বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২১, ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন

বর্তমানে ইজ্জত-সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকাটাই কঠিন: কর্নেল অলি

জি-নিউজবিডি২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৩১ বার পঠিত

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি- এলডিপির প্রেসিডেন্ট ও জাতীয় মুক্তি মঞ্চের আহ্বায়ক ড. কর্নেল অলি আহমেদ বীর বিক্রম (অব.) বলেছেন, ১৯৭১ সালে ২৫/২৬ মার্চ রাতের বেলা একজন তরুণ ক্যাপ্টেন হিসাবে বুকভরা আশা নিয়ে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, বাংলাদেশকে স্বাধীন করার জন্য সর্বপ্রথম সশস্ত্র বিদ্রোহ করি।

মনে করেছিলাম, দেশ স্বাধীন হলে, আমাদের আর কোনো দুঃখ দুর্দশা থাকবে না। কিন্তু আজ সেটা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলে নিজের ইজ্জত সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকাটাই কঠিন হয়ে পড়েছে। আমরা মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করেছি। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য খেতাব পেয়েছি। কিন্তু পদে পদে আমাদেরকে অসম্মান করা হচ্ছে। যারা মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি বা মুক্তিযুদ্ধের সময় জন্মগ্রহণ করেনি, তারা আজ মুক্তিযুদ্ধের উপর আমাদের দেওয়া তথ্য উপাত্তকে ভুল বলে প্রমাণ করতে চায়। এর চেয়ে দুঃখের বিষয় আর কিছুই হতে পারে না। এই ধরণের সোনার বাংলার জন্য জাতি মুক্তিযুদ্ধ করে নাই।

তিনি রবিবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এলডিপির উদ্যোগে আয়োজিত বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন।

কর্নেল অলি আহমেদ বলেন, দেশ দীর্ঘদিন যাবৎ একদলীয় শাসনের কবলে পড়েছে। নাই শান্তি, নাই ন্যায় বিচার, সুশাসন নির্বাসিত এবং গণতন্ত্রকে দাফন করা হয়েছে। মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করা হয়েছে। কারও জান-মালের নিশ্চয়তা নাই। দেশ এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সমগ্র দেশ ও জাতি আজ একশ্রেণীর দুর্নীতিবাজ, লুটেরা এবং লোভী রাজনীতিবিদদের হাতে জিম্মি। তাঁরা আমাদের স্বপ্নকে ধুলিষ্যাত করে দিয়েছে। দেশকে তছনছ করে দিয়েছে। ঐক্য বিনষ্ট করেছে।

সামাজিক মূল্যবোধ ও নীতি-নৈতিকতা বলতে অবশিষ্ট কিছুই নাই। দুর্নীতি ও মাদক সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করেছে। মনে রাখবেন, নীতি নৈতিকতা বিবর্জিত জাতি কখনও তাঁর কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারে না। সমাজ আজ ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে। এই অসহনীয় অবস্থা থেকে পরিত্রাণ প্রয়োজন। দেশের মানুষ অনেক রক্ত দিয়েছে, অনেক অবিচার ও অত্যাচার সহ্য করেছে। বর্তমান অবস্থা মানুষের সহ্য ও ধৈর্য্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। হে আল্লাহ্ আপনি আমাদেরকে রক্ষা করুন। আমি বিশ্বাস করি খুব দ্রুতই একদলীয় শাসনের অবসান হবে ইনশাআল্লাহ্।

আলোচনা সভায় লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি- এলডিপির প্রেসিডেন্ট ও জাতীয় মুক্তি মঞ্চের আহ্বায়ক ড. কর্নেল অলি আহমেদ বীর বিক্রম (অব.) “আমার দেশ – আমার স্বপ্ন” শিরোনামে একটি রূপরেখা পেশ করেন। যা নিম্নে তুলে ধরা হলো।
“আমার দেশ আমার স্বপ্ন”

১। জনগণের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে বর্তমানে কোনো সামঞ্জস্য না থাকায় সমাজে ভারসাম্য নাই এবং সর্বত্র সামাজিক অবক্ষয় বিদ্যমান। নিম্নমধ্যবিত্ত এবং গরীবদের মধ্যে নীরব দুর্ভিক্ষ চলছে। অন্যদিকে কিছু কিছু সুবিধাভোগী ব্যবসায়ী, সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী এবং ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা দেশের টাকা লুণ্ঠন করে বিদেশে পাচার করছে। এতে করে দেশের অর্থনীতি বিপর্যস্ত অবস্থায় আছে। শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকে রিজার্ভ বৃদ্ধি অর্থনৈতিক উন্নতির মানদন্ড নয়। সুতরাং এতে আনন্দিত হওয়ার কিছুই নাই। সমাজে অর্থনৈতিক সমতা এবং সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে, প্রয়োজনীয় সঠিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আর্থিক খাতে জরুরি ভিত্তিতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে।
২। বর্তমান সরকার যেহেতু জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত নয় বরং রাতের অন্ধকারে ভোট ডাকাতির মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করেছে, তাই সরকার পরিচালনা করার তাদের কোনো নৈতিক অধিকার নাই। সুতরাং এই অবস্থায় আমরা মধ্যবর্তী বা পুনঃনির্বাচন কোনোটাই চাই না। নির্বাচন কমিশন, নির্বাচন পদ্ধতিসহ এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত দেশে কখনও সুষ্ঠু, অবাধ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন আশা করা উচিত হবে না। প্রথমে প্রয়োজন সংস্কার এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন। অতঃপর জাতীয় সংসদসহ সকল স্তরে, নতুনভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠান। এতে জনগণের অংশগ্রহণ শতভাগ নিশ্চিত হবে। সুতরাং, এমতাবস্থায়, আমাদের প্রত্যাশা, বর্তমান সরকার পদত্যাগ করে শান্তিপূর্ণ পন্থায় তত্ত্বাধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। এতে করে দেশে শান্তি ফিরে আসবে। অন্যদিকে দক্ষ, অভিজ্ঞ, সৎ, শিক্ষিত এবং দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদদের দ্বারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

৩। মেরুদণ্ডহীন নির্বাচন কমিশনের আমূল পরিবর্তন ও সংস্কার প্রয়োজন। যাতে করে, জনগণের ভোটের অধিকার, সুশাসন এবং সর্বোপরি সকলের জন্য নির্বাচনে সমান অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। জাল ভোট প্রদান বা প্রদানকারীদের সাহায্য করার সাথে, যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকবে, তাদেরকে ন্যূনতম ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়ার জন্য আইনি ব্যবস্থা করতে হবে।

৪। বর্তমান দুর্নীতি দমন আইনে দারুণ বৈষম্য রয়েছে। এই আইন শুধু অসহায় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হচ্ছে। আমরা মনে করি, প্রধানমন্ত্রীসহ সকল নাগরিকের বিরুদ্ধে দুদক স্বাধীনভাবে প্রয়োজনে তদন্ত করতে পারবে ও মামলা করতে পারবে। এই ধরণের বিধান রেখে আইন সংশোধন করতে হবে। দেশের সকল নাগরিকের জন্য আইন সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে। (শুধুমাত্র রাষ্ট্রপতি ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকা অবস্থায় এই আইন তাঁর জন্য প্রযোজ্য হবে না)।

৫। নতুন সংবিধান রচনা করা এবং আইনের সংস্কার নিশ্চিত করা। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করা।
৬। দুর্নীতিবাজ, অস্ত্রবাজ, সন্ত্রাসী এবং মাদকের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের সুষ্ঠু বিচারের জন্য বিভিন্ন জেলায় একাধিক বিশেষ আদালত ও দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
৭। প্রত্যেক মন্ত্রণালয়ের জন্য বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করতে হবে। প্রয়োজনবোধে ঐ বিশেষজ্ঞরা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ের পলিসি নির্ধারণ করবেন।
৮। প্রত্যেক রাজনৈতিক দলকে সাংবিধানিক পন্থায়, বিনা বাধায় নিজ নিজ দলের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার সুযোগ করে দিতে হবে। শান্তিপূর্ণ মিছিল ও জনসভা করার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
৯। বাংলাদেশ প্রায় ষোলো কোটি মানুষের বসবাসস্থল। আকারে ছোট হলেও জনসংখ্যার দিক থেকে আমরা একটি বড় দেশের বাসিন্দা। এ ছাড়াও আধুনিক বিশ্বে এককেন্দ্রিক শাসন ব্যবস্থা অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। শুধুমাত্র ছোট ছোট দেশগুলোতে এককেন্দ্রিক সরকার বিদ্যমান আছে। বর্তমানে পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে প্রাদেশিক সরকার ব্যবস্থা চালু আছে। উদাহরণস্বরূপ সার্ক অন্তর্ভুক্ত দেশসমূহেও বহুদিন যাবত এই ব্যবস্থা চালু আছে। এমনকি ছোট দেশ নেপালেও প্রাদেশিক সরকার ব্যবস্থা আছে। সুতরাং সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশকে ১২টি প্রদেশে বিভক্ত করা আমরা যুক্তিযুক্ত মনে করি। এতে করে প্রত্যেক অঞ্চলের জন্য সমান সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সম্পদের সুষম বন্টন নিশ্চিত করা সহজ হবে। সর্বোপরি দেশবাসীকে ঢাকা শহরের উপর নির্ভরশীল হতে হবে না।
১০। অগ্রাধিকার খাত হবে :-
(১) গ্রাম্য সড়ক, সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ করা।
(২) আঞ্চলিক ও জাতীয় মহাসড়ক নির্মাণ। রেলওয়েসহ সকল ধরনের যাতায়াতের উন্নতি সাধন করা।
(৩) পল্লী বিদ্যুৎ।
(৪) সেচ ব্যবস্থা।
(৫) খাদ্যে এবং কৃষিজাত পণ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে হবে।
(৬) বস্ত্র এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদিতে স্বয়ং সম্পূর্ণতা অর্জন নিশ্চিত করতে হবে।
(৭) সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে জেলা, উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে পরিকল্পিতভাবে ও স্বল্পমূল্যে গৃহ নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এতে করে গ্রামের মধ্যবিত্ত শ্রেণী এবং গরীব মানুষেরা উপকৃত হবে।
(৮) নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহার করে গ্যাস এবং তেলক্ষেত্র অনুসন্ধান করা ও খননের ব্যবস্থা করতে হবে।
(৯) শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কার প্রয়োজন। বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এবং বৈদেশিক নিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। কর্মমূখী ও গণমূখী শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারিত করা প্রয়োজন। জরুরী ভিত্তিতে নীতি নৈতিকতা ফিরিয়ে আনার জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে, তাই অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত বাধ্যতামূলক ধর্মীয় শিক্ষা প্রবর্তন করা প্রয়োজন। এছাড়াও সমগ্র দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহে একই ধরণের সিলেবাস নিশ্চিত করতে হবে।
(১০) দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা। নতুন নতুন চাকরীর ক্ষেত্র চিহ্নিতকরণ এবং নিশ্চিতকরণ। এতে করে দারিদ্র বিমোচন সহজ হবে। অন্যদিকে গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখার উপর জোর দিতে হবে।
(১১) বিভিন্ন প্রদেশে ও জেলায় শিল্প অঞ্চল এবং ক্ষেত্র বিশেষে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা। এতে করে ব্যবসা বাণিজ্যের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে এবং নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
(১২) স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য প্রতি জেলায় পর্যায়ক্রমে আন্তর্জাতিকমানের বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ করতে হবে এবং জনসংখ্যার ভিত্তিতে ডাক্তার ও নার্সদের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে। এছাড়াও স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নত করতে হবে।
(১৩) ভেজাল খাদ্য এবং ভেজাল দ্রব্যসামগ্রী নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। কারণ ভেজাল খাদ্য এবং ভেজাল দ্রব্যসামগ্রী মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। এ ধরনের দেশদ্রোহীদের জন্য নতুন আইন করে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।
(১৪) আইন শৃঙ্খলার প্রভূত উন্নয়ন সাধন করে, দুর্নীতি সমূলে উৎপাটন। দুর্নীতিবাজমুক্ত, অস্ত্রবাজমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত এবং মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এদেরকে চিরতরের জন্য ক্রাশ করে দিতে হবে।
(১৫) সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, বিজিবি এবং আনসারকে যুগ উপযোগী করে সুসজ্জিত এবং শক্তিশালী করতে হবে।
(১৬) প্রত্যেক সরকারি/আধাসরকারি সংস্থা সমূহে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে।
(১৭) স্থায়ী পে-কমিশন গঠন করতে হবে।
(১৮) ২০০১ সালের পর থেকে অদ্যবধি প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধ চরিতার্থ করার জন্য যে সমস্ত মিথ্যা রাজনৈতিক মামলা করা হয়েছে, তা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রত্যাহার করতে হবে। তবে শর্ত থাকে যে, বিনা তদন্তে কোন ধরণের দুর্নীতির মামলা প্রত্যাহার করা যাবে না। পুনরায় সুষ্ঠ তদন্তের সুযোগ দেওয়া হবে। বেগম খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়েছেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়া বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। বেগম খালেদা জিয়ার বয়স, শারীরিক অবস্থা এবং সর্বোপরি জাতির প্রতি তাঁর অবদান বিবেচনায় নিয়ে পুনরায় সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে নির্দোষ প্রমাণিত হলে, তাঁর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধমূলক মিথ্যা মামলা জরুরী ভিত্তিতে প্রত্যাহার করা হবে। ফলে দেশে সুদৃঢ় জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা সহজ হবে। দেশকে সুশৃঙ্খল জাতি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে সাহায্য করবে।
(১৯) বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে গণতন্ত্রকে বাস্তবে রূপ দিতে হবে, সুপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে। মনে রাখতে হবে গণতন্ত্র যেন কারো পারিবারিক সম্পত্তিতে পরিণত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
(২০) নতুন কমিটি গঠন করে বর্তমান সংবিধান এবং আইনগুলো সংষ্কারের মাধ্যমে যুগোপযোগী করতে হবে।
(২১) দেশকে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য বিশেষ করে, মুক্তিযোদ্ধাদের দায়িত্ব রয়েছে, শিক্ষিত ও দেশপ্রেমিক ব্যক্তিদের দায়িত্ব রয়েছে। এছাড়াও প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ জায়গায় সঠিকভাবে দায়িত্বের সাথে কর্ম সম্পাদন করতে হবে। এই লক্ষ্য অর্জণের জন্য আমাদের সকলকে মিথ্যাচার, বেঈমানী, মোনাফেকি এবং অপরের ক্ষতিসাধন করা থেকে বিরত থাকতে হবে। এতে করে দেশ দ্রুত উন্নতির শিখড়ে পৌঁছবে। মুক্তিযুদ্ধের সফলতা আসবে। বিশ্বে আমরা একটি গর্বিত জাতি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হব, ইনশ্আল্লাহ্।

(২২) সকলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং সম্পদের সুষম বণ্টন সহজ করার জন্য সমগ্র দেশকে ১২টি প্রদেশে বিভক্ত করা আমরা যুক্তিযুক্ত মনে করি। এ ছাড়াও দেশবাসীকে ঢাকা শহরের উপর আর নির্ভরশীল হতে হবে না।

মনে রাখবেন, সমাজকে সঠিক পথে পরিচালনা করার দায়িত্ব আমাদের সকলের। সমাজের প্রতি আমাদের সকলের দায়বদ্ধতা রয়েছে। প্রতিহিংসা, লোভ এবং অহংকার মানুষকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেয়। এছাড়াও ভুললে চলবে না যে, সকল কর্মকাণ্ডের জন্য আমাদেরকে, মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নিকট জবাবদিহি করতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

cover3.jpg”><img src=”https://www.bssnews.net/wp-content/uploads/2020/01/Mujib-100-1.jpg”>

via Imgflip

 

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451