1. gnewsbd24@gmail.com : admi2019 :
বুধবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ১১:৩১ অপরাহ্ন

দায় এড়াতে এএসপি আনিসুলের লাশ সরাতে চেয়েছিলেন ডা. মামুন

নিজস্ব প্রতিবেদক :
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২০
  • ৫ বার পঠিত

রাজধানীর মাইন্ড এইড হাসপাতালে জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আনিসুল করিমকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের রেজিস্ট্রার ডা. আবদুল্লাহ আল মামুন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন তিনি এএসপি আনিসুল করিমকে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল থেকে মাইন্ড এইড হাসপাতালে পাঠিয়েছিলেন।

পরে মৃত্যুর খবর শুনে নিজের ও মাইন্ড এইড হাসপাতালের দায় এড়াতে আনিসুলের লাশ অন্য হাসপাতালে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছিলেন তিনি। পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশীদ গতকাল বুধবার এসব তথ্য জানান।

পুলিশের পক্ষ থেকে আরো বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে এএসপি আনিসুল ছাড়াও আরো অনেক রোগীকে মাইন্ড এইড হাসপাতালে পাঠিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন ডা. আবদুল্লাহ আল মামুন। এ ছাড়া মাইন্ড এইড হাসপাতালে ওই রোগীদের যে বিল করা হতো, সে বিলের ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ তিনি কমিশন হিসেবে পেতেন। এজন্য তিনি জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের কয়েকজন স্টাফ ও কমিশনভোগী কয়েকজন দালালকে ব্যবহার করতেন বলেও স্বীকার করেছেন।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, গত ৯ নভেম্বর তেজগাঁও বিভাগের আদাবর থানাধীন মাইন্ড এইড হাসপাতালে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন এএসপি আনিসুল করিম। সেদিনই ঘটনায় জড়িত ১০ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদাবর থানা পুলিশ। পরে ১০ ও ১১ নভেম্বর গ্রেপ্তার করা হয় অপর দুই আসামিকে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জন এরই মধ্যে বিজ্ঞ আদালতে কার্যবিধি ১৬৪ ধারা মতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য ও মাইন্ড হাসপাতালে প্রাপ্ত রেজিস্টার পর্যালোচনা করে ১৭ নভেম্বর শেরেবাংলা নগর থানা এলাকা থেকে ডা. আবদুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এএসপি আনিসুল করিমের সঙ্গে যা ঘটেছিল

পুলিশ বলছে, গত ৯ নভেম্বর বোন ও ভগ্নিপতির সঙ্গে চিকিৎসার জন্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে যান এএসপি আনিসুল করিম। দ্বিতীয় তলায় একজন চিকিৎসককে পান তাঁর ভগ্নিপতি। ওই চিকিৎসকের পরামর্শে বহির্বিভাগ থেকে টিকিট কাটেন তিনি। এর মধ্যে আনিসুলকে না দেখেই দুটি ইনজেকশন লিখে দেন চিকিৎসক। এরপর আনিসুলকে একটি বেডে শুইয়ে ইনজেকশন দুটি দেওয়া হয়। এরপরই ঘুমিয়ে পড়েন আনিসুল।

আনিসুলের বোন ও ভগ্নিপতি তাঁকে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ভর্তি করানোর চেষ্টা করলে কয়েকজন স্টাফ ও দালাল তাঁদের বোঝান, ‘এখানে ভালো চিকিৎসা পাওয়া যাবে না। চিকিৎসকেরা নিয়মিত বসেন না। চিকিৎসা সরঞ্জাম নেই। আপনারা রেজিস্ট্রার স্যারের সঙ্গে দেখা করুন। রোগী ভালো মানের চিকিৎসা কোথায় পাবেন, এ বিষয়ে তিনি সাহায্য করতে পারবেন।’

আনিসুলের বোন ও ভগ্নিপতি রেজিস্ট্রার ডা. আবদুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে দেখা করলে তিনি আনিসুলকে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি না করিয়ে আদাবরের মাইন্ড এইড হাসপাতালে ভর্তি করানোর পরামর্শ দেন। ডা. আবদুল্লাহ আল মামুন তাঁদের জানান, তিনি মাইন্ড এইড হাসপাতালে নিয়মিত রোগী দেখেন। আনিসুলকে সেখানে ভর্তি করালে তিনি যত্ন নিয়ে তাঁর চিকিৎসা করতে পারবেন বলে আশ্বাস দেন। এ সময় আনিসুলের বোন ও ভগ্নিপতির ‘হ্যাঁ-সূচক’ সম্মতি পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ডা. আবদুল্লাহ আল মামুন মাইন্ড এইড হাসপাতালের ম্যানেজার আরিফকে ফোন করে আনিসুলকে ভর্তি করাতে বলেন।

পুলিশ বলছে, মূলত মাইন্ড এইড হাসপাতালে পাঠানো প্রত্যেক রোগীর মোট বিলের ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কমিশন পেতেন ডা. আবদুল্লাহ আল মামুন। যে কারণে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে আসা রোগী ও রোগীর অভিভাবকদের নির্দিষ্ট কিছু স্টাফ ও দালালদের মাধ্যমে ভুল বুঝিয়ে কমিশনের লোভে সুচিকিৎসার নামে মাইন্ড এইড হাসপাতালে পাঠাতেন ডা. আবদুল্লাহ আল মামুন।

ঘটনার দিন বেলা ১১টার দিকে আনিসুলকে নিয়ে তাঁর বোন ও ভগ্নিপতি মাইন্ড এইড হাসপাতালে যান। বোন ও ভগ্নিপতি যখন ফরম পূরণে ব্যস্ত ছিলেন, তখন অসুস্থ আনিসুল বারবার ওয়াশরুমে নিয়ে যাওয়ার তাগাদা দিলে মাইন্ড এইড হাসপাতালের স্টাফরা তাঁর অনুরোধ উপেক্ষা করে বিদ্রুপাত্মক মন্তব্য করতে থাকেন এবং ম্যানেজার আরিফ ‘এত তাড়া কীসের’ বলে আনিসুলকে ধমক দেন। এ সময় আনিসুল কিছুটা বিরক্তির সুরে আবারও অনুরোধ করলে ম্যানেজার আরিফ হাসপাতালের অন্যান্য স্টাফসহ তাঁকে ওপরে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেন।

পরে আনিসুলের নিথর দেহ নেড়ে দেখে মৃত্যু নিশ্চিত হয়েই ম্যানেজার আরিফ ডা. আবদুল্লাহ আল মামুনকে ফোন করেন। এ ব্যাপারে আরিফের সঙ্গে বেশ কয়েকবার কথা হয় ডা. আবদুল্লাহ আল মামুনের।

পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে ম্যানেজার আরিফ জানিয়েছেন, ডা. আবদুল্লাহ আল মামুনকে তিনি ফোন করে জানান, এএসপি আনিসুল মারা গেছেন। অপর প্রান্ত থেকে ডা. আবদুল্লাহ আল মামুন আরিফকে জানান, আনিসুলের মৃত্যুর বিষয়টি যেন কেউ জানতে বা বুঝতে না পারে।

পরে এ হত্যাকাণ্ডে নিজেকে এবং মাইন্ড এইড হাসপাতালকে দায়মুক্ত রাখতে আনিসুলকে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে উঠিয়ে অন্য হাসপাতালে নেওয়ার জন্য আরিফকে নির্দেশ দেন ডা. আবদুল্লাহ আল মামুন এবং কিছুক্ষণের মধ্যে নিজেই হাসপাতালটিতে হাজির হন। পরে আনিসুলের মরদেহ নিয়ে হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে যান তিনি। মৃত আনিসুলকে তড়িঘড়ি করে হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নেওয়ার পিছনে তাঁর উদ্দেশ্য ছিল, মাইন্ড এইড হাসপাতালের স্টাফদের নির্মম নির্যাতনে আনিসুলের মৃত্যু হয়েছে, এ তথ্য যেন কেউ জানতে না পারে।

পুলিশ বলছে, বৈধ কাগজপত্র ও অনুমোদন ছাড়াই ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত মাইন্ড এইড হাসপাতালের পরিচালক নিয়াজ মোর্শেদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ডা. আবদুল্লাহ আল মামুন। সেজন্য হাসপাতালটিতে নিয়মিত রোগী দেখার পাশাপাশি জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে আসা রোগীদের সুচিকিৎসার নামে কমিশনের লোভে মাইন্ড এইড হাসপাতালে পাঠাতেন।

সে কারণেই ডা. আবদুল্লাহ আল মামুন ও তাঁর কয়েকজন সহযোগী পারস্পরিক যোগসাজশে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ইচ্ছাকৃতভাবে অচলাবস্থা সৃষ্টি করে রাখতেন, যাতে রোগী বা রোগীর স্বজনরা তাঁদের নির্দেশিত মাইন্ড এইড হাসপাতালে যেতে বাধ্য হন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

cover3.jpg”><img src=”https://www.bssnews.net/wp-content/uploads/2020/01/Mujib-100-1.jpg”>

via Imgflip

 

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451