শনিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২১, ০৪:০৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মুজিববর্ষে পত্নীতলায় বাড়ি পাচ্ছেন ১১৪টি পরিবার নিষিদ্ধ ট্রাক্টরের দখলে ঝিনাইদহে সকল রাস্তা ঘাট, অতিষ্ঠ জনজীবন! মুজিব বর্ষ মার্সেল দ্বিতীয় বিভাগ দাবা লিগ-২০২১ গাবতলী সদর পদ্মপাড়ায় ফুটবল টুর্নামেন্ট ফাইনাল খেলা উদ্বোধন এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের পোস্টার টানানো হবে: ওসি মশিউর ঝিনাইদহে ট্রাক চাপায় নারীর মৃত্যু, আহত-১ ওয়ালটন গ্রুপের পরিচালক বিশিষ্ট ক্রীড়া অনুরাগী মাহবুব আলম মৃদুলের ইন্তেকাল সিদ্ধিরগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী ইমরান গ্রেফতার জয়পুরহাটে আলু ক্ষেত থেকে গ্যারেজ মিস্ত্রির লাশ উদ্ধার রাজারহাটে ব্যবসায়ীদের মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ

আজ হরিপুরসহ ঠাকুরগাঁও হানাদার মুক্ত দিবস

জে. ইতি, হরিপুর প্রতিনিধি (ঠাকুরগাঁও)ঃ
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৩৫ বার পঠিত

আজ ৩ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁও হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এ দিনে ঠাকুরগাঁও মহকুমা প্রথম শত্রুমুক্ত হয়। মুক্তিযোদ্ধা ও সর্বস্তরের জনগণ ওই দিন ভোরে হরিপুরসহ ঠাকুরগাঁও শহরে প্রবেশ করে বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে দেন। শুরু হয় শ্রমিক জনতার বিজয় উল্লাস।

২৫ মার্চের পর দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে মুক্তিযুদ্ধ। শুরু থেকে পঞ্চগড় জেলার তেতুলিয়াকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে মুক্তাঞ্চল। সেখান থেকে পরিচালিত হয় চুড়ান্ত লড়াই। ১৫ এপ্রিলের পর ঠাকুরগাঁও এলাকায় শুরু হয় হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, লুটপাট আর বাড়ি ঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জাটিভাঙ্গা ও রানীশংকৈল উপজেলার খুনিয়াদীঘি পাড়ে মুক্তিকামী লোকজনকে নির্বিচারে হত্যা করা হয়। ১৭ এপ্রিল জগন্নাথপুর, গড়েয়া শুখাপনপুকুরী এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েক হাজার মুক্তিকামী মানুষ ভারত অভিমুখে যাওয়ার সময় স্থানীয় রাজাকাররা তাদেরকে জড়ো করে মিছিলের কথা বলে পুরুষদের লাইন করে পাথরাজ নদীর তীরে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করে।

একইভাবে রানীশংকৈল উপজেলার খুনিয়াদিঘীর পাড়ে গণহত্যা চালানো হয়। হরিপুর ও রানীশংকৈল উপজেলার নিরিহ মানুষজনকে পাকবাহিনী ধরে এনে লাইন করে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করা হতো। মানুষের রক্তে এক সময় লাল হয়ে উঠে ওই পুকুরের পানি। পরবর্তিতে এ পুকুর খুনিয়াদিঘি নামে পরিচিত পায়।

ঠাকুরগাঁওয়ে মুক্তি বাহিনীর সাথে পাকিস্তানী বাহিনীর সম্মুখ যুদ্ধ শুরু হয় জুলাই মাসের প্রথম দিকে। প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত গেরিলারা হানাদার বাহিনীর ঘাটির উপর আক্রমণ চালিয়ে ব্যাপক ক্ষতি করে। বেশ কিছু ব্রিজ ও কালভার্ট উড়িয়ে দেয় তারা। দালাল রাজাকারদের বাড়ি ও ঘাটিতে হামলা চালায়। নভেম্বর মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে মুক্তিযোদ্ধারা ব্যাপক অভিযান চালায়।

মুক্তি বাহিনীর যৌথ অভিযানে পঞ্চগড় মুক্তিবাহিনীর দখলে আসলে পাকবাহিনীর মনোবল ভেঙ্গে যায়। এরপর ভারতীয় মিত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর যৌথ আক্রমণ শুরু হয় ঠাকুরগাঁও অঞ্চলে। মিত্রবাহিনী যাতে ঠাকুরগাঁও দখল করতে না পারে সেজন্য পাকসেনারা ৩০ নভেম্বর ভূল্ল¬¬ ব্রিজ উড়িয়ে দেয়। তারা সালন্দর এলাকায় সর্বত্র বিশেষ করে ইক্ষু খামারে মাইন পুতে রাখে। মিত্রবাহিনী ভূল্ল¬¬ী ব্রিজ সংস্কার করে ট্যাংক পারাপারের ব্যবস্থা করে।

১ ডিসেম্বর ভূল্লি ব্রিজ পার হলেও মিত্রবাহিনী যত্রতত্র মাইন থাকার কারণে ঠাকুরগাঁও শহরে ঢুকতে পারেনি। ওই সময় শত্রুদের মাইনে দুটি ট্যাংক ধ্বংস হয়ে যায়। এরপর এফ এফ বাহিনীর কমান্ডার মাহাবুব আলমের নেতৃত্বে মাইন অপসারণ করে মিত্রবাহিনী ঠাকুরগাঁওয়ের দিকে অগ্রসর হয়। ২ ডিসেম্বর সারারাত প্রচন্ড গোলাগুলির পর শত্রুবাহিনী ঠাকুরগাঁও থেকে পিছু হটে সৈয়দপুরে আশ্রয় নেয়।

৩ ডিসেম্বর ভোর রাতে শত্রুমুক্ত হয় ঠাকুরগাঁও। তখন মুক্তিযোদ্ধা ও সর্বস্তরের জনগণ মিছিল নিয়ে ঠাকুরগাঁও শহরে প্রবেশ করে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে দেয়। বিজয় ছিনিয়ে আনতে ১০ হাজার নারী পুরুষকে প্রাণ দিতে হয়। পাশবিক নির্যাতনের শিকার হন দুই হাজার মা-বোন।

সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বদরুদ্দোজ্জা বদর জানান, আজ থেকে ৫০ বছর আগে ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁও মুক্ত হয়। ৩০ নভেম্বর পাক বাহিনী ভুল্লি ব্রিজের কাছে অবস্থান নেয়, সেখানে বেশিক্ষণ টিকে থাকতে না পেরে ঠাকুরগাঁও শহরে অবস্থান নেয়। মুক্তিযোদ্ধা, মিত্র বাহিনী ও গেরিলা বাহিনী তাদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেললে তারা ২ ডিসেম্বর রাতে ঠাকুরগাঁও ছেড়ে চলে যায়।

জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোস্তাক আলম টুলু বলেন, ৩ ডিসেম্বর স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা তাদের সংগ্রামের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁওকে মুক্ত করেছিল। দেশ স্বাধীনের ১৩ দিন আগে জেলা শত্রুমুক্ত হয়। এ এলাকার মানুষের দেশপ্রেম, শত্রুকে পরাজিত করার মানসিকতা সেটা প্রশংসনীয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

cover3.jpg”><img src=”https://www.bssnews.net/wp-content/uploads/2020/01/Mujib-100-1.jpg”>

via Imgflip

 

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451