1. gnewsbd24@gmail.com : admi2019 :
বুধবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ১০:০৮ অপরাহ্ন

জাল সনদে দীর্ঘ ১০ বছর চাকুরি করা সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা

এম এম হারুন আল রশীদ হীরা, মান্দা প্রতিনিধি (নওগাঁ) :
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২০
  • ৭ বার পঠিত

নওগাঁর মান্দা থানা আদর্শ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজে ভুয়া সনদে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে চাকরি করে চলেছেন ও সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন পূর্বক আত্মসাৎ ও ভোগ করে আসছেন শরীর চর্চা বিষয়ের শিক্ষক পাপিয়া খান।

সম্প্রতি তিনি উচ্চতর বেতন স্কেল নেয়ার জন্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে জানালে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ তার জমা দেওয়া নিবন্ধন সনদটির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) বরাবর পাঠান। যাচাই-বাছাইয়ের সময় তার নিবন্ধন সনদ ভুয়া বলে প্রমাণিত হওয়ায় এনটিআরসিএ’র কর্তৃপক্ষ কলেজের অধ্যক্ষকে অবহিত করে পরপর দুটি পত্র পাঠিয়েছেন। ফলে পাপিয়া খানের দুর্নীতি, অর্থ আত্মস্যাৎ, প্রতারণা ও জালিয়াতির ঘটনাটি ফাঁস হলে, সেটি জন সাধারণের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি করেছে।

এ ছাড়া জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া সনদে চাকরি নেওয়ার অপরাধে ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশ দিয়েছেন এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ। সে মোতাবেক কলেজের অধ্যক্ষ বাদী হয়ে মান্দা থানায় ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন, যার মামলা নম্বর-১৮/২০২০, তারিখ ৯/১১/২০২০, জি আর নম্বর ৫৩৫/২০২০ ধারা ৪০৬,৪২০,৪৬৮ ও ৪৭১।

অভিযোগে জানা যায়, সম্পূর্ণ জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ভুয়া সনদে পাপিয়া খান ২০১০ সালের ৫ আগস্ট শরীর চর্চা বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। এরপর একই সালের ১ সেপ্টেম্বর তিনি এমপিওভুক্ত হন। এমপিওভুক্তির পর থেকে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে অবৈধ পন্থায় তিনি ১৬/১৭ লক্ষ সরকারি টাকা উত্তোলন পূর্বক এতদিন ধরে ভোগ করে আসছিলেন।

প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জানা যায়, সম্প্রতি তার চাকরির মেয়াদ ১০ বছর পূর্ণ হলে তিনি উচ্চতর বেতন স্কেল নেওয়ার জন্য ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেন। তাই তার সনদটি যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হয় এনটিআরসিএ’র এ। আর এ ঘটনাতেই ফাঁস হয়ে যায় ধুরন্ধর শিক্ষক পাপিয়া খানের নিবন্ধন সনদের রহস্য। সনদ যাচাইয়ে শরীর চর্চা শিক্ষকের নিবন্ধন সনদ ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়ে যায়। আবার সেই জাল নিবন্ধন সনদকে বৈধ করতে কর্মকর্তাদের সিল ও স্বাক্ষর জাল করে ভেরিফাইড করে ধরা খেয়েছেন পাপিয়া খান।

ফলে জাল সনদকে বৈধ করতে তার সব অপচেষ্ঠাও বৃথা হয়ে গেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন এনটিআরসিএ’র সহকারী পরিচালক (পমূপ্র-৩) তাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রথমে ১৬০৫ নম্বর স্মারকে সনদ যাচাই সংক্রান্ত চিঠি গত ১৬ সেপ্টেম্বর এবং পরে দ্বিতীয়বার ১৭৭০ নম্বর স্মারকে গত ৮ অক্টোবর জানানো হয়েছে। পরে সেটি এনটিআরসিএ ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার ও নির্দেশ প্রদান করা হয়।

এ ছাড়া কলেজের অধ্যক্ষকে পত্র মারফত এ সংক্রান্ত চিঠিও পাঠানো হয়েছে। ভুয়া সনদে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে চাকরির অপরাধে ওই প্রভাষকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়েরসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষকে অবগত করার জন্যও চিঠিতে বলা হয়েছে।

এনটিআরসিএ এর প্রেরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয় যে, ২০০৭ সালে অনুষ্ঠিত তৃতীয় ব্যাচের নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ পাপিয়া খানের দাখিলকৃত নিবন্ধন সনদের রোল নম্বর ২১১৯০৩৪৪, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৭০০৮৯২১ যাচাইকালে সনদটি ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়েছে।

তবে অভিযুক্ত প্রভাষক পাপিয়া খানের যোগাযোগের ০১৭৬৩০৭৪৭৩০ নম্বরে একাধিকবার ফোন দিলে সেটি বার বার বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

মান্দা থানা আদর্শ মহিলা বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ আলমগীর হোসেন বলেন, শরীর চর্চা শিক্ষক পাপিয়া খানের নিবন্ধন সনদ ভুয়া সংক্রান্ত বিষয়টি এনটিআরসিএ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখে পাঠানো যাচাই রিপোর্টের মাধ্যমে প্রথমে জানতে পারি। তার পর অভিযুক্ত ওই শিক্ষক আবারো প্রতারণার সুযোগ নিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখে এনটিআরসিএ এর সহকারী পরিচালক তাজুল ইসলাম স্যারের সিল ও স্বাক্ষর নকল করে সেই স্বাক্ষরিত নিবন্ধন সনদ আমার অফিসে জমা দেন এবং বলেন তাজুল ইসলাম স্যার আমার সনদটি যাচাই করে সঠিক বলে সনদে স্বাক্ষর করে দিয়েছেন। সেই পূনরায় যাচাইকৃত সনদটি সঠিক নয় বলে আমার সন্দেহ হলে আমি এনটিআরসিএ কে সনদটি আবার যাচাইয়ের আবেদন করি। তার প্রেক্ষিতে গত ৮ অক্টোবর আবারও কর্তৃপক্ষ সনদটি সঠিক নয় বলে জানান।

এক প্রশ্নের জবাবে অধ্যক্ষ এ প্রতিবেদককে বলেন, পাপিয়া খানকে ফাঁসাতে ও প্রতিষ্ঠান থেকে বিতারিত করতে ষড়যন্ত্র করা হতে পারে এমন ঘটনা না। আসলেই তার সনদটি সঠিক নয়। তাই এনটিআরসিএ’র নির্দেশনার আলোকে কলেজ গর্ভনিং বডির সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক ঐ জাল নিবন্ধন সনদধারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

উপপরিদর্শক নজরুল ইসলাম জানান, মামলার তদন্ত চলছে। দ্রুত অভিযোগগুলোর বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

মান্দা থানার পরিদর্শক (ওসি) শাহিনুর রহমান বলেন, মান্দা থানা আদর্শ মহিলা বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ আলমগীর হোসেন অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। উপপরিদর্শক নজরুল ইসলামকে মামলার তদন্ত ভার দেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে শীঘ্রই মামলার চার্জশীট দাখিল করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

cover3.jpg”><img src=”https://www.bssnews.net/wp-content/uploads/2020/01/Mujib-100-1.jpg”>

via Imgflip

 

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451