1. gnewsbd24@gmail.com : admi2019 :
মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ০২:১৫ পূর্বাহ্ন

ভূগর্ভ থেকে কয়লা উত্তোলনের কারণে ৩ শত একর জমি তলিয়েগেছে

মোঃ আফজাল হোসেন, ফুলবাড়ী প্রতিনিধি (দিনাজপুর ) :
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২০
  • ৮ বার পঠিত

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ভূগর্ভ থেকে কয়লা উত্তোলনের কারণে পূর্ব দিকের ৩ শত একর জমি তলিয়ে গিয়ে বিশাল জলাশয়ের সৃষ্টি হয়। ক্ষতিগ্রস্থ হয় ফুলবাড়ী থেকে বড়পুকুরিয়া বাজার হয়ে খয়েরপুকুর হাট যাওয়ার রাস্তাটি। বাংলাদেশের জ্বালানী চাহিদা মেটানোর জন্য সরকার দেশের উত্তর অঞ্চলের দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নের বড়পুকুরিয়া নামক স্থানের নামকরণ করে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ১৯৯৪ সালের ২৭ জুন উদ্বোধন করে এর যাত্রা শুরু করেন তৎকালীন সরকার ।

২০০৩ ইং সালে ২৩ এপ্রিল খনি থেকে কয়লা উত্তোলনের উদ্বোধন হয়। ১৯৯৪ সালের ৭ ই ফেব্রুয়ারী পেট্রবাংলা ও গণচীনের চায়না ন্যাশনাল মেশিনারী ইনপোর্ট এন্ড এক্সপোর্ট করপরোশন এর মধ্যে খনির সকল কার্যক্রম করার জন্য চুক্তি স্বাক্ষর হয়। শুরু হয় পুরোদমে শুড়ঙ্গ পদ্ধতিতে কয়লা তোলার কার্যক্রম। বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিটি ৬.৬৮ বর্গ কিলোমিটার।

কয়লার ক্ষেত্রে ১১৮ থেকে ৫০৬ মিটার গভীরতায় ৬টি স্তরে কয়লার মজুদ ৩৯০ মিলিয়ন টন। এলাকার মানুষ প্রথমে বুঝতে পারেনি শুড়ঙ্গ পথে কয়লা উত্তোলন করলে তাদের কী ক্ষতি হবে। অবশেষে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি এলাকার ১২ থেকে ১৪টি গ্রামের মানুষ যখন বুঝতে পারল যে কয়লা তোলার কারণে বাড়ীঘর, ফসলি জমি, স্কুল কলেজ, কবরস্থান, মসজিদ, মন্দির সহ বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে তখন এলাকর মানুষ গত ৭ বছর আগে দলবদ্ধ হয়ে ক্ষতিপুরন চেয়ে আন্দোলন শুরু করে।

আন্দোলন শুরু করলে সরকার খনি এলাকর ৩ কি.মি এলাকা অধিগ্রহণ ও আড়াই হাজার গ্রাম বাসীকি পুন:বাসনে মাইনিং সিটি নামক একটি শহর স্থাপন ও জমি ও ঘরবাড়ীর ক্ষতি পুরন দিতে চুক্তিবদ্ধ হন। এ জন্য খনি কর্তৃপক্ষ জ্বালানী মন্ত্রনালয়ে ২২৮ কোট টাকা ব্যয় হতে পারে মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

তৎকালীন সময় পরিকল্পনা বাস্তবায়নে খনি কর্তৃপক্ষ সরকারের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেন। গ্রামবাসীদের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়। খনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল ২-৩ বছরের মধ্যে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি নিয়ে বড় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভাব। কিন্তু তা হয়নি। পরবর্তীতে ৮ দফা সুপারিশ অনুমোদন করেন সরকার। প্রায় সাড়ে ৬ শত একর জমি খনি কর্তৃপক্ষ অধিগ্রহণ করেন। অধিগ্রহণ এলাকা থেকে ৭টি গ্রামের মানুষ ক্ষতিপুরন নিয়ে অন্য স্থানে চলে গেছে। এখন শুধু এলাকায় ধ্বংস স্তুপ পড়ে রয়েছে।

সেখানে গিয়ে দেখা যায় কয়লা উত্তোলনের কারণে বিশাল জলাশয়। সেই জলাশয়ে এলাকার মানুষ মাছ মারছেন। পাশ্বে রয়েছে একটি রাস্তা সেই রাস্তাটিও চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। দেখে মনে হয় কোন কালে এখানে একটি বিশাল বিল ছিল। এখন এলাকা প্রায় ধ্বংস। ক্ষনি কর্তৃপক্ষ আবারও উত্তর ও দক্ষিণ দিয়ে কয়লা উত্তোলনের জন্য জমি অধিগ্রহণ করছে। মাইনিং সিটি এই এলাকায় আর হলো না।

এলাকাটি এখন জলাশয়। পরিবেশের ক্ষতি হয়েছে। আবাদি জমি ও প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। এলাকার মানুষ ছিন্ন ভিন্ন হয়ে গেছে। ক্ষতিপুরণ দিলেও পরিবেশ ফিরে আসবে না। কয়লা উত্তোলন করে সরকার লাভবান হলেও এলাকার মানুষের অফুরন্ত ক্ষতি হয়েছে। অন্যান্য খনি গুলি ভূগর্ভস্থ পদ্ধতিতে করতে গেলে এমনি ক্ষতি হবে ঐ এলাকার। তাই বড়পুকুরিয়া এলাকার মানুষ সময়িক লাভবান হলেও অনেকে ক্ষতিগ্রস্থ। একারণে এলাকার মানুষ আর খনি চায় না।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

cover3.jpg”><img src=”https://www.bssnews.net/wp-content/uploads/2020/01/Mujib-100-1.jpg”>

via Imgflip

 

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451