1. gnewsbd24@gmail.com : admi2019 :
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:২৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মাগুরায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে পথ শিশুদের মধ্যে যুবলীগের খাবার বিতরণ হিলিতে চালের দাম বেড়েছে কেজিতে ৩ টাকা বিএনপি নেতা নিতাই রায় চৌধুরীর মতবিনিময় রিটেইল শিল্পের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে প্রাধান্য দিয়ে শুরু হল জাতীয় পুরুষ ও মিশ্র পেসাপালো প্রতিযোগিতা শুরু ঝালকাঠির মহাসড়কে পৌর টোলের নামে চাঁদাবাজি, বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ আত্রাইয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত ঝালকাঠির গ্রামীণ জনপদে গড়ে উঠছে হাঁসের খামার ঝালকাঠি এলজিইডির আওতায় খাল পুনঃখনন, গ্রামীণ উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পাবনায় উপ নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে প্রেসক্লাবে আওয়ামী লীগের সংবাদ সম্মেলন

তানোরে সবকিছু অপেক্ষা করে শুরু হয়েছে বোরো ধান কাটা

আব্দুস সবুর, তানোর প্রতিনিধি :
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২০
  • ৭৪ বার পঠিত

করোনাভাইরাস গুড়িগুড়ি বৃষ্টি ঠাণ্ডা হিমেল হওয়া অপেক্ষা করে শুরু রাজশাহীর তানোরে শুরু হয়েছে বোরো ধান কাটা। গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা তেমন ছিলনা । কিন্তু তারপরও বোরো চাষিরা আশায় বুক বেধেছিলেন এবার এই দুর্যোগের সময় ঘরে শুকনো ধান তুলতে পারলে আশানুরূপ দাম পাওয়া যাবে।

গতকাল রোববারের গুড়িগুড়ি বৃষ্টি কিছুটা হলেও দুশ্চিন্তায় ফেলেছে চাষিদের। কারন সকাল থেকেই ছিল আকাশে কালো মেঘ এরপর শুরু হয় গুড়িগুড়ি বৃষ্টি । যা চলে টানা বিকেল ৩টা পর্যন্ত।

পথ ঘাট কাদা হয়ে পড়ে। গুড়িগুড়ি বৃষ্টির সাথে চলে ঠাণ্ডা হিমেল হাওয়া। সব কিছু অপেক্ষা করে বোরো ধান কাটছিলেন আদিবাসী নারিসহ কিছু শ্রমিক। ফলে সমাজের বিত্তবানরা যখন এই বৃষ্টির সময় ঘরে আরামে আছেন আর তাঁরা পেটের সংসারের দু মুঠো খাবার জোগাড় করতে কেটে যাচ্ছেন ধান। তাদের ঘামের পরিশ্রমের কারনেই দেশে খাদ্য ঘাটতি নেই। অথচ সমাজে তারাই সব চেয়ে অবহেলিত।

সরেজমিন বিভিন্ন এলাকা ঘুড়ে দেখা যায় তানোর পৌর এলাকা থেকে শুরু করে কামারগাঁ ইউপি এলাকায় বিল কুমারী বিলে আগাম জাতের বোরো চাষ হয়। গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় বহিরাগত শ্রমিকরা চলে এসেছেন। তাঁরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে চিটিয়ে আছে। বিল কুমারী বিলের বোরো ধান পেকে সোনালী আকার ধারন করেছে।

কিন্তু সদরে সে ভাবে বহিরাগত শ্রমিক আসতে না পারায় পাকা ধান কাটতে পারছেনা অনেকে। আবার যাদের সামান্য পরিমাণ জমি আছে তাঁরা নিজেরাই কেটে নিচ্ছেন। রোববার সকাল ১০টার দিকে তালন্দ বাজার পার হয়ে দেখা যায় বিলের জমি থেকে ধান কেটে রাস্তার উপরে রাখা ট্রলিতে আনলোড করা হচ্ছে। এরশাদ মুনুসহ কয়েকজন জানান বিলের অনেক নিচের জমি থেকে ধান কেটে রাস্তায় নিয়ে আসা হচ্ছে। এতে করে খরচও হচ্ছে বেশি। কিন্তু যে আবহাওয়া শুরু হয়েছে তাতে মনে হয়না শুকনো ধান ঘরে তোলা যাবে। আর শুকনো ধান ঘরে তুলতে না পারলে লোকসানের শেষ থাকবেনা পাওয়া যাবেনা শ্রমিক।

তালন্দ বেলপুকুরিয়া মাঠে বোরো ধান কাটছিলেন দশজন মত শ্রমিক। তাদের মধ্যে ছিল আদাবাসি নারী শ্রমিকও। তাদের মধ্যে শামসুদ্দিন জাহাঙ্গীর নামের ধান কাটা শ্রমিক জানান আমরা বোরো চাষি গোকুল গ্রামের বাদলের ধান কাটছি। আবহাওয়া ঠাণ্ডা কিন্তু উপায়কি দেশে যে দুর্যোগ চলছে ধান না কাটলে ছেলে মেয়েদের মুখে খাবার দিব কিভাবে। তবে আবহাওয়া ভালো থাকলে শুকনো ধান ঘরে তুলতে পারলে চাষিরাও যেমন হবেন লাভোবান তেমনি ভাবে শ্রমিকরাও পাবেন শুকনো ধান।তাঁরা ধান কাটছিল কিন্তু কোন ভাবেই করোনাভাইরাসের কথাই যেন জানেনা।

তাদের কাছে করোনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তাঁরা একটু রাগান্বিত হয়েই জানান করোনার চেয়ে পেটের ক্ষুদার জালা ভয়ঙ্কর। সরকার বলছে ঘরে থাকুন খাবার পৌছে যাবে। কিন্তু এপর্যন্ত মাত্র ১০কেজি চাল জুটেছে ভাগ্যে। দশ কেজি চালে কি হয় । আবার যারা পাচ্চেতো তো পেয়েই যাচ্ছে, চাল চুরিরতো হিড়িক পড়েছে। যারা লুটে নেবার লুটেই নিবে আর যারা খাবার অভাবে মরবে তো তাঁরা মরেই যাবে। ধান কাটছেন করোনাভাইরাসের ভয় লাগছেনা জানতে চাইলে বলেন কিসের করোনা কিসের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। যারা সরকারের ত্রান প্রকল্প লুটপাট করছে তাঁরা এসব চিন্তা করুক। আমরা সারা জীবন ধান রোপণ কাটা মাড়াই করে জীবন সংসার পরিচালনা করছি এটাই করে যাব।

তবে কৃষি বিভাগ ধান কাটার সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে বা সার্বক্ষণিক মনিটরিঙয়ের যে কথা বলেছিল তা শুধু কথার কথাই রয়ে গেছে। যারা ধান কাটছেন আগের সেই সনাতন নিয়মেই কাটছেন। ধান কাটা অবস্থায় সকালের দুপুরের খাবার জমিতেই খাচ্ছেন।
বোরো চাষি মামুন ইসরাইলসহ একাধিক ব্যক্তিরা জানান স্থানীয় শ্রমিক দিয়ে যেমন সময়মত ধান ঘরে উঠবেনা তেমনি ভাবে বহিরাগত শ্রমিকের প্রয়োজন বেশি। কিন্তু তাদেরকে নিয়ে রয়েছে এক প্রকার আতঙ্ক। কারন তাঁরা কোন নিয়ম মানবেনা। আর স্বাস্থ্যবিধি সামাজিক দুরুত্ব বজায় রেখে ধান কাটা মাড়াই হয়না। তবে এপ্রতিবেদন লেখার সময় বিকেল চারটার দিকে সূর্যের আলো দেখা যায়। যার ফলে চাষিরা কিছুটা হলেও সস্তি পাই।

কৃষি অফিসার শামিমুল ইসলাম বলেন এবারে উপজেলায় ১৩ হাজার হেক্টর মত জমিতে বোরো চাষ হয়েছে । ধান কাটার ব্যাপারে মনিটরিং করা হবে। তবে একাজ কষ্টকর। আবহাওয়া ভালো থাকলে চাষিরা শুকনো ধান ঘরে তুলতে পারলে ফলনও ভালো হবে দামও ভালো পাবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451