বৃহস্পতিবার, ০৪ মার্চ ২০২১, ০৮:৫৬ অপরাহ্ন

মেঘনায় শিশু রিফান হত্যা ৭৭ সেকেন্ডের কলের সূত্র ধরে হত্যাকারী গ্রেফতার

মোর্শেদুল ইসলাম শাজু, হোমনা প্রতিনিধি (কুমিল্লা) :
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৬৪ বার পঠিত

মাত্র ৭৭ সেকেন্ডের ফোন কলের সূত্র ধরে কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার ৫ বছরের শিশু রিফানুল ইসলাম রিফান হত্যার রহস্য উদঘাটন এবং হত্যাকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। লাশ উদ্ধারের তিন দিনের মাথায় হত্যাকারী শাকিলকে (২২) গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসে হত্যার রহস্য। সে পুলিশের কাছে হত্যা ও নদীতে লাশ ফেলে দেওয়ার ঘটনার বর্ণনা দেন। মূলত কাজের সময় দুষ্টুমি করায় রাগের মাথায় ইট ছুড়ে মারলে তার মৃত্যুর হয় বলে জানায়।

গত ২২ জানুয়ারি সকালে উপজেলার বৈদ্যনাথপুর ব্রিজের নিচে থেকে শিশু রিফানুল ইসলাম রিফানের (৫) অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের চাচা মিলন মিয়া বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেন। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে হোমনা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. ফজলুল করিমের নেতৃত্বে মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া থানাধীন রসুলপুর নদীর ঘাট থেকে গতকাল মঙ্গলবার ভোরে হত্যাকারী মো. শাকিলকে (২২) গ্রেফতার করে পুলিশ। সে একই গ্রামের কবির হোসেনের ছেলে। তাকে কোর্টের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশের কাছে দেওয়া বক্তব্যে আসামী শাকিলের মতে, সে খুন করেনি বরং এটি একটি দুর্ঘটনা মাত্র। আরও জানায়, সেদিন তার বৈদ্যানতথপুর গ্রামের বাড়ির কাছে গ্যারেজের সামনে একটি ইটের ওপর বসে মাছ ধরার বরশি তৈরি করছিল সে। সকাল ১১টা থেকে ১১টার দিকে রিফান ও মেহেদি দুই ভাই তার সামনে কাছে আসে। তারা একসঙ্গে গ্রামের দোকান থেকে খাবার এনে খেয়েছে। রিফান ও মেহেদি খুব দুষ্টুমি করছিল। দুষ্টুমি না করে তাদের চলে যেতে বললে মেহেদি চলে যায়। কিন্তু রিফান না গিয়ে দুষ্টুমি করেই যাচ্ছিল।

তখন বিরক্ত হয়ে সে (শাকিল) তার বসার ইটটি হাতে নিয়ে ছুড়ে মারে। ছোড়ে মারা ইটটি তার মুখে পড়লে রিফান মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পওে তার কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে তাকে গ্যারেজের ভেতরে ঢুকিয়ে বাড়ি থেকে পানি এনে মুখে ছিটিয়ে নড়াচড়া পরীক্ষা করে। কিন্তু কোনো নড়াচড়া বা শ^াস-প্রশ^াস পাওয়া যায়নি। ভেবে পাচ্ছিল না কি করবে তখন।

প্রায় আধঘন্টা অপেক্ষার পর রিফানের নিথর ছোট দেহটি প্রথমে একটি প্লাস্টিকের বস্তা পরে চটের বস্তায় ঢুকিয়ে গ্যারেজের পেছনে লাকড়ির নিচে লুকিয়ে রাখে। ৮/৯ দিন পর বস্তার ভেতর থেকে কিছুটা গন্ধ বের হলে একটি কার ভাড়া করে শাকিল। বুধবার রাত দুই টায় ভাড়া করা ওই কারের মাধ্যমে উপজেলার ওমরাকান্দা ব্রিজের ওপর থেকে ফেলে দিয়ে চট্টগ্রামে চলে যায়। রিফান তার চাচাতো ভাই বলেও জানায়। সে বলে, তাকে সে মারতে চায়নি। ঘটনার পর থেকে ঘুমাতে পারছিলনা, খেতে পারছিল না, কি করা উচিত তাও বুঝতে পারছিল না শাকিল!

উল্লেখ্য, মেঘনা উপজেলার বৈদ্যনাথপুর গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী শরীফ হোসেনের ছেলে রিফানুল ইসলাম ওরফে রিফান। খেলতে গিয়ে ১২ জানুয়ারি সকালে নিখোঁজ হয় সে। বিভিন্ন জায়গায় ছেলেকে খোঁজে না পেয়ে ওই দিনই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন মা রজনী বেগম। পরে ২২ জানুয়ারি এই উপজেলার বৈদ্যনাথাপুর ব্রিজের নিচ থেকে শিশুটির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত শুরু করে। মাত্র তিন দিনের মাথায় ২৬ জানুয়ারি ভোরে তথ্যপ্রযু্িক্ত ব্যবহার করে মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া থানাধীন রসুলপুর নদীর ঘাট থেকে গভীর রাতে শাকিলকে গ্রেফতার করা হয়। নিকট আত্মীয়ের সঙ্গে “রিফান না-কি হারিয়ে গেছে…” এ নিয়ে কয়েকটি শব্দের কথপোকথন; মাত্র সাতাত্তুর সেকেন্ডের এমন ফোন কলের সূত্র ধরেই হত্যাকারী শাকিলকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

এ ব্যাপারে হোমনা- মেঘনা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. ফজলুল করিম বলেন, শিশু রিফানের লাশ উদ্ধারের পর থেকেই আমাদের ঘুম নেই। রাত দিন বিভিন্নভাবে তদন্তসাপেক্ষে মাত্র তিন দিনের মাথায় মূল হত্যাকারীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। হত্যাকারী শাকিল পুলিশের কাছে হত্যা ও ব্রিজের নিচে লাশ ফেলে পালিয়ে যাওয়ার বর্ণনা দিয়েছে। তাকে কোর্টের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

cover3.jpg”><img src=”https://www.bssnews.net/wp-content/uploads/2020/01/Mujib-100-1.jpg”>

via Imgflip

 

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451