তা বাড়িয়ে দেড় হাজার টাকা করা হয়।

তৃতীয় দফায় বাড়িয়ে সহকারী শিক্ষকদের (মৌলভী) সম্মানী দুই হাজার ৩০০ আর প্রধান শিক্ষকদের আড়াই হাজার টাকা করা হয়। এর মধ্যে সারাদেশের ১ হাজার ৫১৯টি মাদরাসার চারজন করে শিক্ষক সরকার থেকে মাসিক ২ হাজার ৩০০ টাকা অনুদান পান। আর মাদরাসার প্রধানরা মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা পান। তাই, স্বল্প টাকায় শিক্ষকদের অভাব-অনটনে সংসার চলে।

এরা দীর্ঘ ৩৪ ধরে বেতন ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ-মানববন্ধন-স্বারকলিপি পেশ ও অনশন কর্মসূচীসহ বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছে। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার তাদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বেতন বৃদ্ধিসহ জনবল কাঠামো ও নীতিমালা জারি করে।

শিক্ষকদের অভিযোগ, ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষকদের জনবল কাঠামো ও নীতিমালা ২০১৮ সালের ১৮ নভেম্বর জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ। নীতিমালা অনুযায়ী সরকার অনুমোদিত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষকদের তিন মাস পর পরেই পরিবর্তে প্রতিমাসে এমপিও (মান্থলি পেমেন্ট ওর্ডার) ছাড় করার কথা। কিন্তু এসব মাদরাসার শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে বেতন বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছেন।

শিক্ষকদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান সরকার নীতিমালাটি জারি করে। ইবতেদায়ী প্রধানদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সমান বেতন স্কেল তথা ১১তম গ্রেড নির্ধারণ করা হয়। আর ইবতেদায়ী সহকারী ও ক্বারীদের বেতন ১৬তম গ্রেড নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ ও মাদরাসা অধিদপ্তরের উদাসীনতার কারণে নীতিমালাটি কার্যকর করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ শিক্ষকদের।

বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষক পরিষদের রংপুর জেলা সভাপতি মাওলানা নুরুল আবছার দুলাল বলেন, তারা বৈষম্যের শিকার, কারণ তাদের মতো সংযুক্ত দাখিল, আলিম, ফাযিল, কামিল মাদরাসাগুলোতেও ইবতেদায়ি রয়েছে। শুধু আমরা প্রাইমারি স্কুলের মতো প্রথম শ্রেণি হতে পঞ্চম শ্রেণি হতে পড়াই বলে আমাদের মাদরাসাগুলোতে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা বলে। কিন্তু উভয় মাদরাসায় একই রকম বই ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ানো হয়।

মান ও একই পরীক্ষার পদ্ধতি সকল নিয়ম কানুন একই। শুধু বেতন ভাতার ক্ষেত্রে পার্থক্য। কারণ তারা পায় জাতীয় স্কেলে বেতন আর আমরা পাই মাসিক ২৩০০-২৫০০ টাকা বেতন। একই মাদরাসা কিন্তু বেতনের ক্ষেত্রে নিয়ম দুই প্রকার। এটা অমানবিক। গত ১৮ সালে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ীর জন্য আলাদা এমপিও নীতিমালা জারি হয়েছে। সম-মর্যাদা দেয়া হয়েছে। সেই নীতিমালা অনুযায়ি আমরা বেতন ভাতা পাচ্ছি না।

বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষক পরিষদ কেন্দ্রীয় নেতা গোলাম আজম জানান, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক মঞ্জুরি নিয়ে দেশে প্রায় ১৮ হাজার স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা হয়। সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে প্রায় ১১ হাজার ১৫২টি ইবতেদায়ি মাদরাসা বিলুপ্ত।

বর্তমানে সরকারি হিসাব মতে ৬ হাজার ৮৪৮টি মাদরাসা চালু আছে। এসব ইবতেদায়ি মাদরাসা প্রতিষ্ঠার বয়স ৩৩ বছর পূর্ণ হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে হাজার হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা বিনা বেতনে চাকরি করে মারা গেছেন। অনেকে বিনা বেতনে চাকরি করে শূন্য হাতে অবসরে গেছেন, তার কোনো হদিস নেই।

আমাদের চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে আমরা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কাফনের কাপড় পরে মানববন্ধন করেছি। সারাদেশ থেকে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষামন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি। সর্বশেষ আমাদের আন্দোলনের ফলে ২০১৮ সালে সরকার জনবল বেতন কাঠামো ও নীতিমালা জারি করে। কিন্তুু অজানা কারণে সেই দেড় বছর ধরে হিমাগারে পড়ে রয়েছে। ফলে প্রায় ৩৩ হাজার শিক্ষক পরিবারের দেড় লাখ মানুষের জীবনযাত্রা থমকে আছে। তারা সমাজের মূল ¯্রােত থেকে ছিটকে পড়েছে।

বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষক পরিষদের মহাসচিব মো. শামছুল আলম অভিযোগ করে বলেন, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ এবং মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলার কারণে এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী আমরা বেতন পাচ্ছি না। আগে তিন মাস পর পর বিল ছাড়তো। সর্বশেষ চার মাস পর বিল ছাড় করেছে। অথচ নীতিমালায় স্পষ্ট বলা আছে প্রতিমাসে বেতন ছাড়ের। নীতিমালা জারির ১৭ মাস চলে গেছে। তার পরেও কর্মকর্তারা নীতিমালাও বাস্তবায়ন করেন না। বেতনও ছাড় করেন না।

তিনি আরও বলেন, কর্মকর্তাদের উদাসীনতার কারণে বর্তমান করোনা পরিস্থিতির সংকটকালে বেশিরভাগ শিক্ষক বেতন না পেয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন যাপন করছেন। তারা লজ্জায় কারও কাছে হাত পাততে পারছেন না। দ্রুত বেতন ছাড় না করলে আমাদের না খেয়ে মারা যেতে হবে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাদরাসা শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার বিপক্ষে। এই কারণে এমপিও নীতিমালা অনুযায়ি আমরা বেতন ভাতা পাচ্ছি না। স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা শিক্ষকদের বেতন-ভাতার বৃদ্ধির বিষয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451