বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২১, ০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন

পোরশায় সাত বছর থেকে হুইল চেয়ারে মাসুদ রানা

ডিএম রাশেদ, পোরশা প্রতিনিধি (নওগাঁ) :
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৩ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৪০ বার পঠিত

নাম মাসুদ রানা। বাড়ি পোরশা উপজেলার নিতপুর ইউনিয়নের চকবিষ্ণপুর বেলপুকুর গ্রাম। বাবার নাম আব্দুর রহিম। তখন তার বয়স ১৫ বছর। ক্লাস নাইন-এ পড়–য়া একজন স্কুল শিক্ষার্থী। হঠাৎ মাসুদ রানার বাবা আব্দুর রহিম সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি বাবা আব্দুর রহিম পা ভেঙ্গে পঙ্গু হয়ে বিছানায় পড়ে যান। বাবা আব্দুর রহিমের চিকিৎসা খরচ, সংসার চালানো অর্থ সম্বলহীন পরিবারে তখন যেন ‘মরার উপর খাঁড়ার ঘা’। বাধ্য হয়ে লেখা পড়া বাদ দিয়ে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সংসারের প্রয়োজনে হাল ধরতে হয় বাবার হাড়িপাতিল এর ব্যবসার।

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ফেরিওয়ালা হিসেবে ব্যবসার কাজে ছুটে বেড়িয়েছেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অঞ্চলে। সারা দিনে যা আয় করেছেন তা দিয়ে নিজের খরচ ও সংসারের খরচ মিটিয়ে বাবা আব্দুর রহিমের চিকিৎসার খরচ বহন করেছেন মাসুদ রানা। এভাবে চলতে থাকে ৫টি বছর। বাবা সুস্থ হয়ে উঠলেন। বাবাকে যেন কষ্ট করে আর এই হাড়িপাতিলের ব্যবসা করতে না হয় সে জন্য স্থানীয় চকবিষ্ণপুর বাজারে ছোট্ট একটি ফলের দোকান দিয়ে আয় করার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন ছেলে মাসুদ রানা।

কিন্ত ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস বাবা সুস্থ হওয়ার কিছুদিন পরই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন ছেলে মাসুদ রানা। ভুগতে থাকেন নাম না জানা এক অজানা রোগে। বন্ধ হয়ে যায় তার হাড়ি পাতিলের ব্যবসা। একেবারে বন্ধ হয়ে যায় তার আয় রোজগার। এদিকে অসুস্থ ছেলে মাসুদ রানাকে নিয়ে চরম বিপাকে পড়ে তার পরিবার। দিনের পর দিন ছেলের চিকিৎসা খরচ যোগাতে গিয়ে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়ে যায় আব্দুর রহিমের একমাত্র আয়ের উৎস ফলের দোকানটিও।

ছেলেকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য ছুটতে থাকেন দেশের নামি দামি হাসপাতাল গুলোতে। কয়েকবার উন্নত চিকিৎসালয়ে চিকিৎসা করেও কোন রোগ ধরা পড়েনি। ধীরে ধীরে একজন তরতাজা তরুণ যুবক বলহীন হতে থাকে। ছেলে মাসুদ রানার আসলে কি রোগ হয়েছে? কেন সে প্রতিবন্ধীর মতো হয়ে পড়ছে? এসব প্রশ্ন মাথায় নিয়ে একটানা ৭বছর বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের স্মরণাপন্ন হন মাসুদ রানার পরিবার। কিন্ত কোন রোগ ধরা পড়েনি, কোন প্রতিকারও পাওয়া যায়নি। মাসুদের চলাফেরার একমাত্র ভরসা এখন সেই ছোট্ট একটি হুইল চেয়ার। সেটিও সে একা ঠেলার শক্তি হারিয়ে ফেলেছে। কোন রকমে ডান পায়ে সে কিছু শক্তি পেলেও বাম পা পুরোপুরি অকেজো হয়ে গেছে তার।

তবে দেশের বাইরে নিয়ে গিয়ে উন্নত চিকিৎসা সেবা নিলে হয়তো সুস্থ হয়ে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে মাসুদ রানা বলে মনে করছে তার পরিবার। কিন্তু আব্দুর রহিমের অভাবে টানাপোড়নের সংসারে ছেলেকে দেশের বাইরে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা সেবা দেওয়া তার জন্য একেবারেই অসম্ভব বলে জানান বাবা আব্দুর রহিম।

বাবা আব্দুর রহিম জানান, আর কত দিন এভাবে জীবনের সাথে লড়াই করে তাকে (মাসুদ রানা) বেঁচে থাকতে হবে। একজন অসুস্থ, বিকলাঙ্গ, বিছানারত যুবক ছেলেকে লালনপালন করা যে কতটা কষ্টের তা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না। আজ প্রায় ৭বছর যাবৎ বিচানা আর হুইল চেয়ারে পড়ে আছে মাসুদ রানা। চিকিৎসার খরচ বহন করতে করতে এখন আমি নি:স্ব। কিন্তু দুঃখের বিষয় একটি হুইল চেয়ার ছাড়া জোটেনি সরকারি কোন সাহায্য সহযোগীতা। মাসুদ রানার বিদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারি, বেসরকারি ও সমাজের বিত্তবানদের প্রতি সহযোগিতা চেয়েছেন বাবা আব্দুর রহিম।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

cover3.jpg”><img src=”https://www.bssnews.net/wp-content/uploads/2020/01/Mujib-100-1.jpg”>

via Imgflip

 

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451