বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২১, ১১:৫৬ পূর্বাহ্ন

দিঘলিয়ায় ভৈরব সেতুর জমি অধিগ্রহণের খবরে বাড়ি-ঘর নির্মাণের হিড়িক

গাজী যুবায়ের আলম, ব্যুরো প্রধান, খুলনা ঃ
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ২৭ বার পঠিত

দিঘলিয়া উপজেলার সাথে খুলনা মহানগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজতর করার জন্য নির্মিত হচ্ছে ‘ভৈরব সেতু’। স¤প্রতি যাচাই-বাছাই শেষে ‘ওয়াহিদ কন্সট্রাকশন’ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সেতু নির্মাণের কাজ পেয়েছে। গত ১২ নভেম্বর বিষয়টি চূড়ান্ত হয়।

সেতু নির্মাণের ব্যয়ের সমপরিমাণের চেয়ে বেশি ব্যয় ধরা হয়েছে জমি অধিগ্রহণের জন্য। যার ফলে দিঘলিয়া এলাকার মানুষ জমি অধিগ্রহণের সময় তিনগুণ টাকা পাওয়ার আশায় দেদারছে নির্মাণ করছে বাড়ি-ঘর। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দিঘলিয়া উপজেলা জুড়ে নিম্নমানের বাড়িঘর নির্মাণের ধুম পড়ে গেছে। অনেকে এক তলার পর দ্রুত গতিতে তিনতলা থেকে চারতলা করছে কোন ধরনের অনুমতি ছাড়া। আবার যাদের জমি আছে কিন্তু ঘর করার টাকা নেই, একটি সিন্ডিকেট চক্র অধিগ্রহণের অর্ধেক টাকা নেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে কাঁচা-পাকা ঘর করে দিচ্ছেন।

তবে স্থানীয় প্রশাসন আইনের নিয়মে বাধা থাকায় কোন ধরনের ব্যবস্থা নিতে পারছেন না। ভৈরব সেতু হওয়ার খবরের পর নগর ঘাট পার হওয়ার পর থেকে উপজেলার সড়কের পাশে দেখা মিলছে নতুন নতুন বাড়ি ঘরের। এর মধ্যে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী এবং অনুমতি ছাড়াই এসব স্থাপনা তৈরি করা হলেও প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। জমি অধিগ্রহনের সময় তিনগুণ টাকা পাওয়ার লোভেই ধার দেনা করে মানুষ স্থাপনা করছে বলে জানা যায়।

এদিকে এলাকাবাসী জানায়, দিঘলিয়া এলাকার কৃতি সন্তান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান এবং বর্তমান সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শিদীর প্রচেষ্টায় ভৈরব সেতু নির্মাণ প্রকল্পের উদ্যোগ নেয়া হয়। দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর নগরীর দৌলতপুরের রেলিগেটে ভৈরব নদের ওপর সেতু নির্মাণের কার্যক্রম শুরু করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

জানা যায়, ভৈরব সেতুটি নগরীর মোহসিন মোড় থেকে দিঘলিয়া উপজেলা মোড়ে গিয়ে মিশবে। সেতুটির দৈর্ঘ্য ধরা হয়েছে ১ দশমিক ৩১৬ কিলোমিটার এবং সেতু নির্মাণ প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬১৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে শুধু সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০৩ কোটি টাকা। বাকি টাকা ব্যয় হবে জমি অধিগ্রহণসহ অন্যান্য কাজে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৩৭ কোটি টাকা। সেতুর সংযোগ সড়ক মহসিন মোড় থেকে দিঘলিয়া উপজেলা মোড়েই নির্ধারণ করা হয়।

এতে নদীর বাইরে অতিরিক্ত আরো ৬৯১ মিটার নির্মানের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। ওভারপাস বা সংযোগ সড়কের জন্য প্রায় ২৮ একর জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহাবুবুল আলম বলেন, আমাদের কাছে জমি অধিগ্রহণের কোন কাগজপত্র আসেনি। যার ফলে আমরা অধিগ্রহণ প্রস্তাবিত এলাকায় স্থাপনা নির্মাণে বাধা দিতে পারছি না। তবে এলাকাবাসী বাড়ি-ঘর নির্মাণ করছে এটা আমি জানি।

আইনগত ভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ এখনও হয়নি। সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আনিসুজ্জামান মাসুদ জানান, যেখানে সেতু নির্মাণ করা হবে সেই সকল প্রস্তাবিত এলাকার ভিডিও এবং ছবি আমাদের কাছে আছে। সুতরাং টাকা বেশি নেওয়ার আশায় বাড়ি-ঘর নির্মাণ করে কোন লাভ নেই।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

cover3.jpg”><img src=”https://www.bssnews.net/wp-content/uploads/2020/01/Mujib-100-1.jpg”>

via Imgflip

 

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451